বছর শেষেই বিপদে বিশ্ব!
লোপামুদ্রা ভৌমিক: ভয়াবহ আশঙ্কার কথা শোনাচ্ছেন আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা। জানাচ্ছেন, আর মাত্র কয়েক মাসের অপেক্ষা। তারপরই আমূল বদলে যাবে পৃথিবীর আবহাওয়া। প্রকৃতির এক প্রলয়ঙ্করী রূপ দেখবে বিশ্ব। বিজ্ঞানীদের পূর্বাভাস আগামী নভেম্বর এবং ডিসেম্বরে এল নিনো তার শক্তির শীর্ষস্থানে পৌঁছবে। প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে তৈরি হওয়া এল নিনোর কারণে জলবায়ুর রুদ্ররূপ দেখবে মানুষ।
ঝড়ের গতিতে বাড়বে তাপমাত্রা। আবার কোনও অঞ্চল ভেসে যাবে তুমুল বৃষ্টিতে। আসলে সমুদ্রের অতলে জমে রয়েছে গ্যালন গ্যালন গরম জল। আগামী কয়েক মাসে সেই তাপ সাগরের ওপরে উঠে এলে এল নিনোর শক্তি বেড়ে যাবে কয়েক গুণ। বিজ্ঞানীদের এই ধারণাকে আরও জোরদার করে তুলেছে বিষুবীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা। যা ইতিমধ্যেউ সুপার নিনোর ধাপে পা রেখে দিয়েছে। এখন বিজ্ঞানীদের নজর সমুদ্রের নীচের তাপমাত্রার দিকে।
কারণ, সমুদ্র কয়েক শো বছর ধরে যে বিপুল পরিমাণ তাপ তার গহ্বরে জমিয়ে রেখেছে তা যদি ওপরে উঠে আসে তখনই ঘটে যাবে চরম বিপর্যয়। সেই তাপ ধ্বংসের পথে বেশ কয়েক ধাপ এগিয়ে দেবে এল নিনোকে। এর আগে ১৯৮২–৮৩, ১৯৯৭–৯৮ এবং ২০১৫–১৬ সালেও শক্তিশালী এল নিনো দেখেছে পৃথিবীর মানুষ। যার ফলে বদলে গিয়েছিল বেশ কিছু অঞ্চলের আবহাওয়ার হালহকিকত। তবে এবারের ব্যাপারটা আগের থেকে অনেক বেশি চিন্তার।
কারণ এবার এল নিনোর দস্যিপনাকে উসকে দিতে কোমর বেঁধে ওপরে উঠে আসার পরিকল্পনা প্রায় ছকে ফেলেছে এতদিন সাগরের অতলে ঘুমিয়ে থাকা বিপুল উষ্ণ জলের স্রোত। প্রখ্যাত জলবায়ু বিশেষজ্ঞ কলিন ম্যাকার্থি জানিয়েছেন, এবারের এল নিনোকে ভয়াবহ করে তুলতে বেশ কয়েকটি কারণ কাজ করছে। যার মধ্যে উষ্ণ জলের ওপরে উঠে আসা যেমন রয়েছে, ঠিক তেমনই আছে সমুদ্রের উষ্ণতা বাড়ার গতি। যার নেপথ্যে রয়েছে বিশ্ব উষ্ণায়ন।
এল নিনোর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে বৃষ্টিপাতের ওপর। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বা কম বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও অস্বাভাবিক রকম বৃষ্টির ঘাটতি দেখা দিতে পারে। আবার কোথাও খুব কম সময়ে মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতিও তৈরি হয়ে পারে।
মৌসুমি বায়ুর ওপরও এল নিনোর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে আগামী কয়েকটি ঋতুতে বিশ্বের বিশেষ কয়েকটি অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক ধরণ–ধারণ আমূল বদলে যেতে পারে। এর ফলে সবচেয়ে গুরুতর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলি। অন্তত তেমনটাই আশঙ্কা আবহাওয়াবিদদের।
কারণ, এখানকার কৃষি ও জলসম্পদের ওপর বর্ষার একটা বড় ভূমিকা রয়েছে। এল নিনোর আঞ্চলিক প্রভাব নির্ভর করবে স্থানীয় আবহাওয়া ও জলবায়ুর বিভিন্ন পরিস্থিতির ওপর। সমুদ্রের নিচে জমে থাকা বিপুল তাপ যদি ওপরের দিকে উঠে আসে এবং পূর্বাভাস অনুযায়ী এল নিনো শক্তিশালী হয়, তাহলে ২০২৬ সালের শেষ দিক থেকে ২০২৭ সালের শুরু পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে।
