জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলছে বিক্ষোভ-আন্দোলনে উত্তাল দিল্লি, মুম্বই
সংবাদদাতা, দিল্লি ও মুম্বই: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ-আন্দোলন চলল রবিবারেও। এ দিন রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরের দিকে যায় দু’টি মিছিল। প্রথমটি নাগরিক মিছিল। বিভিন্ন সংগঠনের কর্মী-সমর্থকেরা এই মিছিলে শামিল হন। পাশাপাশি বিকেল ৫টায় প্রতিবাদ মিছিল করে যুব কংগ্রেস। সেই মিছিলটিরও গন্তব্য দিল্লির যন্তর মন্তর। জোড়া মিছিল রুখতে ৫০০০ পুলিশ, র্যাফ, আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। যন্তরে মন্তর মুখী সমস্ত রাস্তায় বসানো হয়েছে ব্যারিকেড। তলস্তয় মার্গ, জনপথ রোড, সংসদ মার্গ, কেরল ভবনের দিকে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। অশোক রোড এলাকাকেও কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে। দিল্লি পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, দু’টি কর্মসূচিরই কোনও অনুমতি নেই। তবুও দু’টি মিছিলেই বহু মানুষ যোগ দেবেন, এমনটা ধরে নিয়েই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে পুলিশ।
নাগরিক মিছিলের উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশের পদত্যাগের পাশাপাশি মহিলাদের সুরক্ষার দাবিও জানাবেন তাঁরা। এর মধ্যে গতকাল আন্দোলন চলাকালীন দিল্লি পুলিশ মহিলা সাংবাদিকদের হেনস্তা করেছে বলে অভিযোগ এনেছে ছাত্র সংগঠন আইসা। দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তারা বলে, শনিবার যন্তর মন্তরে খবর করতে গিয়ে তিন মহিলা সাংবাদিক যৌন হেনস্তার শিকার হয়েছেন। এ নিয়ে তারা আঙুল তুলেছে দিল্লি পুলিশের দিকে। এই অভিযোগের সূত্র ধরে দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার বাইরে বিক্ষোভ কর্মসূচি করে ককরোচ জনতা পার্টি । এই প্রসঙ্গে সিজেপি নেতা সৌরভ দাস বলেন, অভিযোগকারিণী এখানে রয়েছেন। তাঁর আইনজীবীরাও রয়েছেন। তার পরেও কেন তারা আমাদের সঙ্গে কথা বলছে না।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পরেই সবিস্তার তদন্তের জন্য বিষয়টি ক্রাইম ব্রাঞ্চের কাছে পাঠানো হয়েছে। সিজেপি-র বিক্ষোভের মধ্যেই বেশ কয়েকজন সাংবাদিক পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার বাইরে অবস্থানে বসেছেন। তাঁদের দাবি, মহিলা সাংবাদিককে যৌন হেনস্তা করার জন্য দিল্লি পুলিশের এসিপি বিবেক ভগতের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করতে হবে।
একই দাবিতে সরব হয়েছেন সিপিএম নেত্রী বৃন্দা কারাটও। তিনি বলেন, উনি একজন এসিপি। তিনি একজন মহিলার গায়ে হাত দিচ্ছেন। তিনি কি প্রোটোকল জানেন না, উনি কী করে এটা করার সাহস পেলেন। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে কংগ্রেসও। কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধী সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, যে পুলিশের কাজ নিরাপত্তা জোগানো, সেই পুলিশের জন্য মহিলারা অসুরক্ষিত বোধ করছেন। কলেজপড়ুয়া থেকে সাংবাদিক মহিলা সব জায়গায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। নরেন্দ্র মোদিজি, অমিত শাহজির কাছে আমাদের প্রশ্ন, মহিলাদের সঙ্গে কি এই ধরনের আচরণ করতে হয়?
আন্দোলন চলাকালীন মহিলাদের আক্রমণ ও জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে রবিবারও যখন উত্তপ্ত থাকলে রাজধানী, তখন মুম্বইও তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রাজপথ তোলপাড় করল। মহারাষ্ট্রে ভোটার তালিকার এসআইআর নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক ক্রমেই বেড়ে চলেছে। রবিবার মুম্বইয়ে শিবসেনা (উদ্ধব)এবং মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা প্রধান রাজ ঠাকরে যৌথভাবে প্রতিবাদ মিছিলের নেতৃত্ব দেন। এই মিছিলের প্রধান দাবি ছিল, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং মহারাষ্ট্রে এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিল করা। এদিনের মিছিল মেট্রো সিনেমা এলাকা থেকে শুরু হয়ে দক্ষিণ মুম্বইয়ের বৃহন্মুম্বই পুর নিগম সদর দপ্তরের দিকে যায়। কংগ্রেস এবং শরদ পাওয়ারের নেতৃত্বাধীন এনসিপি (এসপি)- র নেতারাও কর্মসূচিতে যোগ দেন। রাজ ঠাকরে এসআইআর বাতিলের পাশাপাশি দেশে ইভিএমের পরিবর্তে ব্যালট পেপারে ভোট ফেরানোর দাবি জানান। উদ্ধব ঠাকরে অভিযোগ করেন, এসআইআর-এর মাধ্যমে মানুষের ভোটাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে মহারাষ্ট্রের খসড়া ভোটার তালিকার পরিসংখ্যান। রাজ্য নির্বাচন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এসআইআর- এর আগে মহারাষ্ট্রে নথিভুক্ত ভোটার ছিলেন ৯ কোটি ৭৮ লক্ষ ৫৪ হাজার ৪৯ জন। খসড়া তালিকায় জায়গা পেয়েছেন ৭ কোটি ৭১ লক্ষ ৬৫ হাজার ৫৬২ জন। অর্থাৎ ২ কোটি ৬ লক্ষ ৮৮ হাজার ৪৮৭ জন বা প্রায় ২১.১৪ শতাংশ ভোটারই খসড়া তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হননি। বাতিল ভোটারদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে এবং জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতেই দেশজুড়ে এই আন্দোলন চলছে।
