বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
নিউ ফারাক্কায় ধস, বাতিল উত্তরবঙ্গগামী সব ট্রেন নিউটাউনে উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টারের শিলান্য়াস মুখ্য়মন্ত্রীর নেপালে ৯ দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার ২ শ্রমিক অভিষেকের ক্য়ামাক স্ট্রিটের অফিস খালির নির্দেশ

ভাঙড় থেকে আল-কায়েদা যোগে ২ জঙ্গি গ্রেপ্তার, মেগা ছক ফাঁস এসটিএফের

17 August, 2026 4:10 PM Sumantra Mukherjee
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদন : তিলোত্তমা কলকাতা এবং তার সংলগ্ন শহরতলিকে কি ধীরে ধীরে ‘নিরাপদ আশ্রয়’ বা সেফ হাউস বানিয়ে ফেলছে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনগুলো? গত কয়েকদিনে কলকাতা ও তার আশেপাশের জেলাগুলো থেকে একের পর এক সন্দেহভাজন জঙ্গি ও উগ্রপন্থী গ্রেফাতারের ঘটনা সেই আশঙ্কাই সত্যি প্রমাণ করছে। এবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় ও বিড়লাপুর নোদাখালি এলাকায় অভিযান চালিয়ে আল-কায়েদার মডিউল সক্রিয় করার অভিযোগে দুই বিপজ্জনক জঙ্গিকে গ্রেফতার করল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)।

ধৃতদের নাম জনাদুল বেগ ওরফে জিন্নাতুল কিবরিয়া ওরফে টুটুল বেগ এবং শফিক শেখ। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃত দু’জনই আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ‘আল-কায়েদা ইন ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট’ (AQIS) এবং পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই (ISI)-এর নেটওয়ার্কের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

কলকাতা ও শহরতলিতে বসে কী ছক কষছিল জঙ্গিরা ?

গত কয়েকদিনে কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলো থেকে একের পর এক জঙ্গি মডিউলের খোঁজ মেলায় বড়সড় উদ্বেগে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। তদন্তে উঠে আসছে, কলকাতা ও তার আশেপাশের জেলাগুলোকে কেন্দ্র করে তিনটি প্রধান উদ্দেশ্যে নিজেদের জাল বিছানোর ছক কষেছিল এই জঙ্গিরা। ঘনবসতিপূর্ণ শহরতলি এবং তুলনামূলক শান্ত এলাকাগুলোকে গোপন আস্তানা বানিয়ে ‘আল-কায়েদা ইন ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট’-এর নতুন স্লিপার সেল তৈরি করা। ভাঙড় ও নোদাখালিকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা সহ আশেপাশের জেলাগুলোতে সংগঠন বিস্তার করাই ছিল এদের মূল লক্ষ্য।

ডিজিটাল মাধ্যমকে প্রধান অস্ত্র বানিয়ে তরুণ সমাজকে উগ্রপন্থার দিকে টেনে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ধৃতরা দীর্ঘদিন ধরে ‘মুঘলে আজম’ এবং ‘জিহাদ-ই-সবিবিল্লাহ’ নামে দুটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করে ভারতবিরোধী প্রচার চালাচ্ছেল এবং উসকানিমূলক বার্তা ছড়িয়ে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সংগঠনের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছিল।

বহিরাগত উগ্রপন্থীদের লুকিয়ে থাকা, জাল পরিচয়পত্র তৈরি এবং গোপন অর্থ লেনদেনের জন্য কলকাতাকে একটি কৌশলগত ‘কন্ট্রোল সেন্টার’ বা লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার ষড়যন্ত্র চলছিল।

ভাঙড়ের ভাড়া বাড়িতে বসে ‘নীরব’ অপারেশন !

এসটিএফের তদন্তে ভাঙড়ের গ্রেফতারি ঘিরে উঠে এসেছে হাড়হিম করা সব তথ্য। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ের পানাপুকুর এলাকায় একটি ঘর ভাড়া নিয়ে থাকত জিন্নাতুল কিবরিয়া ওরফে টুটুল। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে সে একা ওই বাড়িতে বসবাস করছিল। সারাদিনের মধ্যে খুব একটা বাইরে বেরোত না। দিনের বেশিরভাগ সময় ঘরের দরজা বন্ধ করে মোবাইলে কাটাত।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, আগে ল্যাপটপ বা কম্পিউটার ব্যবহার করলেও গোয়েন্দাদের নজরদারি এড়াতে সাম্প্রতিক সময়ে অত্যন্ত সতর্ক হয়ে গিয়েছিল টুটুল। যাবতীয় কাজ সে গোপন এনক্রিপ্টেড মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সম্পন্ন করত। মাঝে মধ্যে কিছু অজ্ঞাতপরিচয় লোক গভীর রাতে বা গোপনে তার সঙ্গে দেখা করতে আসত। কিন্তু তাদের পরিচয় বা ভেতরে কী ধরনের কার্যক্রম চলত, সে বিষয়ে প্রতিবেশীরা কিছুই টের পাননি।

আইএসআই সংযোগ ও এসটিএফের পরবর্তী পদক্ষেপ

অন্যদিকে, বিড়লাপুর বা নোদাখালি এলাকা থেকে গ্রেফতার হওয়া শফিক শেখের সঙ্গেও পাক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই (ISI)-এর সরাসরি যোগাযোগের প্রমাণ পেয়েছে এসটিএফ। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃত দু’জন দীর্ঘদিন ধরে দেশবিরোধী নানাবিধ কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তাদের প্রচারের ধরন, ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট এবং যোগাযোগের মাধ্যমগুলো এখন গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ভাঙড় ও নোদাখালির এই আস্তানাগুলোকে কেন্দ্র করে আশপাশের আরও কোন কোন জেলায় এরা জাল বিছিয়েছিল এবং এদের পিছনে আর কে বা কারা যুক্ত রয়েছে, তা বের করতে মরিয়া এসটিএফ। কলকাতা ও তার আশপাশের এলাকায় এই মডিউলের অন্য কোনো সক্রিয় সদস্য লুকিয়ে রয়েছে কি না, ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে সেই উত্তরই খুঁজছেন তদন্তকারীরা।

প্রতিবেদন

Sumantra Mukherjee