লাগাতার বৃষ্টিতে বাড়ি বিপর্যয় শহরে !
সুনেত্রা সেনগুপ্ত : বৃ্ষ্টি কমে গেলেও বিপর্যয় পিছু ছাড়ল না কলকাতার !
হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল পুরনো একটি বাড়ির একাংশ। ঘটনায় একজনের মৃত্যুর খবর সামনে আসছে। তবে পরিত্যক্ত ওই বাড়িতে বিপদ মাথায় নিয়ে বহু মানুষ বসবাস করতেন বলে জানা গিয়েছে। ভয়াবহ এই ঘটনায় আটকে পড়েন তাঁরা। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে যায় পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। এমনকী জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরাও ঘটনাস্থলে যান। একেবারে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আটকে থাকা বাসিন্দাদের উদ্ধার করা হয়েছে বলে খবর।
মঙ্গলবার ভোর পাঁচটা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে জোড়াবাগানের ব্রজদুলাল স্ট্রিট এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে খবর, বাড়িটি প্রায় ২০০ বছরের পুরনো। দীর্ঘদিন আগেই পুরসভার তরফে বাড়িটিকে বিপদজনক ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু এরপরেও বহু পরিবার সেখানে বসবাস করছিলেন। স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, এদিন ভোররাতে একেবারে বিকট একটা শব্দ শুনতে পাই। সঙ্গে সঙ্গে বাইরে এসে দেখি, বাড়িটির একাংশ ভেঙে পড়েছে। ভেঙে পড়া বাড়ির ধ্বংসস্তুপেই চাপা পড়েই মৃত্যু হয় এক বৃদ্ধার।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। বাড়ি বিপর্যয়ের পর সকালেই এলাকাটি পরিদর্শন করতে পৌঁছে যান রাজ্যের মন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী। তার অভিযোগ তৎকালীন সরকারের উদাসীনতার ও পুরসভার রক্ষণা বেক্ষণের অভাবেই এই বিপর্যয়। উল্লেখ্য রবিবার রাত থেকে প্রবল বৃষ্টিতে বাড়ির কার্নিস ভেঙে নীচে পড়ে মৃত্যু হল একজনের। রবিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে গল্ফ গ্রিন থানা এলাকার রসা রোডে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম সমীর ঘোষ (৬২)।
ভারী বৃষ্টির কারণে এই নিয়ে বাড়ি বিপর্যয়ে কলকাতায় মৃত্যু হল ২জনের । এর পাশাপাশি সোমবারও হাওড়া এলাকায় শতবর্ষ প্রাচীন একটি তিনতলা বাড়ির একাংশ ভেঙে পড়ে। ভেঙে পড়া বাড়ির একটি ঘরে আটকে পড়েন বাড়ির বৃদ্ধ মালিক। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় দমকল এবং হাওড়া পুলিশের আধিকারিকরা। জানলার লোহার রড কেটে আটকে থাকা বৃদ্ধকে কয়েকঘণ্টার চেষ্টায় উদ্ধার করা হয় বলে যায়।
শুধু তাই নয়, বেশ কিছুদিন আগে ভবানীপুর এলাকাতেও পুরানো একটি লাইব্রেরির একাংশ ভেঙে পড়েছিল। গত কয়েকদিনের লাগাতার বৃষ্টির ফলেই একের পর এক এই ঘটনা বলে দাবি প্রশাসনের। কলকাতা শহরতলিতে একের পর এক জরাজীর্ন বাড়ি ভেঙে পড়ার ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও একাধিকবার এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়েছে। প্রাণ ও গিয়েছে বাসিন্দাদের।
তৎকালীন সরকারের উদাসীনতা ও পুরসভার রক্ষণাবেক্ষণ এর অভাবের কারণেই এই বিপর্যয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি কেন ভগ্নপ্রায় বাড়ি গুলিকে মেরামতের উদ্যোগ নিয়ে পুনর্বাসনের ব্যাবস্থা করতে পারেনি তৎকালীন সরকার তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বর্তমান সরকারের মন্ত্রীরা।
