সম্ভল হিংসা মামলায় NSA–তে আটক ‘বেআইনি’, যোগী সরকারকে জরিমানা শীর্ষ আদালতের
লখনউ: ২০২৪ সালের নভেম্বরে উত্তরপ্রদেশের সম্ভলে হিংসার ঘটনায় অভিযুক্ত মুল্লা আফরোজকে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে (NSA) আটক করার সিদ্ধান্তকে খারিজ করে দিল শীর্ষ আদালত। বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি শীল নাগুর বেঞ্চ জানিয়ে দিল, পুলিশ হেফাজতে দেওয়া স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে আগাম সতর্কতার যুক্তি দেখিয়ে কাউকে আটক করা যায় না। পাশাপাশি মুল্লা আফরোজকে আটক করে রাখার জন্য যোগী সরকারকে ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট।
দুবছর আগের সম্ভলের ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা দেশ। আদালতের নির্দেশ মতো সম্ভলের একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সমীক্ষা করতে একটি দল এলাকায় গেলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় সংঘর্ষ। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে মারামারিতে ২ জনের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার জন্য একাধিক মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশের দাবি ছিল, মুল্লা আফরোজই ওই হিংসার ঘটনার মূল অভিযুক্ত। তার ভিত্তিতেই ২০২৫–এর ১৭ জানুয়ারি গ্রেপ্তার করা হয় আফরোজকে। তাঁকে আদালত বিচার বিভাগীয় হেফাজত দেয়। হেফাজতে থাকাকালীন সময়েই ২০২৫–এর ১৩ অক্টোবর সম্ভলের জেলাশাসক জাতীয় নিরাপত্তা আইনের ৩ নম্বর ধারায় আফরোজকে আটকের নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে এলাহাবাদ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন আফরোজ। কিন্তু হাইকোর্ট জাতীয় নিরাপত্তা আইনের পক্ষেই মত দেয়। এরপরই সুপ্রিম কোর্টে যান মুল্লা আফরোজ। মঙ্গলবার সর্বোচ্চ আদালত এলাহাবাদ হাইকোর্টের দেওয়া রায়ও খারিজ করে দিল।
এদিন সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা আইন প্রয়োগ করার সময় উপযুক্ত তথ্য–প্রমাণ যথাযথ ভাবে বিবেচনা করা হয়নি। ফলে আদালত মনে করছে, ওই আইনের ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিতেই ত্রুটি ছিল বলে । এর পরেই জাতীয় নিরাপত্তা আইনে আটক এবং সেটি বহাল রাখার পরবর্তী নির্দেশ— দু’টিই খারিজ করে দেয় শীর্ষ আদালত। শুধু তাই নয়, আদালতের মতে, প্রতিরোধমূলক আটক অর্থাৎ ডিটেনশনের ক্ষমতা এক্ষেত্রে বেআইনি ভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল। সেই কারণেই আদালত উত্তরপ্রদেশ সরকারের ওপরে ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা আরোপ করল।
