বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
নিউ ফারাক্কায় ধস, বাতিল উত্তরবঙ্গগামী সব ট্রেন নিউটাউনে উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টারের শিলান্য়াস মুখ্য়মন্ত্রীর নেপালে ৯ দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার ২ শ্রমিক অভিষেকের ক্য়ামাক স্ট্রিটের অফিস খালির নির্দেশ

আপনিও কি আপনার নিকটবর্তী স্টেশনের জলপান করছেন? সাবধান, দেশের একাধিক স্টেশনের জলে মিলেছে ব্যাকটিরিয়া

18 August, 2026 4:20 PM admin
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদন : ‘অমৃত ভারত’! নামেই যখন অমৃত, তখন স্টেশনে গিয়ে জল খাওয়ার সময় আর এত ভাবনাচিন্তার কী আছে! রেলও তো যাত্রীদের জন্যই পানীয় জলের ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু সেই নিশ্চিন্তির ছবিতে আচমকাই কালি ঢেলে দিয়েছে ক্যাগের রিপোর্ট। দেশের একাধিক রেলস্টেশনের পানীয় জলে মিলেছে ই-কোলাই ব্যাকটিরিয়া। অর্থাৎ যে জল তৃষ্ণা মেটানোর কথা, সেই জলই হয়ে উঠতে পারে অসুস্থতার কারণ।

সংসদের বাদল অধিবেশনে পেশ হওয়া কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের (ক্যাগ) রিপোর্টে এই তথ্য সামনে এসেছে। ছ’টি রেল জোনের ৫৯টি স্টেশনের পানীয় জলের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল। তার মধ্যে দক্ষিণ রেলের কোয়েম্বাটোর ও পালাক্কড় জংশন, দক্ষিণ-মধ্য রেলের হায়দরাবাদ, পূর্ব রেলের মধুপুর এবং সেন্ট্রাল রেলের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাস, ভিওয়ান্ডি রোড, কল্যাণ ও লোনাভালা স্টেশনের কুলারের জলে ই-কোলাই পাওয়া গিয়েছে।

ই-কোলাইয়ের উপস্থিতি জলের মলদূষণের ইঙ্গিত হতে পারে। নির্দিষ্ট কিছু ধরনের এই ব্যাকটিরিয়া সংক্রমণ ঘটিয়ে ডায়রিয়া-সহ নানা অসুস্থতার কারণ হতে পারে। ফলে বিষয়টি কোনও স্টেশনের কুলার নোংরা থাকার মতো সামান্য পরিষেবাগত ত্রুটি নয়। রেলের পানীয় জল সরবরাহের মান এবং নজরদারি নিয়েই বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে এই রিপোর্ট।

আর শুধু জলেই সমস্যা থেমে নেই। ক্যাগের পরিদর্শনে দেশের ২০১টি স্টেশনে পরিচ্ছন্ন শৌচালয়ের অভাব ধরা পড়েছে। ২,০৩৫টি স্টেশনে পর্যাপ্ত পানীয় জলের কল নেই। কোথাও অচল পাখা, কোথাও বেহাল ফুট ওভারব্রিজ, কোথাও আবর্জনায় ভরা স্টেশন চত্বর। প্ল্যাটফর্মের ছাউনি, বসার জায়গা, ইলেকট্রনিক ট্রেন ইন্ডিকেটর এবং পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেম নিয়েও খামতির ছবি উঠে এসেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী দেশের বেশ কিছু ব্যস্ত স্টেশনে প্রভূত উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছে হাওড়া, শিয়ালদা, নয়াদিল্লি এবং মুম্বই সেন্ট্রালের নাম।

অথচ এই সময়েই দেশজুড়ে রেলস্টেশনকে আধুনিক করে তোলার বড় প্রকল্প চলছে। নতুন ভবন, উন্নত পরিকাঠামো, যাত্রী সুবিধা—সবই হচ্ছে। পাশাপাশি, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর একনিমেষে রেলস্টেশন থেকে ঝেঁটিয়ে হকারদের তুলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই আধুনিক স্টেশনে দাঁড়িয়ে এক গ্লাস নিরাপদ পানীয় জল পাওয়াটাই যদি নিশ্চিত না হয়, তাহলে উন্নয়নের অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

ক্যাগের রিপোর্টের পর রেল মন্ত্রক অবশ্য নড়েচড়ে বসেছে। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব রেলবোর্ডের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রায় ২০ হাজার জায়গায় ‘ট্যাঙ্ক টু ট্যাপ’ জল পরিশোধন ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা হয়েছে। জলাধার নিয়মিত পরিষ্কার এবং সরবরাহের জায়গায় জলের গুণমান পরীক্ষার উপরও জোর দেওয়া হবে।

কিন্তু এতদিনের ব্যবস্থায় গাফিলতি থাকলে তার দায়টা কে নেবে? যাত্রীদের পান করার জল নিরাপদ রাখা রেলের মৌলিক দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনে কোথাও ব্যর্থতা থাকলে শুধু নতুন ব্যবস্থা ঘোষণা করলেই হবে না, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহির আওতায় আনাও জরুরি। নিয়মিত জল পরীক্ষা, তার নথি সংরক্ষণ এবং পরীক্ষার ফল প্রকাশের মতো ব্যবস্থাই পারে এই নজরদারিকে কার্যকর করতে।

‘অমৃত ভারত’-এর চকচকে স্টেশনের ছবি নিশ্চয়ই ভাল লাগে। কিন্তু তার চেয়েও জরুরি হল—সেই স্টেশনের কল খুললে অমৃত না হোক, অন্তত নিরাপদ জল যেন বেরোয়।

প্রতিবেদন

admin