বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
টাইগার শ্রফের উপর হামলায় ধৃত আরও ৪ আজ বিজয়া দশমী, ঘাটে ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন ভারতের সঙ্গে চুক্তি অন্যরকম, জানালেন ট্রাম্প দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল রাজধানী, যন্তর মন্তরে আটক সাতশোর বেশি

02 October, 2026 4:04 PM UTSAB RC
শেয়ার করুন

সংবাদদাতা,  নয়াদিল্লি: ভোটার তালিকায় SIR প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতে হবে। গান্ধী জয়ন্তীতে উত্তাল রাজধানী। পুলিশ শহর জুড়ে দণ্ড সংহিতার ১৬৩ ধারা (১৪৪ ধারা) জারি করেছিল। আইন অমান্য করায় যন্তর মন্তর থেকে শতাধিক আন্দোলনকারীকে আটক করল দিল্লি পুলিশ। আম আদমি পার্টি, ককরোচ জনতা পার্টি, বাম ছাত্র সংগঠন এসএফআই ও ডিওয়াইএফআই, আইসা-সহ একাধিক সংগঠন এদিন যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচি করে। জানা গিয়েছে, শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত সাতশোর বেশি বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মী-সমর্থকদের আটক করেছে পুলিশ।

আম আদমি পার্টির নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ, সঞ্জীব ঝা, অতিশী ও সঞ্জয় সিং আটক হয়েছেন। আটক হয়েছেন এআইএসএ-র নেত্রী নেহা বরা এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক যোগেন্দ্র যাদব। বিক্ষোভে যোগ দিতে নয়াদিল্লিতেই ছিলেন সিপিএম নেতা ও এসএফআই-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য। তাঁকেও আটক করেছে পুলিশ। একটি ভিডিয়ো বার্তায় সৃজন বলেন, “গোটা দেশে তুলকালাম পড়ে গিয়েছে। জ্ঞানেশ কুমারকে সরাতেই হবে। না হলে বিক্ষোভ আরও বাড়বে।” যন্তর মন্তরে বিক্ষোভে যোগ দেওয়ায় তাঁকে আটক করা হয়েছে বলেও জানান সৃজন।

সকাল থেকেই নয়াদিল্লির  পুরো এলাকা ড্রোনের নজরদারিতে রাখা হয়। পুলিশ যন্তর মন্তরের একাধিক প্রবেশপথ আটকে দেয়। বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েন এবং ছোট ছোট দলে এগোনোর চেষ্টা করেন। পুলিশের আচরণকে ‘বর্বরোচিত’ বলে নিন্দা করেছে এআইএসএ। বিক্ষোভস্থলে সিপিআই(এম)-এর সাধারণ সম্পাদক এম. এ. বেবিকেও এদিন আটক করা হয়। প্রিজন ভ্যান থেকে তিনি বলেন, সাধারণ আন্দোলনকারীদের নয়, বরং ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটার মতো কাজের জন্য সিইসি জ্ঞানেশ কুমারকেই আটক করা উচিত। এদিন সকাল ৮টা নাগাদ বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করে আম আদমি পার্টি। বিক্ষোভে যোগ দেন দিল্লির আপ সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজ। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ এসে সৌরভকে চ্যাংদোলা করে তুলে নিয়ে প্রিজন ভ্যানে তোলে।এরপরেই পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন আপ কর্মী-সমর্থকরা। পুলিশের সঙ্গে তীব্র কথা কাটাকাটি হয় আপ বিধায়ক সঞ্জীব ঝা-এর। তাঁকেও আটক করা হয়। বিক্ষোভে যোগ দেন আপ নেত্রী, দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অতশী মার্লেনাও। তিনিও পুলিশের সঙ্গে কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন।

শুক্রবার দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন জানায়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত রাজধানীর ১১টি স্টেশন বন্ধ থাকবে। স্টেশনগুলি হল জনপথ, প্যাটেল চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, রাজীব চক, সেবা তীর্থ, মান্ডি হাউস, লোক কল্যাণ মার্গ, আইএনএ, চাওড়ি বাজার, রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ ও নয়া দিল্লি। এর আগে বৃহস্পতিবার দিল্লি পুলিশ জানিয়েছিল, এই সপ্তাহে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের জন্য যন্তর মন্তরে কোনও সংগঠনকেই অনুমতি দেওয়া হয়নি।

ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন। মুম্বই পুলিশ সেখানে অনুমতি দেয়নি। পার্কের বাইরে মানুষ জড়ো হতে শুরু করলে ড্রোন নজরদারি ও মোবাইল সারভেইল্যান্স ভ্যান মোতায়েন করে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। এসএফআই-সহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের মিছিল থেকেও কয়েকজনকে আটক করা হয়। আটক শিক্ষার্থীরা সরকারের পদক্ষেপকে ‘স্বৈরাচারী’ বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিকেলে মুম্বইয়ের রাজপথে ককরোচদের আন্দোলনের দিকে নজর থাকবে গোটা দেশের। এদিকে ইন্ডিয়া জোটের পক্ষ থেকে কংগ্রেস জেলায় জেলায় গণতন্ত্র বাঁচাও আন্দোলন কর্মসূচি করছে। জেলাশাসকের অফিসে গিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকরা।

প্রতিবেদন

UTSAB RC