তৃণমূল-বিজেপির দ্বিমেরু রাজনীতি: বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক সুজনের
সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: বিজেপি ও তৃণমূলের বাইরে গিয়ে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের সুরক্ষায় বৃহত্তর গণ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানালেন সিপিআইএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী। সোমবার শিলিগুড়ির অনিল বিশ্বাস ভবনে দলীয় বৈঠকে যোগ দেন তিনি। তারপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি সম্পর্কিত একাধিক বিষয়ে সরব হন। সুজন বলেন, বর্তমান পশ্চিমবঙ্গে শুধু দলীয় রাজনীতিই প্রধান হয়ে উঠেছে। অথচ সাধারণ মানুষের মৌলিক সমস্যা, শিক্ষা ব্যবস্থার বেহাল দশা এবং গণতান্ত্রিক অধিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি মূল রাজনৈতিক আলোচনা থেকে সরে গেছে। রাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং ছাত্রদের ওপর ঘন ঘন হামলার ঘটনায় রাজ্য সরকারের সমালোচনা করেন তিনি। সম্প্রতি সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, শিক্ষাঙ্গনে এই ধরনের পরিবেশ কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। শিক্ষার গুণমান রক্ষা করা এবং শিক্ষাঙ্গনে মুক্ত চিন্তার চর্চা ফিরিয়ে আনতে অবিলম্বে পদক্ষেপ প্রয়োজন। এছাড়াও রাজ্যের সংস্কৃতি ও সুস্থ সামাজিক পরিবেশ রক্ষায় জোরালো আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন এই প্রবীণ বাম নেতা । পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাও বর্তমানে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারছে না। ফলে সাধারণ নাগরিক, বিশেষ করে সংখ্যালঘু, দলিত ও তরুণ প্রজন্মের গণতান্ত্রিক অধিকার ও নিরাপত্তা আজ প্রশ্নের মুখে। এই সব বঞ্চিত শ্রেণির অধিকার সুরক্ষিত করতে তাঁদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের পথে হাঁটার পরামর্শ দেন সুজন। সাংবাদিক বৈঠকে সিপিআইএম নেতা জানান, তৃণমূল ও বিজেপির দুই মেরুর রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে মানুষের আসল সমস্যাগুলিই রাজনৈতিক কর্মসূচির কেন্দ্রে থাকা উচিত। তিনি বলেন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের পুনর্বহালকে সুনিশ্চিত করতে দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একটি বৃহত্তর গণআন্দোলন গড়ে তোলাই এখন সময়ের দাবি।
