সমকাম-বিদ্বেষীদেরই শিকার ম্যাড সান্ধু? কেন দেওয়া হয়েছিল হুমকি?
অমৃতসর: শনিবার সন্ধেয় অমৃতসরের লোহারকা রোডে গুলি করে খুন করা হয় জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ও মেকআপ আর্টিস্ট ম্যাড সান্ধুকে। পুলিশ জানিয়েছিল, সন্ধে ৬টা নাগাদ বাইকে চেপে আসা দুই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি সান্ধুকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মারা যান সান্ধু। তদন্তে নেমে ঘটনাস্থল থেকে দু’টি খালি কার্তুজ উদ্ধার করা করে পুলিশ। অভিযুক্তদের ধরতে ঘটনাস্থলের আশপাশের অঞ্চলের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার কাজ শুরু হয়েছে। পুলিশ কমিশনার (সিপি) হরমনবীর সিং গিল জানিয়েছেন, সান্ধু তাঁর গাড়িটি পরিষ্কার করার জন্য নিয়ে গিয়েছিলেন। তখনই তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। পুলিশের ধারণা, ঘটনার আগে আততায়ীরা সান্ধুকে অনুসরণ করেছিল। শুধু তাই নয়, এমনও হতে পারে যে, বেশ কিছুদিন ধরেই সান্ধুর গতিবিধির ওপর নজর রাখছিল তারা। রীতিমত পরিকল্পনা করেই খুন করা হয়েছে জনপ্রিয় এই মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারকে। এ বিষয়ে সান্ধুর পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে আততায়ীদের পরিচয় জানার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ইতিমধ্যেই কয়েকটি সূত্র হাতে এসেছে পুলিশের।
LGBTQ+ কমিউনিটির কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন ম্যাড সান্ধু। আসল নাম মধুসূদন সান্ধু। পারিবারিক দিক থেকে ছিলেন পঞ্জাব পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত এক সাব-ইনস্পেক্টরের ছেলে। মেক-আপ আর্টিস্ট, স্টাইলিস্ট এবং নেটপ্রভাবী হিসেবে খুব কম সময়ের মধ্যেই খ্যাতি পেয়েছিলেন। বিপুল সংখ্যক ফলোয়ার ছিল তাঁর। শুধু ইনস্টাগ্রামেই ফলোয়ারের সংখ্যা ছিল ২.৪ লক্ষ। ‘ওয়ের ভোলে ওয়ের’ মতো বেশ কয়েকটি পঞ্জাবি ছবিতে অভিনয়ও করেছিলেন। অমৃতসরে ‘মানে লেন ইউনিসেক্স সেলুন’ নামে একটি পার্লারও ছিল সান্ধুর। যেখানে মেকআপ সম্পর্কিত প্রশিক্ষণও দেওয়া হতো।
প্রায়ই তিনি তার কনটেন্টে লিঙ্গ সংক্রান্ত বিষয়, এলজিবিটিকিউপ্লাস সম্প্রদায়ের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নিজের মতামত দিতেন। একাধিক পডকাষ্টে তাঁর খোলামেলা আলোচনা বহুবারই সমকাম বিরোধীদের কাছে তাকে কটাক্ষের শিকার করে তুলেছিল। তিনি জানিয়েছিলেন, এ বিষয়ে তাঁকে একাধিকবার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। সেই কারণেই সান্ধুকে হত্যা করা হল কিনা সে বিষয়টিও তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। এদিকে ‘গোল্ডি ধিল্লন’ নামের একটি সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে করা একটি পোস্টে এই হত্যার দায় স্বীকার করা হয়েছে। পুলিশ সেই পোস্টের সত্যতা যাচাই করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
এদিকে সান্ধুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পাঞ্জাবে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তর্জা। রাজ্যে ক্ষমতাসীন আম আদমি পার্টির সরকারকে রীতিমত তুলোধনা করেছে বিরোধী বিজেপি এবং কংগ্রেস। এই ঘটনাকে ভগবন্ত সিং মান সরকারের ব্যর্থতা বলে উল্লেখ করেছেন বিরোধীরা। তাদের অভিযোগ, আপ সরকার পাঞ্জাবকে অপরাধী ও মাফিয়াদের হাতে তুলে দিয়েছে। রাজ্যের যুবসমাজ এখানে নিরাপদ নয়।’’ বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র সম্বিত পাত্র পাঞ্জাব হাইকোর্টে দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলার মাধ্যমে এই ঘটনায় সিবিআই তদন্তের দাবি তুলেছেন।
এদিকে সান্ধুর মৃত্যুর পর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অমৃতসরের সাংসদ গুরজিৎ সিং আউজলা। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে হুমকি পাচ্ছিলেন সান্ধু। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্যেই সেই হুমকির কথা জানিয়েছিলেন। বিষয়টি সরকার ও পুলিশের আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত ছিল।
