নন্দীগ্রামে প্রচারের মুখেই আটক কংগ্রেসের সুকৃতি রঞ্জন বিশ্বাস ও সমাজকর্মী মানিক ফকির
সংবাদদাতা, পূর্ব মেদিনীপুর: আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পূর্ব মেদিনীপুরের রাজনৈতিক পারদ। নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের হয়ে প্রচারে নামার আগেই পুলিশি পদক্ষেপের শিকার হলেন মতুয়া সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট মুখ তথা বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা সুকৃতি রঞ্জন বিশ্বাস এবং জনপ্রিয় লেখক ও সমাজকর্মী মানিক ফকির। নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের নির্বাচনী প্রচারের মূল দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন সুকৃতি রঞ্জন বিশ্বাস ও মানিক ফকির। বেশ কয়েক দিন ধরে তাঁরা স্থানীয় একটি হোটেলে ছিলেন। মঙ্গলবার রাতে হোটেল থেকেই আচমকা পুলিশ প্রশাসন তাঁদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ সূত্রে প্রথমে আটকের সুনির্দিষ্ট কারণ স্পষ্ট করা না হলেও পরবর্তীতে সুকৃতি রঞ্জন বিশ্বাসকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেওয়া হয়, তবে লেখক মানিক ফকিরকে থানাতেই আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। কোর্টের রায়ে স্বস্তি পেয়েছিলেন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। পুরোনো বেশ কয়েকটি মামলায় গ্রেপ্তার হলেও কলকাতা হাইকোর্ট তাঁকে নির্বাচনের কাজে অংশ নেওয়ার জন্য অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করে।তার জামিন হলেও প্রচারের সামনের সারিতে থাকা শীর্ষ দুই ব্যক্তিত্বের ওপর প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপে হতবাক রাজনৈতিক মহল। এই ঘটনা সামনে আসতেই কড়া ভাষায় প্রতিবাদ জানিয়েছে কংগ্রেস নেতৃত্ব। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, শাসকদল বিরোধীদের ভয় পেয়ে পুলিশকে দিয়ে রাজনৈতিক চক্রান্ত করাচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়াই যদি অপরাধ হয়, তবে তা গণতন্ত্রের জন্য চরম আশঙ্কাজনক। শাসক শিবিরের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক আচরণের অভিযোগ এনে অবিলম্বে মানিক ফকিরের নিশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন দলীয় নেতৃত্ব।
