শিলিগুড়িতে বেআইনি আধার কেন্দ্র, গ্রেপ্তার ২ বাংলাদেশি সহ ৩
সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: রাজ্যে বেআইনিভাবে আধার কার্ড তৈরির একটি বড় চক্রের সন্ধান পাওয়া গেল শিলিগুড়িতে।মাটিগাড়া থানার শিশাবাড়ি এলাকা থেকে দুই বাংলাদেশি নাগরিকসহ মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হয়েছে ২৮টিরও বেশি ভুয়ো আধার কার্ড এবং জাল নথি। ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় ভুয়ো পরিচয়পত্র তৈরির চক্রের রমরমা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৫ অক্টোবর শুকনা আর্মি ইন্টেলিজেন্স এবং মাটিগাড়া থানার পুলিশ যৌথভাবে শিশাবাড়ির একটি বাড়িতে হানা দেয়। খবর ছিল, ওই বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে আধার কার্ড তৈরির বেআইনি কেন্দ্র চালানো হচ্ছে। সেখান থেকেই বাংলাদেশের দুই নাগরিকে আটক ও পরবর্তীতে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তাঁরা বেআইনি উপায়ে ভারতীয় পরিচয়পত্র বা আধার কার্ড পাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। অভিযুক্তরা দুবছর ধরে ওই এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকছিলেন। ভারতীয় নাগরিকত্বের বিভিন্ন সরকারি সুবিধা বা পরিচয়পত্র পেতে তাঁরা প্রত্যেকে ১০ হাজার টাকা করে দিয়েছিলেন বলে দাবি। এই চক্রের মূল অপারেটর হিসেবে চিহ্নিত রিপন রায় পুলিশি অভিযানের সময় পালিয়ে যায়। তবে তার স্ত্রী পবিত্রা রায়কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ । অভিযান চলাকালীন ঘটনাস্থল থেকে ২৮টিরও বেশি ভুয়ো আধার কার্ড, কম্পিউটার, বায়োমেট্রিক স্ক্যানার এবং বিভিন্ন ভুয়ো নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়। কীভাবে সরকারি বায়োমেট্রিক সিস্টেমকে ফাঁকি দিয়ে এই চক্রটি সক্রিয় হয়ে উঠেছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এই ধরনের বেআইনি কেন্দ্রগুলি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে জানিয়েছে পুলিশ। ভুয়ো আধার কার্ডের মাধ্যমে অনুপ্রবেশকারীরা সহজেই দেশের বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা এবং বৈধ পরিচয়পত্র হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়ে যায়। মাটিগাড়া থানার পুলিশ এই ঘটনায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। মূল অভিযুক্ত রিপন রায়ের খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এই চক্রের পেছনে অন্য কোনও বড় দল যুক্ত রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
