কুঠারের আঘাতে ভেঙে গিয়েছিল স্মিথের খুলির একাংশ, করতে হয় অপারেশন
দুবাই: সহ পাইলট হামাম আল হাম্মামির কুঠারের আঘাতে মাথায় গুরুতর চোট পেয়েছিলেন ফ্লাইদুবাইয়ের ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছর। অবস্থা এতটাই গুরুতর ছিল যে, সৌদির তাবুক শহরের একটি হাসপাতালে জরুরি ভিত্তিতে অপারেশনও করতে হয়েছিল স্মিথের মাথায়। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আঘাত এতটাই ভয়ানক ছিল যে, খুলির বেশ কিছুটা অংশ ভেঙে বসে গিয়েছিল। প্রভাব পড়েছিল অপটিক নার্ভের ওপরেও। এই বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে সামাল দেওয়া না গেলে মস্তিষ্কের ক্ষতি হওয়ার বিপুল সম্ভাবনা ছিল। সৌদির হাসপাতালে অপারেশনের পর জরুরি ভিত্তিতে স্মিথকে চিকিৎসার জন্য স্থানান্তরিত করা হয় দুবাইতে। বর্তমানে সেখানকারই সেনা হাসপাতালে চিকিৎসকদের কড়া নজরদারির মধ্যে রয়েছেন ক্যাপ্টেন স্মিথ। প্রচণ্ড যন্ত্রণা থেকে সাময়িক স্বস্তি দিতে কড়া ডোজের ঘুমের ওষুধও দেওয়া হচ্ছে তাকে। জানানো হয়েছে, চিকিৎসায় ভাল সাড়াও দিচ্ছেন তিনি।সম্প্রতি স্মিথের পরিবারের লোকজনকে তার সঙ্গে দেখা করার অনুমতিও দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ভাল খবর হল, এক পা, দু পা হাঁটতে শুরু করেছেন স্মিথ। খেয়েছেন সামান্য খাবারও। কথাবার্তাও বলছেন ধীরে ধীরে। স্মিথ চিকিৎসকদের জানিয়েছেন, চোখে দেখার ক্ষেত্রে বেশ কিছু সমস্যা হচ্ছে তার। চিকিৎসকরা এ ব্যাপারে ভাবনাচিন্তা করছেন। দ্রুত অসুবিধা সারিয়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন তারা।
এদিকে স্মিথ জানিয়েছেন, সুস্থ হয়ে তিনি ফের ককপিটে বসতে চান। আবার ডানা মেলে উড়তে চান আকাশে। গত ৩০ সেপ্টেম্বরের ভয়াবহ স্মৃতি থেকে বের হয়ে এসে ফিরতে চান কাজে। উল্লেখ্য, ওই দিন ইজরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের ককপিটে ভারতীয় বিমানচালক স্মিথ মচ্ছরকে ছুরি ও কুঠার দিয়ে আঘাত করেছিলেন সহ পাইলট। জানা যায়, বিমানটিকে দখল করে নিয়ে দুর্ঘটনা ঘটানোর পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। কিন্তু স্মিথের চেষ্টায় এবং যাত্রীদের তৎপরতায় রক্ষা পান প্রায় ১৮০জন যাত্রীসহ বিমানটি।
