বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
টাইগার শ্রফের উপর হামলায় ধৃত আরও ৪ আজ বিজয়া দশমী, ঘাটে ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন ভারতের সঙ্গে চুক্তি অন্যরকম, জানালেন ট্রাম্প দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

পা ভেঙেও হার না মানা জেদ, ১৪ বছর পর বাংলাকে অনূর্ধ্ব-১৬ জাতীয় ফুটবলে সেরা করল হরিশ্চন্দ্রপুরের সুদীপ্তা

01 October, 2026 2:00 PM Sandipan Saha
শেয়ার করুন

সংবাদদাতা, মালদহ: এক বছর আগে ফুটবল খেলার সময় মারাত্মকভাবে ভেঙে গিয়েছিল পা। টানা দীর্ঘদিন থাকতে হয়েছিল মাঠের বাইরে। অনেক ফুটবলারের ক্ষেত্রে হয়তো এই চোটই খেলোয়াড় জীবনের ইতি টেনে দিত। কিন্তু হরিশ্চন্দ্রপুরের তেঁতুলবাড়ি গ্রামের মেয়ে সুদীপ্তা মণ্ডল হার মানেনি। শারীরিক যন্ত্রণা ও মানসিক প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে চোট সারিয়ে সে আবার মাঠে ফিরেছে। শুধু ফিরেই থামেনি, অনূর্ধ্ব-১৬ মহিলা জাতীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল ম্যাচে পেনাল্টিতে গোল করে দীর্ঘ ১৪ বছর পর পশ্চিমবঙ্গকে চ্যাম্পিয়নের খেতাব এনে দিয়েছে।

অন্ধ্রপ্রদেশের অনন্তপুরে আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী ‘ডক্টর তালিমেরেন আউ জুনিয়র গার্লস’ ন্যাশনাল ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ’-এর ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ ও মণিপুর। নির্ধারিত সময়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে পেনাল্টি শুটআউটে মণিপুরকে ৩–২ গোলে হারিয়ে এক ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে নেয় বাংলা। পেনাল্টি থেকে ঠান্ডা মাথায় গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে মালদার এই প্রতিশ্রুতিমান ফুটবলার।

বুধবার চ্যাম্পিয়ন হয়ে গ্রামে ফিরতেই উৎসবের আবহ তৈরি হয় হরিশ্চন্দ্রপুরে। এলাকার সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশিষ্টজনেরা সুদীপ্তাকে ফুল ও মালা পরিয়ে সংবর্ধনা জানান। হরিশ্চন্দ্রপুর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আমিনুল হক সুদীপ্তার হাতে সংবর্ধনা হিসেবে তুলে দেন একটি ফুটবল। রায়গঞ্জ হাতিয়া হাইস্কুলের অষ্টম শ্রেণির এই ছাত্রীর ফুটবল যাত্রা শুরু মাত্র সাত বছর বয়সে। সুদীপ্তার প্রথম কোচ ছিলেন তাঁর বাবা সুবীর মণ্ডল, যিনি দিনরাত পরিশ্রম করে মেয়েকে গড়ে তুলেছেন। মা দেবশ্রী দাস পেশায় গৃহবধূ।

ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার নেইমারের অনুরাগী সুদীপ্তার স্বপ্ন কিন্তু অনেক বড়—ভবিষ্যতে ভারতীয় জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা। মেয়ের এই সাফল্যে আনন্দাশ্রু ধরে রাখতে পারেননি বাবা সুবীর মণ্ডল। তিনি বলেন, পা ভেঙে যাওয়ার পর ভেবেছিলাম হয়তো খেলাটাই শেষ। কিন্তু মেয়ে হাল ছাড়েনি। প্রচণ্ড কষ্ট ও জেদ নিয়ে আবার অনুশীলনে নেমেছিল। ওর এই সাফল্যে আজ আমরা আপ্লুত ও গর্বিত। হরিশ্চন্দ্রপুর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আমিনুল হক বলেন, সুদীপ্তার এই লড়াই শুধু গ্রামের নয়, গোটা জেলার মেয়েদের নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস দেবে। তাকে দেখে আরও অনেক কিশোরী ফুটবল ময়দানে এগিয়ে আসবে।

চোট যাকে থামাতে পারেনি, সেই সুদীপ্তা আজ পুরো রাজ্যের অহংকার। চোটের কঠিন দিনগুলো পেরিয়ে এখন জাতীয় দলের দরজা ছোঁয়ার নতুন স্বপ্নে বিভোর হরিশ্চন্দ্রপুরের সুদীপ্তা মণ্ডল।

 

প্রতিবেদন

Sandipan Saha