মানবতাবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই, শান্তিতে নোবেল পেলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নবি পিল্লাই
স্টকহোম: বিশ্বজুড়ে যখন একের পর এক যুদ্ধ আর অশান্তি, ঠিক তখনই আইন ও মানবাধিকারের পথে শান্তির লড়াইকে সম্মান জানাল নোবেল কমিটি। ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিচারপতি নাভানেথেম ‘নবি’ পিল্লাই। শুক্রবার নরওয়ের নোবেল কমিটি এই ঘোষণা করেছে। বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই থেকে আন্তর্জাতিক আদালত এবং রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার দফতর, দীর্ঘ কর্মজীবনে একাধিক ক্ষেত্রে ছাপ রেখেছেন তিনি। চলতি সপ্তাহে সাহিত্য, রসায়ন, পদার্থবিদ্যা ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল ঘোষণার পর এল নোবেল কমিটির শান্তি পুরস্কারের নাম। ২০২৫ সালে এই পুরস্কার পেয়েছিলেন ভেনেজুয়েলার মারিয়া কোরিনা মাচাদো।
পিল্লাইয়ের জন্ম দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে, পরিবার ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত। বর্ণবিদ্বেষবিরোধী আন্দোলনকারীদের আইনি সহায়তা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠা করেন নিজের আইন সংস্থা। পরে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে ১৯৮৮ সালে জুরিডিক্যাল সায়েন্সে ডক্টরেট ডিগ্রি পান। ১৯৯৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টের বিচারপতি হন। ১৯৯৯ সালে রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি ও সভাপতি নিযুক্ত হন পিল্লাই। গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যৌন হিংসা, ধর্ষণ এবং প্রচারের মাধ্যমে হিংসায় উস্কানিকে বিচারের আওতায় আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর। পরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতেও বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ছিলেন পিল্লাই। ২০২১ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত অধিকৃত প্যালেস্টাইন ভূখণ্ড নিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের সভাপতিত্ব করেছেন। ২০১৯ সালে মায়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের মামলায় তাঁকে অ্যাড হক বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল। পুরস্কার ঘোষণার পর পিল্লাইয়ের দীর্ঘদিনের কাজের প্রশংসা করেছে রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার দফতরও। জেনেভায় সাংবাদিকদের মুখপাত্র শাবিয়া মান্টু বলেন, মানবাধিকার রক্ষায় আরও নিষ্ঠা ও দায়বদ্ধতা প্রয়োজন।

এ বছর নোবেল শান্তি পুরস্কারের অর্থমূল্য ১ কোটি ২০ লক্ষ সুইডিশ ক্রোনা। আগামী ১০ ডিসেম্বর নরওয়ের অসলোয় পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে। দক্ষিণ আফ্রিকায় আইনজীবী ও শান্তির জন্য পুরস্কার। এরপর ভারতীয় হিসেবে যদি কারও কথা মনে পড়ে, তিনি আর কেউ নন। মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী। স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে থেকেও বিশ্বজুড়ে তাঁর শান্তির বাণী নতুন করে আজও ভাবতে শেখায় মানুষকে। গান্ধী ডেভেলপমেন্ট ট্রাস্ট প্রতি বছর দক্ষিণ আফ্রিকা ও তার বাইরে শান্তি ও সমঝোতার জন্য জীবন উৎসর্গ করা ব্যক্তিদের হাতে তুলে দেয় মহাত্মা গান্ধী শান্তি ও সমঝোতা পুরস্কার।২০১৫ সালে পিল্লাইও এই পুরস্কার পেয়েছিলেন। এবার তাঁকে সম্মান জানল নোবেল কমিটি।
