বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
টাইগার শ্রফের উপর হামলায় ধৃত আরও ৪ আজ বিজয়া দশমী, ঘাটে ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন ভারতের সঙ্গে চুক্তি অন্যরকম, জানালেন ট্রাম্প দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

ব্রাজিলের পর উরুগুয়ের কাছে এবার ৬ গোল খেল খালিদ-ব্রিগেড, আবার দলকে ডোবালেন গুরপ্রীত

06 October, 2026 11:43 PM Sandipan Saha
শেয়ার করুন

সংবাদদাতা, কলকাতা: বিশ্ব ফুটবলের দুই পরাশক্তি— ব্রাজিল ও উরুগুয়ে। চার দিনের ব্যবধানে এই দুই দলের মুখোমুখি দাঁড়ানো যে কোনও আন্তর্জাতিক দলের জন্যই এক চরম অগ্নিপরীক্ষা। ভারতীয় ফুটবল দল সেই কঠিন বাস্তবের মুখোমুখি হয়ে বুঝতে পারল বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায় ও নিজেদের অবস্থানের ব্যবধান কতটা বিশাল। ব্রাজিলের বিরুদ্ধে চার গোল হজম করার বিষাদ কাটতে না কাটতেই উরুগুয়ের কাছে ১-৬ ব্যবধানে বিধ্বস্ত হতে হল খালিদ জামিলের দলকে। প্রথমার্ধে কিছু সময়ের জন্য ভারতীয় ফুটবলাররা সাহসিকতার পরিচয় দিলেও, খেলার সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে চরম শারীরিক ক্লান্তি এবং ডিফেন্সের কঙ্কালসার চেহারা ভারতকে এক মর্মান্তিক আত্মসমর্পণের দিকে ঠেলে দিল।

ম্যাচের সূচনা থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রেখে ভারতীয় রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করে দিয়েগো ফোরলানের প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত উরুগুয়ে। তবে প্রথম ধাক্কা সামলে পাঁচ মিনিটের পর থেকেই খেলায় ফেরার ইঙ্গিত দেয় ভারত। বিশেষ করে ডান প্রান্তে মনবীর সিং এবং বাঁ প্রান্তে আশিক কুরুনিয়নের ক্ষিপ্র দৌড় উরুগুয়ের বক্সে কয়েকবার আশার সঞ্চার করেছিল। কিন্তু ১০ মিনিটের মাথায় খেলার বিপরীত স্রোতে গোল খেয়ে বসে ভারত। একটি প্রতি-আক্রমণ সামলাতে গিয়ে বক্সে উরুগুয়ের ফেডেরিকো ভিনাসকে ফাউল করে বসেন তরুণ ডিফেন্ডার পরমবীর। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজাতে দ্বিধা করেননি। স্পট-কিক থেকে গুরপ্রীত সিংকে ভুল দিকে চালিত করে উরুগুয়েকে এগিয়ে দেন লিভারপুলের তারকা স্ট্রাইকার ডারউইন নুনেজ।

পিছিয়ে পড়েও কিন্তু ভারত রক্ষণাত্মক খোলসে ঢুকে যায়নি। বরং গোল শোধের মরিয়া চেষ্টা চালাতে থাকে তারা। ২৩ মিনিটের মাথায় মাঝমাঠ থেকে তৈরি হয় ম্যাচের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্তটি। উরুগুয়ের বক্সে ঢুকে রায়ান উইলিয়ামস এক জোরালো শট নেন। উরুগুয়ের গোলরক্ষক কার্ডোজ়ো সেই শট আংশিক প্রতিহত করলেও বল বিপন্মুক্ত করতে পারেননি। দ্রুততার সঙ্গে উঠে এসে ফিরতি বলে চমৎকার ফিনিশে সমতা ফেরান মোহনবাগানের অনিরুদ্ধ থাপা। গোলের পর ভারতীয় দলের বাঁধভাঙা উল্লাসই বলে দিচ্ছিল উরুগুয়ের মতো হেভিওয়েট দলের বিরুদ্ধে এই গোলের মাহাত্ম্য কতটা। এর কিছু পরেই এডমুন্ড লালরিনডিকা ও অভিষেক থেকচাম দ্বিতীয় গোল করার প্রায় কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন, কিন্তু সঠিক সিদ্ধান্তের অভাবে সুযোগটি হাতছাড়া হয়।

