এবার ইসলামপুরেই একখণ্ড বৃন্দাবন
সংবাদদাতা, উত্তর দিনাজপুর: দুর্গাপুজো মানেই প্যান্ডেল হপিং, আলোর রোশনাই আর হাজারও মানুষের উল্লাস। এই উৎসবের মরশুমে উত্তরবঙ্গের মানুষের জন্য এক বিরাট চমক নিয়ে হাজির হয়েছে ইসলামপুরের দেশবন্ধু পাড়া আদর্শ সংঘ। তাদের ৬২তম বছরের পুজো উপলক্ষে এবার উত্তর দিনাজপুরে তৈরি হচ্ছে বৃন্দাবনের বিখ্যাত প্রেম মন্দির। পুজোর মোট বাজেট প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা। বিশাল এই বাজেটের সিংহভাগ টাকাই খরচ হচ্ছে মণ্ডপ নির্মাণ, আলোর কাজ ও সাজসজ্জায়। মণ্ডপের মূল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছে বৃন্দাবনের প্রেম মন্দিরের আদল। শুধু প্যান্ডেলের বাইরে নয়, ভেতরেও থাকছে একাধিক চমক। বিশেষ করে শ্রীকৃষ্ণের লীলাভূমিকে ফুটিয়ে তুলতে মণ্ডপ চত্বরে নিখুঁতভাবে তুলে ধরা হবে সুবিশাল গোবর্ধন পর্বত ও বৃন্দাবনের বিভিন্ন পৌরাণিক দৃশ্য। নিখুঁত কারুকার্য ও আধুনিক আলোর খেলায় ইসলামপুরেই তৈরি হতে চলেছে এক টুকরো বৃন্দাবন। প্রতিবছরই ইসলামপুরের দেশবন্ধু পাড়া আদর্শ সংঘের পুজো দেখতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি উত্তর দিনাজপুর জেলা এবং শিলিগুড়ি সহ গোটা উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু মানুষ ভিড় জমান। দর্শনার্থীদের কথা মাথায় রেখে উদ্যোক্তারা এবার পুজোর দিনগুলির জন্য অপেক্ষা না করে, একেবারে মহালয়ার দিন থেকেই মণ্ডপটি খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। ফলে দর্শনার্থীরা ভিড় এড়িয়ে স্বস্তিতে প্রতিমা ও মণ্ডপ দেখার সুযোগ পাবেন। বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটলে ভিড় সামলানো সবসময়ই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই বাস্তব পরিস্থিতি মাথায় রেখে উদ্যোক্তারাও সম্পূর্ণ প্রস্তুত। মণ্ডপ চত্বরে ভিড় নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ করবে ক্লাবের নিজস্ব ভলান্টিয়াররা। পাশাপাশি, আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং দুর্ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের সমস্ত নির্দেশিকা ও বিধিনিষেধ মেনেই পুজো করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন কতৃপক্ষ। মণ্ডপ নির্মাণ প্রসঙ্গে শিল্পী গৌড় আচার্য জানান, বৃন্দাবনের প্রেম মন্দিরের স্থাপত্য ও তার আধ্যাত্মিক আবহকে মণ্ডপের ফ্রেমে তুলে আনা অত্যন্ত সূক্ষ্ম কাজ। আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে শিল্পকলার মেলবন্ধনে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে এই মণ্ডপ। শিল্পীর নিপুণ হাতে যখন মণ্ডপটি সম্পূর্ণ রূপ নেবে, তখন দর্শনার্থীরা প্যান্ডেলে প্রবেশ করলেই উত্তরবঙ্গের মাটি ছেড়ে ক্ষণিকের জন্য পৌঁছে যাবেন সরাসরি উত্তরপ্রদেশের বৃন্দাবনে। সবমিলিয়ে, পুজোর দিনগুলিতে ইসলামপুরের বুকে বৃন্দাবনের এই অপরূপ ছোঁয়া যে রাজ্যবাসীর মন জয় করে নেবে এবং উত্তরবঙ্গের সেরা পুজো পরিক্রমার তালিকায় অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠবে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
