বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
নিউ ফারাক্কায় ধস, বাতিল উত্তরবঙ্গগামী সব ট্রেন নিউটাউনে উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টারের শিলান্য়াস মুখ্য়মন্ত্রীর নেপালে ৯ দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার ২ শ্রমিক অভিষেকের ক্য়ামাক স্ট্রিটের অফিস খালির নির্দেশ

স্টেথোস্কোপ থেকে বিজেপির জাতীয় কমিটি! ডাক্তারির মাঝেই বঙ্গকন্যা মধুছন্দার বড় লাফ !

17 August, 2026 7:26 PM Sumantra Mukherjee
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিনিধি : এক হাতে রোগীদের সেবায় স্টেথোস্কোপ, অন্য হাতে রাজনীতির পতাকাতলে সমাজ পরিবর্তনের লড়াই! চিকিৎসা সেবার সুকঠিন পেশার পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতির মূল স্রোতে নিজের স্থান শক্ত করে তাক লাগিয়ে দিলেন বাংলার মেয়ে মধুছন্দা। ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-র পুনর্গঠিত নতুন কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পেয়ে এক লাফে জাতীয় রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন তিনি। বিজেপির ‘নবীন টিমে’ স্থান করে নিয়ে বঙ্গরাজনীতিতেও নতুন বার্তা দিলেন এই তরুণী। কিন্তু কে এই মধুছন্দা? কীভাবে ডাক্তারি পড়ার চেনা গণ্ডি পেরিয়ে দিল্লির রাজনীতির শীর্ষ দরবারে জায়গা করে নিলেন তিনি?

কে এই মধুছন্দা?

বাংলার মেধা ও নেতৃত্বের এক অনন্য মেলবন্ধন এই মধুছন্দা। পেশায় তিনি একজন চিকিৎসক। ডাক্তারি পাস করার পর একদিকে যেমন হাসপাতালে রোগীদের সেবা ও চিকিৎসাসংক্রান্ত নানা কাজের সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন, ঠিক তেমনই অন্যদিকে সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও সমান সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। রাজনৈতিক মহলে তিনি পরিচিত একজন অত্যন্ত স্পষ্ট বক্তা, যুক্তিবাদী ও সুশিক্ষিত মুখ হিসেবে। তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে চিকিৎসা খাতের নানা সমস্যা ও প্রশাসনিক অনিয়মের বিরুদ্ধে তিনি বরাবরই সোচ্চার।

ছাত্র রাজনীতি থেকে উত্থান: লড়াইয়ের ময়দানে বঙ্গকন্যা

মধুছন্দার রাজনীতির পথচলা হঠাৎ করে শুরু হয়নি। চিকিৎসাবিজ্ঞানের জটিল পাঠ নেওয়ার দিনগুলোতেই ছাত্র আন্দোলন ও সামাজিক কাজের মাধ্যমে তাঁর রাজনীতিতে হাতেখড়ি। জাতীয়তাবাদী ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি বিজেপির চিকিৎসক উইং এবং পরবর্তীতে যুব মোর্চার বিভিন্ন স্তরে দায়িত্ব সামলেছেন।

বিশেষ করে স্বাস্থ্য খাতের নানা সঙ্কট ও সাম্প্রতিক চিকিৎসকদের বিভিন্ন আন্দোলনের সময়ে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে স্বাস্থ্য শিবির পরিচালনা, নিখরচায় পরামর্শ দান এবং চিকিৎসকদের অধিকার রক্ষা নিয়ে সোচ্চার হয়ে তিনি রাজ্যজুড়ে নজর কাড়েন। এর পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের টক-শো এবং ডিজিটাল মাধ্যমে যুক্তিনিষ্ঠ ও মার্জিত বক্তব্য তুলে ধরে দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

কীভাবে পেলেন বিজেপির জাতীয় কমিটিতে ঠাঁই?

বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তৈরি নতুন কেন্দ্রীয় টিমে পেশাদার, সুশিক্ষিত ও মাঠপর্যায়ের তরুণ মুখদের বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সেই নতুন সমীকরণেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের গুডবুক-এ উঠে আসে এই বঙ্গকন্যার নাম।

বিজেপি সূত্রে খবর, মধুছন্দার সাংগঠনিক একাগ্রতা, প্রশাসনিক বোঝাপড়া এবং চিকিৎসকদের মতো পেশাদারদের রাজনীতির মূল স্রোতে আনার ক্ষমতাই তাঁকে জাতীয় কমিটিতে ঠাঁই করে দিয়েছে। তাছাড়া, আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গে দলকে আরও শক্তিশালী করতে এবং তরুণ ও সুশীল সমাজের কাছে পৌঁছাতে বাংলা থেকে এই ধরণের শিক্ষিত তরুণ মুখকে তুলে আনা অত্যন্ত কৌশলগত পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

ডাক্তারি ও রাজনীতির মেলবন্ধন

নতুন এই মেগা দায়িত্ব পাওয়ার পর মধুছন্দার দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত স্পষ্ট। তাঁর মতে, রাজনীতি ও চিকিৎসাবিদ্যা—দুটোই মূলত মানুষের সেবা করার দু’টি ভিন্ন মাধ্যম। জাতীয় কমিটিতে জায়গা পাওয়াকে তিনি ক্ষমতার পদ হিসেবে নয়, বরং দেশের সেবা করার বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন। চিকিৎসাসেবা বজায় রাখার পাশাপাশি সারা দেশে তরুণদের সংগঠিত করতে এবং দলের নতুন দায়িত্ব পালন করতে তিনি তৈরি।

প্রতিবেদন

Sumantra Mukherjee