পাকিস্তানি লাস্যময়ীর ফাঁদে পড়ে তথ্য পাচার, গ্রেপ্তার বাঙালি নৌসেনা কর্মী
কোয়েম্বাটুর: পাকিস্তানি লাস্যময়ীর ফাঁদে পড়ে দেশের নিরাপত্তা সম্পর্কিত তথ্য পাচার। হাতেনাতে ধরা পড়লেন বাঙালি নৌসেনা কর্মী। ধৃতের নাম প্রদীপ মুখোপাধ্যায়। বাড়ি পশ্চিমবঙ্গে। অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে ইস্টার্ন নেভাল কমান্ডে নৌসেনার সোলজার পদে কর্মরত ছিলেন তিনি। শনিবার তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে অন্ধ্রপ্রদেশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স সেল। এই দলটি মূলত জঙ্গি মডিউল, আন্তঃসীমান্ত চরবৃত্তি এবং উচ্চ নিরাপত্তা-সংক্রান্ত হুমকির বিরুদ্ধে নজরদারি চালায়।
জানা গেছে কিছুদিন আগে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পাকিস্তানি এক মহিলার সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠে অভিযুক্তের। এরপরই প্রদীপকে যৌনতার টোপ দেন ওই মহিলা। তার ফলেই বিশাখাপত্তনম নৌ-ঘাঁটির কৌশলগত পরিকল্পনা, নৌবহরের গতিবিধি ও পরিচালন-কাঠামো বিষয়ক গোপন তথ্য অভিযুক্ত পাচার করতে থাকেন মহিলাকে। জানা গেছে মহিলাটি পাকিস্তানি গোয়েন্দা এজেন্ট। তিনি ভুয়ো পরিচয়ে প্রদীপের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলেছিলেন।
অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সের নজরদারিতে জানা যায় যে, নৌসেনার একাধিক গোপন খবরাখবর বাইরে বেরিয়ে যাচ্ছে। আধিকারিকদের সন্দেহ হয়, সোশ্যাল মিডিয়া মারফতই তথ্য পাচার করা হচ্ছে। এরপরই প্রদীপ মুখোপাধ্যায়ের চালচলন, গতিবিধিতে তার প্রতি সন্দেহ দানা বাঁধে আধিকারিকদের। অভিযুক্তের ওপর নজরদারি চালানো শুরু হলে সামনে আসে আসল ঘটনা। সম্প্রতি কোয়েম্বাটুরের রেড ফিল্ডসে আইএনএস অগ্রণী-তে ম্যানেজমেন্ট ডেভেলপমেন্ট কোর্সের প্রশিক্ষণ নিতে গিয়েছিলেন প্রদীপ। সেখান থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাকে। কোন কোন গোপন তথ্য ইতিমধ্যেই পাচার হয়েছে তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। বর্তমানে বিজয়ওয়ারার সিআই সদর দপ্তরে রেখে অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এর পেছনে কোনও আর্থিক লেনদেন বা হাওলা নেটওয়ার্ক জড়িত ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে নৌসেনার সোলজার পদে যোগ দিয়েছিলেন অভিযুক্ত।
