সাফল্যের শীর্ষে একটানা ৬ দশক, কী আছে অমিতাভ বচ্চনের জন্মছকে?
জ্যোতিষাচার্য উৎপলকুমার দাস
যদি কাউকে প্রশ্ন করা হয়, ভারতবর্ষের চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্রটি কে? আশাকরি সবাই একবাক্যে বলবেন অমিতাভ বচ্চন। শুধু ভারতেই বা বলি কেন? বিশ্ব চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম খ্যাতিমান ব্যক্তি তিনি। আজ ৮৪ বছরে পা দিলেন বিগ বি। তবু এখনও, এই বয়সেও স্বমহিমায় তিনি উদ্ভাসিত। বয়স যেন তাঁর কাছে কেবলই একটি সংখ্যা মাত্র! কী এমন আছে তাঁর জন্ম রাশিচক্রে, যে তিনি এত দীর্ঘ সময় ধরে চলচ্চিত্রের আঙিনায় শাহেনশাহ হয়ে রয়েছেন?
জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, দীর্ঘদিন সাফল্যের সঙ্গে কাজ করে যাওয়ার অধিপতি গ্রহ হলেন শনি। জন্মছক বিচার করলে দেখা যাবে, অমিতাভ বচ্চনের কুম্ভ লগ্ন, তুলা রাশি, স্বাতী নক্ষত্র এবং দেবগণ। অধিপতি গ্রহ হলেন শনি। এই গ্রহ ওঁর লগ্ন থেকে চতুর্থভাবে এবং ওই স্থান থেকে দশম স্থানে অর্থাৎ কর্মস্থানে দৃষ্টি দিয়ে রয়েছেন। তার মানে হল এই মানুষটি দীর্ঘদিন কর্মক্ষম থাকবেন এবং তা করবেন যথেষ্ট সফলতার সঙ্গে। শনি এখানে ৪ নম্বর নক্ষত্রে অর্থাৎ রোহিনী বা চন্দ্রের নক্ষত্রে আছে। চন্দ্র মানে জনগণ। এদিকে জনগণের সঙ্গে কাজ এবং তাদের ভালোলাগা বা ভালোবাসার ঘরটি শুক্রের (বৃষ)। শুক্র মানে বিনোদন। আবার শুক্র হল শিল্প। অর্থাৎ শিল্পের মাধ্যমে জনগণের বিনোদন। এই তিনটি যোগ একসঙ্গে খুব কম মানুষের মধ্যেই থাকে। সারা জীবন এই একই কাজে তিনি স্বমহিমায় থাকবেন। সেদিক থেকে বলতে গেলে আমৃত্যু তাঁর জনপ্রিয়তা বজায় থাকবে।
এবার দেখা যাক চলচ্চিত্রের বাণিজ্যিক দিক। সপ্তম স্থান থেকে বাণিজ্য বিচার করা হয়। দেখা যায় জাতক বেশিরভাগ বাণিজ্যিক ছবিতেই বিপুল সাফল্য পেয়েছেন। জাতকের জন্মছকের সপ্তম স্থানে রাহু বসে আছেন সিংহ রাশিতে এবং মঘা নক্ষত্রে। বৈদিক জ্যোতিষে সাতাশটি নক্ষত্র ধরা হয়। তারমধ্যে উজ্জ্বলতম নক্ষত্র হল মঘা। এরকম ক্ষেত্রে রাহু উল্কার গতিতে তার বাণিজ্যিক সাফল্য নিয়ে এসেছে।
তবে তা এসেছে বহু পরিশ্রমের পর। এর নেপথ্যে রয়েছে শনির মহাদশা। শনির অন্তর্দশার শেষভাগে অর্থাৎ ১৯৭৩ থেকে অমিতাভ সাফল্য পেতে শুরু করেন। এবং পুরো শনির দশা অর্থাৎ ১৯৯০ সাল পর্যন্ত জাতকের পরিশ্রমের ফলে সাফল্যের তুঙ্গস্থ অবস্থা দেখা গেছে। যা তাঁর জীবনে চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে। শনির প্রভাবে সমস্ত ব্যাপারেই ওঁর মধ্যে একটা উদ্বেগ কাজ করে। যদিও তা একেবারেই অমূলক। শনির মতো পরিশ্রমের মাধ্যমে সাফল্য আর কোনও গ্রহ দিতে পারে না।
অন্যদিকে ১৯৯০ সালের প্রথম দিকে জাতকের বুধের দশা শুরু হয়। বুধ জাতকের পঞ্চম স্থানে রয়েছেন। তিনি অষ্টম স্থানের (মারক স্থান) অধিপতি। জাতকের এই স্থানটি বক্রি এবং মঙ্গলের সঙ্গে জুড়ে রয়েছে। যা দুঃসময় বয়ে আনে। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, এই সমযটাতেই তিনি এবিসিএল কোম্পানি চালু করেন। সেখান থেকে প্রায় ৯০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়। সঙ্গে তৈরি হয় প্রবল মানসিক ও শারীরিক চাপ। তাহলে দেখা যাচ্ছে অষ্টমপতি বুধ কিন্তু এত বড়মাপের নায়ককেও ছাড়ে দেননি। জীবনের সমস্ত অর্জিত অর্থ তিনি এই কোম্পানিতে লগ্নি করেছিলেন। যা একটা সময় মুখ থুবড়ে পড়ে। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। আবার শনির আশীর্বাদে, অক্লান্ত পরিশ্রম করে ২০০০ সালে কৌন বনেগা ক্রোড়পতি দিয়ে শুরু করলেন নতুনভাবে পথচলা। এই সময়টায় ছিল বুধের মহাদশা এবং রাহুর অন্তর্দশা। যদিও সেটা বুধের মহাদশার প্রায় শেষ দিক। রাহু আবার জাতককে বাণিজ্যিক সাফল্য এনে দিতে শুরু করে। সাত বছরের মধ্যে সমস্ত ক্ষতিকে দূরে সরিয়ে ঘুরে দাঁড়ালেন আমাদের সবার প্রিয় অমিতাভ বচ্চন। এখনও তার সাফল্যের টাকা গড়াচ্ছে। তাঁর রাজযোগকারী গ্রহ শুক্রের প্রভাবে আজও তাঁর সাফল্যের ধারা অব্যহত।
