চশমার দোকানের আড়ালে বেআইনি ক্লিনিক, আদালতের নির্দেশে স্বাস্থ্য দপ্তরের হানা
সংবাদদাতা, শান্তিপুর: চশমার দোকানের আড়ালে অবৈধভাবে অপটিক্যাল ক্লিনিক চালিয়ে রোগী দেখার অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়াল নদীয়ার শান্তিপুরে। হাইকোর্টের নির্দেশে বুধবার শান্তিপুর থানার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে নদীয়া জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা স্থানীয় কলেজ মোড় এলাকার একটি জনপ্রিয় অপটিক্যাল দোকানে অভিযান চালান। এই হানাকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্য আধিকারিক ও অপটিক্যাল কর্মীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা ঘিরে এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল যে চশমার দোকানটির ভেতরের অংশে কোনো বৈধ অনুমতি বা প্রয়োজনীয় চিকিৎসাগত লাইসেন্স ছাড়াই নিয়মিত রোগীদের চোখের পরীক্ষা ও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে জল গড়ালে হাইকোর্টের নির্দেশ আসে রাজ্য জুড়ে এই ধরনের বেআইনি ক্লিনিকগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার। সেই নির্দেশ মানতেই রাজ্যব্যাপী অভিযানের অঙ্গ হিসেবে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর শান্তিপুরের কলেজ মোড়ের ওই দোকানটিতে হানা দেয়। স্বাস্থ্য আধিকারিকদের স্পষ্ট বক্তব্য—চশমার দোকানের আড়ালে কোনোভাবেই এভাবে পূর্ণাঙ্গ ডায়াগনস্টিক বা চক্ষু ক্লিনিক পরিচালনা করা যায় না। এটি সম্পূর্ণ বেআইনি ও জনস্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক।
অভিযান চলাকালীন স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রতিনিধিরা বেআইনিভাবে পরিচালিত ক্লিনিকটি সিল করার উদ্যোগ নিলে বিপত্তি ঘটে। অপটিক্যালে কর্মরত অরূপ রায় নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন আধিকারিকরা। মেজাজ হারিয়ে অরূপ রায় স্বাস্থ্য দপ্তরের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলেন। তাঁর পাল্টা দাবি, স্বাস্থ্য দপ্তরকে আগে প্রমাণ করতে হবে যে আমি বেআইনি ক্লিনিক চালাচ্ছি। কোন একজন স্বার্থান্বেষী ব্যক্তির প্ররোচনায় বা ইশারায় স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকরা এই ধরনের ভিত্তিহীন পদক্ষেপ নিচ্ছেন। এই আভিযানে হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে তিনি শীঘ্রই উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলেও হুঙ্কার দেন। যদিও স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বা লাইসেন্স দেখাতে না পারলে চশমার দোকানের আড়ালে চিকিৎসা চালানো একেবারেই সহ্য করা হবে না। পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শান্তিপুরের কলেজ মোড় এলাকায় দীর্ঘক্ষণ ব্যাপক কৌতুহল ও চাঞ্চল্য বজায় থাকে। সমগ্র বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও হাইকোর্টকে রিপোর্ট আকারে পাঠানো হবে বলে স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর।
