রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে এবিভিপি-এসএফআই সংঘর্ষ
সংবাদদাতা, রায়গঞ্জ: কলেজ ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক পোস্টার লাগানোকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর। মঙ্গলবার সকালে জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে ক্যাম্পাসের দেওয়ালে পোস্টার লাগানোকে কেন্দ্র করে এবিভিপি ও বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ বাঁধে। এই ঘটনায় সর্বভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ এবং স্টুডেন্টস ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার বেশ কয়েকজন সমর্থক গুরুতর আহত হয়েছেন। একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তোলায় বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এদিন সকালে রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন দেওয়ালে জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবি জানিয়ে বেশ কিছু পোস্টার লাগানো হয়। এই পোস্টারগুলি এসএফআই সমর্থকরা লাগিয়েছেন বলে অভিযোগ তুলে প্রতিবাদে সামিল হন এবিভিপি কর্মীরা। প্রাথমিকভাবে দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র বচসা শুরু হয়, যা মুহূর্তের মধ্যে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। ইট-পাথর ও লাঠিসোঁটা নিয়ে দুই ছাত্র সংগঠনের কর্মীরা লড়াইতে নামেন। দুই পক্ষের মারামারিতে বেশ কয়েকজন ছাত্র রক্তাক্ত হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের মধ্যে এই ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে অশান্তি ও সংঘর্ষের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় রায়গঞ্জ থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দুই পক্ষকেই ক্যাম্পাস থেকে সরিয়ে দেয়। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। সংঘর্ষের পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে থমথমে পরিবেশ রয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ক্যাম্পাসের বাইরে ও ভেতরে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে কড়া নিরাপত্তা। এই ঘটনার পর এবিভিপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, এসএফআই অকারণে ক্যাম্পাসের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে এসএফআই-এর পাল্টা অভিযোগ, গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ দমাতেই তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে প্রতিপক্ষ সংগঠনের কর্মীরা। ঘটনার জেরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। শিক্ষাঙ্গনে এই ধরনের কাজ বরদাস্ত করা হবে না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কারা এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে এবং কোন উস্কানিমূলক পরিস্থিতিতে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটল, তা জানতে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
