বাংলায় ভোট হাইজ্যাক করেছে বিজেপি, দিল্লি থেকে প্রত্য়াবর্তনের বার্তা মমতার
সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: দিল্লিতে বিজেপি-বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকের পরের দিনই ফের সাংবাদিক বৈঠক করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এসআইআর ইস্যুতে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি ‘ভোটচুরি’ ও প্রক্রিয়াগত ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুললেন তিনি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে আবারও “ভ্যানিশ কুমার” বলে কটাক্ষ করার পাশাপাশি কমিশনের আইটি বিভাগের ডিরেক্টর জেনারেল সীমা খান্নার বিরুদ্ধেও তোপ দাগেন তিনি।
মমতার প্রশ্ন, যে সাংবিধানিক সংস্থার ওপর দেশবাসীর ভোটাধিকার রক্ষার দায়িত্ব, সেই সংস্থাই যদি পরিকল্পিতভাবে ভোটচুরিতে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে সাধারণ মানুষ কাকে বিশ্বাস করবে? তাঁর মনে করিয়ে দেওয়া, ভোটার তালিকা থেকে কোটি কোটি বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিবাদ তৃণমূলই করেছিল। তাঁর দাবি, বিজেপিকে জেতানোর জন্য দলের পরিকল্পনা মেনেই বাংলার ভোটের আগে এসআইআর করানো হয়েছে। অভিযোগের সুরে তিনি বলেন, জ্ঞানেশ কুমার ও সীমা খান্না “বাংলার ভোট প্রক্রিয়াকে হাইজ্যাক” করেছিলেন।
মমতার বক্তব্য, মার্চের নির্বাচনের আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকেই বাংলায় কার্যত পরোক্ষ রাষ্ট্রপতি শাসন চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। রাজ্যপাল বদলে তামিলনাড়ুতে বিতর্কিত ভূমিকা পালন করা এক প্রাক্তন রাজ্যপালকে এ রাজ্যে আনা হয়েছিল বলেও তাঁর দাবি। আলিপুরের একটি বহুতল ভবনের ৯ তলায় রাখা প্রায় ৪০০০ ইভিএম ও কাউন্টিং মেশিন পুড়ে যাওয়ার ঘটনা তুলে মমতা প্রশ্ন করেন, ন’তলা ভবনের মাঝের তলাগুলি বাদ দিয়ে শুধু যেখানে ইভিএম রাখা ছিল, সেখানেই আগুন লাগল কীভাবে? তাঁর অভিযোগ, এটি স্বাভাবিক অগ্নিকাণ্ড নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে প্রমাণ নষ্ট করার চক্রান্ত।
মমতা জানান, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই বিষয়টি সামনে এনেছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, দিল্লির নির্বাচন কমিশন দফতরে বসে সীমা খান্না কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ব্যাক-এন্ড সফটওয়্যার ব্যবহার করে ভোটার তালিকার কেন্দ্রীয়করণ ঘটিয়ে বেছে বেছে নাম বাদ দিয়েছেন। এ নিয়ে বারবার চিঠি দিলেও কমিশন কোনো সদুত্তর দেয়নি বলে তাঁর দাবি।
মমতার স্পষ্ট বক্তব্য, বিজেপির পরিকল্পনা রূপায়ণ করতেই নির্বাচন কমিশন এ ধরনের কারচুপি করে। তিনি জানান, “ভ্যানিশ কুমার” অপসারিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় ও রাজ্য স্তরে তাঁদের আন্দোলন চলবে।
