কমিশন অভিযানে নয়াদিল্লিতে ধুন্ধুমার, আটক ইন্ডি জোটের বড় নেতারা
সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: জ্ঞানেশ কুমারের পদত্য়াগ চেয়ে নির্বাচন কমিশন অভিযান। দপ্তর পর্যন্ত পৌঁছতেই দেওয়া হল না ইন্ডি জোটের শরিকদের। মঙ্গলবার সংসদ থেকে নির্বাচন সদনের উদ্দেশে মিছিল করে এগিয়েছিলেন বিরোধী সাংসদরা। কিন্তু সদন থেকে ১০০ মিটার দূরে, আকাশবাণী ভবনের কাছে তাঁদের আটকে দেয় দিল্লি পুলিশ। প্রতিবাদে সেখানেই রাস্তায় বসে পড়েন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সঙ্গে ছিলেন প্রিয়ঙ্কা গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়্গে-সহ অন্য বিরোধী সাংসদরা। পুলিশের সঙ্গে তুমুল বচসা চলে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ওঠে “ভোট চোর” স্লোগান। জানা গিয়েছে, ১০ অক্টোবর ককরোচ জনতা পার্টির কর্মসূচিতে যোগ দেবেন রাহুল গান্ধী।
अखिलेश यादव जी को गिरफ्तार कर लिया गया है, मुझे लगता है प्रशासन ने बड़ी गलती बार दी है 🤔 थोड़ी देर में दिल्ली युद्ध क्षेत्र बन जाएगा।
आज इंडिया ब्लॉक ने चुनाव आयोग के खिलाफ बिगुल फूंक दिया है राहुल गांधी अखिलेश यादव प्रियंका गांधी सभी व्यक्ति के नेता आज सड़क पर उतर गए हैं।
इंडिया गठबंधन के लोग केचुआ अध्यक्ष ज्ञानेश कुमार के इस्तीफे के लिए आंदोलन शुरू कर दिया है।
Akhilesh Yadav , Rahul Gandhi, Priyanka Gandhi , India alliance, election commission of India
— Abhishek Yadav (@Abhishek__SP) October 6, 2026
সকাল থেকেই সংসদ চত্বর থেকে নির্বাচন সদন পর্যন্ত ছিল পুলিশের ছড়াছড়ি। একাধিক স্তরে ব্যারিকেড বসানো হয়, মোতায়েন ছিল পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী। এর মধ্যেই “গণতন্ত্র বাঁচাও” লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে মিছিল শুরু করেন বিরোধী সাংসদরা। কমিশনের দপ্তরের কাছাকাছি পৌঁছতেই তা আটকে দেয় পুলিশ। আধিকারিকদের দাবি, মিছিলের কোনও অনুমতি দেওয়া হয়নি, তাই আটকানো হয়েছে।
ব্যারিকেডের এ পারে বসেই প্রতিবাদ শুরু করেন রাহুল, প্রিয়ঙ্কা, খাড়্গেরা। স্লোগানে বারবার ওঠে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে এবং কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যদিও নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে। মিছিলের আগেই ইন্ডি জোট জানিয়েছিল, শুধু দিল্লির পথে হেঁটে আন্দোলন শেষ হবে না। সংসদের শীতকালীন অধিবেশন পর্যন্ত বিষয়টি জিইয়ে রাখা হবে।
LOP Rahul Gandhi is now inside Aakashvani (AIR) office which is adjacent to ECI office.
Delhi cops and RAF have blocked all roads to ECI because of the INDIA alliance march.
Courtesy ANI https://t.co/Ks7aF05sax
— Shakeel Yasar Ullah (@yasarullah) October 6, 2026
বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, বাংলায় যেভাবে এসআইআর হয়েছে এবং তা নিয়ে দেশজুড়ে যে প্রতিবাদ শুরু হয়েছে, তাতেই স্পষ্ট সাধারণ মানুষের ক্ষোভ কতটা। এতদিন দেশের বড় অংশের মানুষ বিশ্বাস করতেন, সরকার কাজ না করলে পরের নির্বাচনে জবাব দেওয়া যায়। সেই জায়গা থেকেই আজকের ক্ষোভের জন্ম, বলেন তিনি।
বিজেপির আত্মবিশ্বাস নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অভিষেক। তাঁর কটাক্ষ, বেকারত্ব, গ্যাস-পেট্রল-কেরোসিন বা সবজির দাম বাড়লেও বিজেপির কোনও চিন্তা নেই, কারণ তাদের বিশ্বাস জ্ঞানেশ কুমার কমিশনে থাকলে ভোট চুরি করেই ফের ক্ষমতায় আসা যাবে। সম্বিত পাত্রের মন্তব্য প্রসঙ্গেও কটাক্ষ করেন তিনি। অভিষেকের বক্তব্য, কেউ জ্ঞানেশ কুমারকে ভগবান গণেশের মর্যাদা দিতে চাইলে সেটা তাঁর ব্যাপার। কিন্তু রাম মন্দিরের রাজনীতি করেও অযোধ্যায় হেরেছিল বিজেপি, এবার সেই রাজনীতিতে গণেশকেও টেনে আনা হয়েছে। মহারাষ্ট্রেও তাদের পরাজয় নিশ্চিত বলে দাবি করেন তিনি।
INDIA Alliance MPs marched towards the Election Commission office, raising concerns over the functioning of the poll body and demanding the resignation of CEC Gyanesh Kumar.
As the march was stopped near the ECI office, several MPs-including @RahulGandhi , @priyankagandhi , @yadavakhilesh , @supriya_sule and @abhishekaitc -sat on the road in protest.
In a democracy, peaceful protest and the right to question constitutional institutions are fundamental democratic freedoms. Such voices deserve to be heard, and concerns must be addressed through transparency, dialogue and constitutional processes.
A strong democracy is not weakened by questions-it is strengthened when those questions are answered with facts, transparency and accountability. 🇮🇳
#INDIAAlliance #RahulGandhi #ElectionCommission #CEC #GyaneshKumar #Democracy
— HRITHIK SAINI (@HRITHIKSAINI1) October 6, 2026
কংগ্রেসের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ১০ থেকে ২০ অক্টোবর ব্লক স্তরে চলবে “ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও” প্রচার। থাকবে সাইকেল ও মোটরবাইক মিছিল, পথসভা এবং প্রচারপত্র বিলি। ২৫ অক্টোবর থেকে ২৫ নভেম্বর বুথ স্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচি করার পরিকল্পনা রয়েছে। ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে হবে বড় সভা। ২৫ ও ২৬ নভেম্বর দিল্লির আশপাশ থেকে ছ’টি পৃথক মিছিল বের করে ২৬ নভেম্বর সংবিধান দিবসে রাজধানীতে জড়ো হওয়ার পরিকল্পনা। এর পর শীতকালীন অধিবেশনে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে মহাভিযোগ প্রস্তাব আনার কথাও জানিয়েছে কংগ্রেস।
তবে এই কর্মসূচিতে সব শরিককে দেখা যায়নি। আম আদমি পার্টি এবং ডিএমকে এ দিনের মিছিলে অংশ নেয়নি। ফলে জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিরোধীদের আন্দোলন যত চড়ছে, ততই সামনে আসছে জোটের ভিতরের সমন্বয়ের প্রশ্নও।
