বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
টাইগার শ্রফের উপর হামলায় ধৃত আরও ৪ আজ বিজয়া দশমী, ঘাটে ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন ভারতের সঙ্গে চুক্তি অন্যরকম, জানালেন ট্রাম্প দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

ব্রাজিল ম্যাচে ৪-০ গোলে হার, যুবভারতীতে ভারতের লড়াই মন কাড়ল

03 October, 2026 10:03 PM UTSAB RC
শেয়ার করুন

সংবাদদাতা, কলকাতা: শনিবার যুবভারতীতে লড়াই করেও ব্রাজিলের বিরুদ্ধে চার গোল হজম করল ভারত।  অধিনায়ক গোলকিপার গুরপ্রীতের ভুলে দুটো গোল হজম করতে হল। ওই দুই ভুলেই শেষ হয়ে গেল ভারতের স্বপ্ন। দু’টি গোল না হলে প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকত, আর সেটাই হত ভারতের কাছে নৈতিক জয়ের মতো। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ শেষ হল ব্রাজিলের চার গোলে জয়ে। তবু রায়ান উইলিয়ামস, বিজয় ভার্গিজ ও অভিষেক সিংদের লড়াই মন জয় করেছে।

গুরপ্রীতের নিজের দোষে গোল খাওয়ার ইতিহাস অনেকদিনের। ক’দিন আগে পানামার বিরুদ্ধেও গোললাইন ছেড়ে অনেকটা এগিয়ে এসে দূরপাল্লার শটে গোল হজম করেছিলেন। এ দিন ম্যাচ শুরুর আগে দু’বার তাঁকে গ্লাভস দিয়ে চোখ মুছতে দেখা গিয়েছে। প্রতিপক্ষ আর পরিবেশের কথা ভেবে আবেগপ্রবণ হওয়া অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু মাঠে ন্যূনতম লড়াইটুকু তো করতে হবে। এমন ম্যাচেও নিজেকে মেলে ধরতে না পারলে কবে পারবেন?

শুরুতে ভিনিসিয়াসের একটি শট ঠেকিয়ে গুরপ্রীত গোটা স্টেডিয়ামের তারিফ কুড়িয়েছিলেন। আত্মবিশ্বাস বাড়ার কথা ছিল, হল উল্টো। মনে হচ্ছিল কোমরে ব্যথা আছে, নিচু হয়ে বল ধরতে পারছিলেন না। তবে ডিফেন্ডারদের দক্ষতায় তাঁকে তখন বড় পরীক্ষায় পড়তে হয়নি।

২৮ মিনিটে বক্সের ডান দিকে বল পান এস্তেভাও। আশেপাশে কোনও ডিফেন্ডার ছিল না। গুছিয়ে নিয়ে বাঁ পায়ে জোরালো শট নেন তিনি। বল গোলকিপারের নাগালের মধ্যেই ছিল, শুধু শটে জোর ছিল। বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে ফিস্ট করলেই বিপদ কাটত। কিন্তু গুরপ্রীতের হাতের নীচ দিয়ে বল জালে জড়িয়ে গেল।

দ্বিতীয় ভুলটি ৪২ মিনিটে। এবারও সুযোগ তৈরি করলেন এস্তেভাও, বক্সের মধ্যে পেদ্রোকে দুর্দান্ত পাস বাড়ালেন। পেদ্রোর হাতে শট নেওয়ার যথেষ্ট সময় ছিল। গুরপ্রীত শুধু পা বাড়িয়ে বল আটকাতে গেলেন, বল ডান হাতের গ্লাভসে লেগে জালে ঢুকে গেল। দু’মিনিট পরে আরও একটি গোল হজম করতে পারতেন তিনি। ভিনিসিয়াসের শট তাঁর গায়ে লেগে গোলের দিকে যাচ্ছিল, পিছন থেকে ছুটে আসছিলেন দানিলো। গুরপ্রীত নিজে নড়লেন না, উল্টে আপুইয়াকে নির্দেশ দিলেন বল ক্লিয়ার করতে। আপুইয়া কোনওমতে বলটি বাইরে না পাঠালে ব্যবধান আরও বাড়ত।

এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে গুরপ্রীতের দায়সারা মনোভাব প্রশ্ন তুলেছে, কেন তাঁকে প্রতি ম্যাচে খেলানো হয়? কোচ বদলালেও কেন তিনিই বারবার গোলের নীচে? বিশাল কাইথের মতো দেশের অন্যতম সেরা গোলকিপারকে দলেই নেওয়া হয়নি, আর প্রভসুখন গিল বসে ছিলেন বেঞ্চে। বিরতির পর মুখরক্ষার তাগিদেই গুরপ্রীতকে তুলে প্রভসুখনকে নামান কোচ খালিদ জামিল। যদিও সেই সিদ্ধান্ত অনেক আগেই নেওয়া উচিত ছিল।

এই কয়েকটি ঘটনা বাদ দিলে ভারতের লড়াই মোটেই খারাপ ছিল না। র‌্যাঙ্কিংয়ে আকাশ-পাতাল ফারাকের দেশের বিরুদ্ধে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলেছেন রায়ান, মনবীর, অভিষেকরা। ব্রাজ়িল কোচ কার্লো আনচেলোত্তি ভারতকে হালকাভাবে নেননি, প্রথম একাদশেই তা স্পষ্ট। ছিলেন ভিনিসিয়াস, মার্কুইনহোস, বিশ্বকাপে খেলা দানিলো ও ডগলাস সান্তোস। শুরুর দিকে ভিনিসিয়াসের সেই আক্রমণ ছাড়া ব্রাজ়িলকে বিপজ্জনক লাগেনি। ভারত মরিয়া রক্ষণের পাশাপাশি সুযোগ পেলে পাল্টা আক্রমণেও উঠছিল। তবে ভাল স্ট্রাইকার না থাকলে এই ব্রাজ়িল রক্ষণ টপকানো কঠিন, গোটা ম্যাচে বারবার সেটাই বোঝা গেল।

ভিনিসিয়াস খেলছিলেন বাঁ দিক থেকে, ব্রাজ়িলও সেদিকেই আক্রমণ সাজাচ্ছিল। তবু তিনি গোল করতে পারেননি বা বিশেষ বিপজ্জনক হননি, তার কৃতিত্ব অভিষেকের। পুরো সময় কড়া নজরে রেখেছিলেন ব্রাজ়িলীয় তারকাকে। ভিনিসিয়াস ড্রিবল করে বেশ কয়েকবার বেরিয়েছেন, অভিষেক বোকা বনেছেন, কিন্তু হাল ছাড়েননি, তাড়া করে গিয়েছেন।
বিরতির পরেই দলকে আমূল বদলে দেন আনচেলোত্তি। ভিনিসিয়াস-সহ একাধিক প্রথম সারির ফুটবলারকে তুলে নামালেন গিমারায়েস, ডগলাস লুইজ় ও স্যামুয়েল লিনোকে। সেই লিনোই দু’টি গোল করলেন, আর দু’টিতেই ভারতের রক্ষণ ও গোলকিপারের ভুল ছিল। ৫৮ মিনিটে বিজয়ের পা থেকে বল কেড়ে নেয় ব্রাজ়িল, দূর থেকে জোরালো শটে গোল করেন লিনো।

৬৪ মিনিটে ভাল সুযোগ পেয়েছিলেন রায়ান। মার্কারকে কাটিয়ে ব্রাজ়িলের বক্সে ঢুকে শট নেন, কিন্তু গোলকিপার মাউরো বাঁচিয়ে দেন। তিন মিনিট পরে মনবীরকে পাস দিয়ে বক্সের ডান দিকে ছুটে যান রায়ান। মনবীরের তুলে দেওয়া বলে চলতি অবস্থায় শট নিলেও গোল হয়নি, বল গড়িয়ে পোস্টের বাইরে চলে যায়। এরপর দু’দলই কয়েকবার আক্রমণে উঠলেও সফল হয়নি। সংযুক্ত সময়ের শেষ মিনিটে ব্রাজ়িলের চতুর্থ গোলটি আসে, লিনোর শট প্রভসুখনের শরীরের নীচ দিয়ে জালে ঢুকে যায়।

চার গোলে হারলেও এই লড়াই ভারতীয় দলকে পরের ম্যাচের জন্য উদ্বুদ্ধ করবে। আগামী ৬ অক্টোবর ভারতের প্রতিপক্ষ উরুগুয়ে।

প্রতিবেদন

UTSAB RC