‘মৃত্যু ফাঁদে’র বলি? শালবনিতে ৩ হাতির রহস্য মৃত্যু
সংবাদদাতা, শালবনি: পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনির পিড়াকাটা রেঞ্জের রঞ্জা বিটের হাড়তড়া গ্রামে মর্মান্তিক দৃশ্য। একটি মা হাতির পাশে মিলল দুই দুই ছানার দেহও! রবিবার সকালে দুই শাবককে জড়িয়ে ধরে মা হাতির নিথর দেহ চাষের জমির মধ্যে পড়ে থাকতে দেখেন বাসিন্দারা। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসেই মৃত্যু হয়ে মা ও শাবকদুটির। কারণ, যেখানে হাতিগুলির দেহ পড়েছিল, সেই জমির ওপর দিয়েই চাষবাসের প্রয়োজনে বিদ্যুতের তার নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ঘটনাস্থলের একদম কাছে একটি খোলা তার ঝুলতেও দেখা গিয়েছে। বনদপ্তরে খবর দেওয়া হলে তারা এসে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। পিড়াকাটা রেঞ্জের ফরেস্ট অফিসার শুভাশিস চৌধুরি জানিয়েছেন, মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনই বলা যাবে না। জমিতে পাম্প চালানোর জন্য বিদ্যুতের সংযোগ নেওয়া হয়েছিল। সেই তারেই হাতিগুলি তড়িদাহত হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।
এদিকে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানিয়েছেন, শনিবার প্রচণ্ড ঝড়বৃষ্টি হচ্ছিল। রাত মধ্যেই রাত ১১টা নাগাদ তাঁরা কাছেপিঠে হাতির চিৎকার শুনেছিলেন। হয়ত সেই সময়ই হাতিগুলি তড়িতাহত হয়ে ছিল। এদিকে ঘটনার খবর সামনে আসতেই উঠতে শুরু করেছে একাধিক প্রশ্ন। বলা হচ্ছে, হাতি চলাচলের এলাকায় ধানজমির ওপর দিয়ে বিদ্যুতের তার কীভাবে নেওয়া হয়েছিল? তারের উচ্চতা ও নিরাপত্তাবিধি ঠিক ছিল কিনা উঠছে সেই প্রশ্নও। বিদ্যুতের সংযোগ আদৌ নিয়ম মেনে নেওয়া হয়েছিল কি না তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। ফলে বন দপ্তর এবং বিদ্যুৎ দপ্তরের নজরদারির নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ উঠেছে, হাতির হাত থেকে ফসল বাঁচাতে জমি বিদ্যুতের তার দিয়ে ঘিরে রাখেন কোনও কোনও কৃষক। আগেও সেই তার ছুঁয়ে মৃত্যু হয়েছে একাধিক হাতির। এদিকে একসঙ্গে মা হাতি ও তার দুই ছানার মৃত্যুতে মন ভার এলাকার মানুষজনের।
