নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনে বিক্ষিপ্ত অশান্তি
সংবাদদাতা, কলকাতা: রাজ্যের দুই কেন্দ্র, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনে সকাল থেকেই বিক্ষিপ্ত অশান্তির অভিযোগ উঠেছে। নন্দীগ্রামে পোলিং এজেন্টদের বসতে না দেওয়ার অভিযোগ করেছেন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। রেজিনগরে ভোটের শুরুতেই পুলিশের সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়িয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর। বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ অবশ্য জানিয়েছেন, নির্বিঘ্নেই ভোট হচ্ছে।
নন্দীগ্রামে ১৭ বছরের পুরনো মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন মিলন। এখন তিনি জামিনে আছেন। সকালে সস্ত্রীক ২৮০ নম্বর বুথে ভোট দেন। বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরতে ঘুরতে সোনাচূড়ায় গিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁদের পোলিং এজেন্ট বসতে পারছেন না। খবর পেয়ে দৌড়ে আসেন বিজেপির নেতা-কর্মীরা। তাঁদের দাবি, ওখানে কংগ্রেসের সমর্থকই নেই। এক বিজেপি কর্মী কটাক্ষ করেন, “আপনার প্লেয়ার নেই, তো খেলবেন কী ভাবে?” মিলনের জবাব, প্রথমে প্লেয়ার কারও থাকে না, পরে আসে। বেশ কিছুক্ষণ কথা কাটাকাটির পর সোনাচূড়া ছেড়ে চলে যান তিনি।
বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি দিন শুরু করেন রেয়াপাড়ার শিবমন্দিরে পুজো দিয়ে। শান্ত গলায় বলেন, ভোট ভাল হচ্ছে। বিরোধীদের অভিযোগ নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি তিনি। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ এলেই পদক্ষেপ করা হচ্ছে, প্রয়োজনে প্রিভেনটিভ ডিটেনশনও হবে। দুপুরে নন্দনায়েকবাড়ের বুথে ভোট দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সংক্ষিপ্ত সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, নন্দীগ্রামে এখনও পর্যন্ত ৫০ শতাংশ ভোট পড়েছে। উপনির্বাচনে সাধারণত ভোট কম পড়ে, তবু তিনি ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত আশা করছেন। ২০১৬ সালে ৮২ হাজার ভোটে জিতেছিলেন, এ বার সেই রেকর্ড ভাঙবে বলেও আশাপ্রকাশ করেন।
হুমায়ুনের ছেড়ে দেওয়া আসনে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী তাঁর পুত্র গোলাব নবি আজ়াদ। কিন্তু সকাল থেকেই পুলিশ ও বিজেপিকে এক পঙ্ক্তিতে ফেলে আক্রমণ শুরু করেন হুমায়ুন। তাঁর অভিযোগ, গোটা রেজিনগরে ভোট লুট হচ্ছে। দলের কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে একপ্রস্থ গন্ডগোলের পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। উপনির্বাচন ঘিরে পরিস্থিতিকে তিনি জরুরি অবস্থার সঙ্গে তুলনা করেছেন।
রেজিনগর থেকে আরও বেশ কয়েকটি অভিযোগ উঠছে। বিরোধীদের দাবি, ভোট দিতে গেলে আঙুলে কালি লাগিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর পিছনে বিজেপির হাত রয়েছে বলে অভিযোগ। পুলিশকে জানিয়েও লাভ হয়নি বলে তাঁদের দাবি।কংগ্রেসের অভিযোগ, একাধিক বুথ থেকে এজেন্টদের বার করে দেওয়া হয়েছে। তারা পুনর্নির্বাচনের দাবি তুলেছে। দুপুরে তৃণমূল প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরীকেও দেখা যায় একই অভিযোগ করতে। তাঁর কথায়, প্রত্যেক বুথে এজেন্ট দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু ৩১৫টি বুথের মধ্যে এখন ২৫ থেকে ৩০ জন এজেন্ট রয়েছেন, বাকিদের তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
সিপিএমের অভিযোগ, রেজিনগরের ১১২, ১১৩, ১১৪ ও ১২২ নম্বর বুথে, দাদপুর অঞ্চলের মরাদিঘিতে, পুলিশই পোলিং এজেন্টদের ঢুকতে দিচ্ছে না। রেজিনগর থানায় অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন কংগ্রেস প্রার্থী আব্দুল্লাহিল কাফি। উপনির্বাচন বাতিল করে পুনর্নির্বাচনের দাবি তোলেন তিনি। ভোট লুটের অভিযোগে জেলাশাসকের দপ্তরের সামনে বিক্ষোভমিছিলও করেন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী।
রেজিনগরের বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার বলেন, কয়েক দিন আগেই হুমায়ুন বলেছিলেন ভোটের দিন ১০টা লাশ পড়বে। তাঁর অভিযোগ, হুমায়ুন দাঙ্গা লাগাতে চান এবং পুলিশকে গালাগালি দিয়েছেন, তাই পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, নওদার বিধায়ক গ্রেপ্তার হয়েছেন, আইন সকলের জন্য সমান এবং সকলকেই আইন মেনে চলতে হবে।
ভোটের হার
দুপুর ১টা পর্যন্ত রেজিনগরে ভোট পড়েছে ৫৭ শতাংশ। দুপুর পর্যন্ত নন্দীগ্রামে ভোটের হার ৬০ শতাংশ ছুঁয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
