ধর্মের আড়ালে কদর্য আচরণ, শ্লীলতাহানির অভিযোগের জেরে শিষ্য খুনে চাঞ্চল্য
সংবাদদাতা, হুগলি: আধ্যাত্মিকতার আড়ালে গৃহবধূর শ্লীলতাহানির অভিযোগ । গোপালকৃষ্ণ গোস্বামী নামে স্বঘোষিত এক গুরু সোমবার কোন্নগরের কানাইপুরে এসেছিলেন। উত্তর ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারে তাঁর বাড়ি। গোপালকৃষ্ণের বেশ কয়েক জন শিষ্য-শিষ্যা থাকেন কানাইপুর এলাকায়। সোমবার রাতে তেমনই এক শিষ্যার বাড়িতে গিয়েছিলেন গুরুদেব। অন্য শিষ্যরাও ছিলেন। আর সেখানেই এক শিষ্যের স্ত্রীর সঙ্গে গুরুদেব খারাপ ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ। মহিলা জানিয়েছেন, গুরুদেব তাঁর শরীরে খারাপ ভাবে স্পর্শ করেছেন। এরপরই বচসা শুরু হয়। গুরুর পক্ষ নেয় এক দল। অন্যরা মহিলার পক্ষে। কিছুক্ষণের মধ্যে শুরু হয় হাতাহাতি। অভিযোগকারিণীর দাবি, এর আগেও গুরুদেব এমন আচরণ করেছেন। অন্য মহিলাদের কাছেও একই অভিযোগ শুনেছেন তিনি। অভিযোগ, বচসার সময় উৎপল সমাদ্দার নামে গোপালকৃষ্ণের এক শিষ্যের মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করেন আরেক শিষ্য গণেশ হালদার। গুরুতর জখম অবস্থায় বছর পঁয়তাল্লিশের ওই ব্যক্তিকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। রক্তারক্তির খবর পেয়ে কানাইপুর ফাঁড়ির পুলিশ এবং উত্তরপাড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। আটক করা হয় যৌন হেনস্থায় অভিযুক্ত স্বঘোষিত গুরুকেও। ইতিমধ্যে খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত গুরুদেবের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ধৃত গণেশের দুই আত্মীয়কেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধর্মের আড়ালে এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
