সরকারি ভবনেই মদের ফোয়ারা, পড়ুয়াদের উদ্দাম নাচ!
সংবাদদাতা, নদীয়া: সরকারি প্রশাসনিক ভবন নাকি কোনও বিনোদন পার্ক তা নিয়েই উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন । সরকারি একটি ভবনের ভেতর ভাঙা মদের বোতল এবং চেয়ারের ওপর উঠে ছাত্রছাত্রীদের উদ্দাম নাচের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। শান্তিপুরের বিডিও অফিসের প্রেক্ষাগৃহ সুকান্ত ভবনের ঘটনা। সম্প্রতি ফুলিয়ার কেন্দ্রীয় বস্ত্র মন্ত্রকের আধীনে থাকা সরকারি প্রতিষ্ঠান আইআইএইচটি-র কর্তৃপক্ষ, বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের রিইউনিয়নের আয়োজন করা হয়েছিল সেখানে। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ভবনের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে উচ্চস্বরে ভোজপুরি ও ওড়িয়া গান বাজানো হচ্ছে। সেই গানের তালে তালে চেয়ারের ওপর উঠে উদ্দাম নাচ চলছে ছাত্রছাত্রীদের। দেখা গেছে, প্রশাসনিক ওই ভবনের মধ্যেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ভাঙা মদের বোতল, জলের বোতল এবং মাংসের পকোড়ার মতো খাবারের টুকরো। একটি সরকারি বা প্রশাসনিক দপ্তরের ভেতরে এ ধরনের শৃঙ্খলাবহির্ভূত কাজ কীভাবে সম্ভব, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। শান্তিপুর বিডিও অফিসের পক্ষ থেকে কড়া পদক্ষেপ করা হয়েছে। বিডিও সব্যসাচী রাই জানিয়েছেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে ইতিমধ্যেই আইআইএইচটি কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। পুরো ঘটনাটির তদন্ত চলছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি চত্বরে শৃঙ্খলাভঙ্গের এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন যে যথেষ্ট ক্ষুব্ধ, তা বিডিওর কথা থেকেই স্পষ্ট। বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ফুলিয়ার আইআইএইচটি কর্তৃপক্ষ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, এই অনুষ্ঠানটি সরাসরি তাদের আয়োজিত ছিল না।তারা সেখানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে ছিলেন। কর্তৃপক্ষের এক প্রতিনিধি জানান, এটি আমাদের নিজস্ব কোনও প্রোগ্রাম ছিল না, আমরা আমন্ত্রিত হিসেবে গিয়েছিলাম। তবে ভিডিওতে ছাত্রছাত্রীদের যে আচরণ দেখা যাচ্ছে, তা অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং তারা আমাদেরই প্রতিষ্ঠানেরই শিক্ষার্থী। আমরা আমাদের নিজস্ব স্তরে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। ভিডিও ফুটেজ দেখে যারা যারা এই অনৈতিক কাজের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে কঠোর প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক পদক্ষেপ করা হবে। একটি সরকারি ভবনে এই ধরনের কাজ আদতে সরকারি সম্পত্তি ও দপ্তরের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ কোনওভাবেই কাম্য নয়।
