বিহারের লখিসরাইয়ের মন্দিরে হুড়োহুড়ি, মৃত কমপক্ষে ৭
পাটনা: শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবারের শিবের পুজো দিতে গিয়ে পদপিষ্ট হলেন ৭ মহিলা। আহত কমপক্ষে ১২ জন।
বিহারের লখিসরাইয়ের অশোকধাম মন্দিরের এই ঘটনায় তোপের মুখে বিহার সরকার। প্রাথমিক তদন্তের পর জেলা প্রশাসনের ধারণা, এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে উপচে পড়া ভিড় এবং গুজব। প্রত্যদর্শীদের অভিযোগ , ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে না পারার জন্যই এই মর্মান্তিক ঘটনা। যদিও জেলাশাসক শৈলেন্দ্র কুমার দাবি করেছেন, মন্দির কর্তৃপক্ষ ভিড় নিয়ন্ত্রণের সবরকম চেষ্টা করেছিল।
জানা গেছে, রবিবার মন্দিরের নিকটবর্তী স্টেশন অশোকধাম হল্টে সকাল সাড়ে ৬টা থেকে পৌনে ৭টার মধ্যে পূণ্যার্থী বোঝাই দুটো ট্রেন পরপর এসে থামে। বিপুল সংখ্যক মানুষ ট্রেন দুটি থেকে নামেন ইন্দ্রদমনেশ্বর মন্দিরে পুজো দেওয়ার জন্য। স্টেশন চত্বর থেকেই মন্দিরে ঢোকার লাইন পড়ে যায়। লাইনের দৈর্ঘ্য ছ’কিলোমিটার ছাড়িয়ে যায়। এটিই জেলার অন্যতম বিখ্যাত শিবমন্দির। জেলা প্রশাসনের দাবি, পুরুষদের লাইনের ডান দিকে একটি খুঁটি পড়ে যায়। তাতেই রটে যায় যে, বিদ্যুতের পোস্ট গায়ে পড়ায় অনেকেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছেন।
তারপরেই হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। ব্যারিকেড ভেঙে দৌড়োদৌড়ি শুরু করেন পুণ্যার্থীরা। তখনই পড়ে গিয়ে অন্যদের পায়ের চাপে মৃত্যু হয় ৭ মহিলার। প্রশাসনের দাবি, ভেঙে পড়া খুঁটিতে বিদ্যুৎ নয়, কেব্ল লাইনের তার ছিল। জানা গেছে, সোমবার সকালে মন্দিরচত্বরে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের ভিড় ছিল। ধাক্কাধাক্কিতে অনেকে অসুস্থও হয়ে পড়েছেন। লখিসরাই হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা চলছে।
ইতিমধ্যেই এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে মন্দিরচত্বরে বিশাল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘লখিসরাইয়ে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় আমি ব্যথিত। এই শোকের সময় আমি শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলিকে সমবেদনা জানাচ্ছি। এই ঘটনা আবারও বড় ধর্মীয় সমাবেশগুলিতে ভিড় নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জকে সামনে নিয়ে এল।