ঠিক যখন ম্যাচ জমজমাট হয়ে উঠছে, তখনই বাধ সাধল প্রকৃতি। ঘনঘন বিদ্যুতের ঝলকানি এবং তীব্র বজ্রপাত শুরু হলে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার স্বার্থে রেফারি প্রায় ৩০ মিনিটের জন্য খেলা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন। বিরতির পর বৃষ্টি মাথায় দুই দল পুনরায় মাঠে নামলেও ভারতীয় দলের মনোযোগ ও ছন্দে ছন্দপতন ঘটে। খেলা শুরুর মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই, অর্থাৎ ২৯ মিনিটের মাথায় বেন্তাঙ্কুরের ক্রস থেকে আলতো টোকায় উরুগুয়েকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ম্যাক্সি আরাউহো। বিরতির আগে রায়ান ও মনবীর সমতা ফেরানোর কয়েকটি ভালো চেষ্টা করলেও তা গোলমুখী হয়নি।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের ছবিটা পুরোপুরি বদলে যায়। প্রথমার্ধের উদ্যম হারিয়ে ভারতীয় খেলোয়াড়দের শরীরে স্পষ্ট ফুটে ওঠে ক্লান্তির ছাপ। এর ওপর জ্বলন্ত আগুনে ঘি ঢালে গোলরক্ষক গুরপ্রীত সিং এর হতাশাজনক পারফরম্যান্স। ব্রাজিল ম্যাচে গোলপোস্টের নীচে চরম ব্যর্থতার পরও কোচ খালিদ জামিল তাঁর অভিজ্ঞতার ওপর ভরসা রেখেছিলেন। কিন্তু সেই ভরসার বিন্দুমাত্র মর্যাদা দিতে পারেননি গুরপ্রীত। ৫৩ মিনিটের মাথায় বক্সের বাইরে থেকে সালাজরের নেওয়া শট গুরপ্রীতের হাতের নীচ দিয়ে সোজা জালে জড়িয়ে যায়। এই ধরনের সহজ শট বাঁচাতে না পারাটা আন্তর্জাতিক স্তরে আন্তর্জাতিক মানের গোলরক্ষকের কাছে বড় অপরাধ।

এরপর উরুগুয়ে ভারতকে পুরোপুরি চেপে ধরে। ৫৯ মিনিটে ভিনাসের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান ৪-১ করেন আরাউহো। এই গোলের ক্ষেত্রেও গুরপ্রীতকে নিশ্চল দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ৭১ মিনিটে পেলিত্রির পাস থেকে সানাব্রিয়া পঞ্চম গোলটি করার পর বাধ্য হয়ে গুরপ্রীতকে তুলে আলবিনো গোমসকে মাঠে নামান কোচ খালিদ। তবে তাতেও বিপর্যয় আটকানো যায়নি। ৮৬ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দূরপাল্লার জোরালো বাঁ পায়ের শটে ৬-১ ব্যবধানে ভারতের কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দেন আগুইরে।

ম্যাচ শেষে উরুগুয়ের কোচ দিয়েগো ফোরলান বিজয়ের হাসি হেসে মাঠ ছাড়লেও, ভারতীয় শিবিরের চিত্রটি ছিল গভীর বিষাদের। অনিরুদ্ধ থাপার একমাত্র গোল কিংবা প্রথমার্ধে মনবীর-রায়ানদের কয়েক ঝলক আক্রমণ বাদ দিলে এই ম্যাচ থেকে ভারতের প্রাপ্তির খাতা প্রায় শূন্য বললেই চলে।  ফিনিশার বা প্রফেশনাল স্ট্রাইকারের অভাব এবং দুই বিশ্বসেরা দলের বিরুদ্ধে চার দিনে দুটি ম্যাচ খেলার ভয়াবহ শারীরিক প্রভাব যেভাবে দলকে ভেঙে দিল। ভারতীয় ফুটবলের পরিকাঠামোর কতটা দৈন্য চেহারা তা যেন দেখিয়ে দিয়ে গেল।

প্রতিবেদন

Sandipan Saha