‘অনুগামী’ কঙ্গনাকে কটাক্ষ রামদেবের
লোপামুদ্রা ভৌমিক: অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াতকে বিঁধলেন যোগগুরু রামদেব। শুধু এটুকুই নয়, কঙ্গনার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার জন্য বিজেপি–র কাছে দরবারও করে ফেললেন তিনি। ঘটনার শুরু গতমাসে। যন্তর মন্তরে আন্দোলনের সময় নতুন প্রজন্মকে ‘জেনারেশন গাটার’ তকমা দিয়েছিলেন কঙ্গনা। নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ‘কুইন’ লিখেছিলেন, বেশ কিছু তরুণী সফল কর্মজীবী মহিলাদের মতো স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করতে চান। কিন্তু তাঁরা সেই স্বাধীনতার জন্য প্রয়োজনীয় দায়িত্ব নিতে একেবারেই ইচ্ছুক নন। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, এমনও অনেকে আছে যারা নেশা করা বা একাধিক যৌনসঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্কে থাকা নিয়ে গর্ববোধ করেন। অথচ নিজেদের খরচের জন্য বাড়ির লোকের ওপর নির্ভর করে থাকেন। এরপরই কঙ্গনার মন্তব্যের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন যোগগুরু। দেশের যুবসমাজকে নর্দমার সঙ্গে তুলনা করা বিকৃত মানসিকতার পরিচয়। একই সঙ্গে কঙ্গনার দলের সদস্যদেরও তাঁর মন্তব্যের দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন,এমন মানুষদের নিয়ে তিনি কথা বলতে চান না, যে বা যারা দেশের নতুন প্রজন্মকে আবর্জনা ভাবেন। বলেছেন, জাতি, ধর্ম বা সম্প্রদায়ের পরিচয়ে কখনও যুবসমাজের বিচার করা যায় না। ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, দলিত, আদিবাসী, বনবাসী বা তফসিলি জাতি— সব পরিবারের সন্তানই এই দেশের যুবসমাজের অংশ। তাঁদের মধ্যে বিপুল শক্তিভাণ্ডার রয়েছে। ভাল–মন্দ কোনও ক্ষেত্রেই যুবসমাজের প্রভাব অস্বীকার করা যায় না। তারাই আগামীতে দেশের হাল ধরবে। তাই যুবসমাজকে কটাক্ষ করার মানে দেশের ভবিষ্যতকে বিদ্রুপ করা। এ বিষয়ে গেরুয়া শিবিরকে দ্রুত পদক্ষেপ করার অনুরোধও জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে কঙ্গনা বরাবরই যোগগুরুর যোগচর্চার অনুগামী বলে পরিচিত। নিয়মিত রামদেবকে ‘ফলো’ করেন তিনি। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে অনুগামীর বিরুদ্ধে রামদেবের মুখ খোলা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদিও রামদেব কোনওরকম রাখঢাক না করে সাফ জানিয়েছেন, ‘কেউ আমার যোগের প্রশংসা করলেই কি আমাকে তার পাপকাজ, অন্যায় এড়িয়ে যেতে হবে?’ কঙ্গনা–রামদেব তর্জায় কার্যত অস্বস্তিতে পড়েছে বিজেপি।
