উত্তরপ্রদেশে বৃষ্টির তাণ্ডব, ভাসছে বহু জেলা-শহর, ৪৮ ঘণ্টায় মৃত ১৭
লখনউ: টানা ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত উত্তরপ্রদেশ। গত ৪৮ ঘণ্টায় বৃষ্টি ও ঝড়ে বিভিন্ন ঘটনায় অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। বহু জায়গায় বাড়ি ও দেওয়াল ভেঙে পড়েছে। জলমগ্ন লখনউ, প্রয়াগরাজ-সহ একাধিক বড় শহর। পরিস্থিতির অবনতিতে ৩২ জেলায় ফ্ল্যাশ ফ্লাডের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
ভারী বৃষ্টির জেরে বিভিন্ন জেলায় ব্যাহত হয়েছে স্বাভাবিক জনজীবন। রেল ও বিমান পরিষেবাতেও এর প্রভাব পড়েছে। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে একাধিক জেলায় স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখা হয়েছে এবং কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তরপ্রদেশে গড়ে ৫২.৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ১৯ গুণ বেশি। রাজ্যের ৭৫টি জেলার মধ্যে ৬৩টি জেলায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে। লখনউয়ের কয়েকটি এলাকায়ও অত্যন্ত ভারী বৃষ্টি হয়েছে।
প্রবল বৃষ্টিতে মৃত্যুর খবর এসেছে আমেঠি, বাহরাইচ, বান্দা, বরাবাঁকি, বস্তি, ফতেপুর, হামিরপুর, হরদই, কানপুর নগর সহ একাধিক জেলা থেকে। লখিমপুর খেরিতে চারজন এবং অযোধ্যায় দু’জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে।
বাহরাইচ, বলরামপুর, শ্রাবস্তী ও গোন্ডা সহ একাধিক জেলায় পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। কয়েকটি এলাকায় লাল সতর্কতা জারি হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টাতেও রাজ্যের বিভিন্ন অংশে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। পূর্ব ও পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ দুই অঞ্চলেই বজ্রবিদ্যুৎ ও ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।
চিত্রকূটের পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। ভারী বৃষ্টির জেরে মন্দাকিনী নদীর জলস্তর বেড়ে গিয়ে শহরের কিছু এলাকায় জল ঢুকেছে। অন্যদিকে লখনউয়ের বহু রাস্তা ও আবাসিক এলাকাও জলমগ্ন। গ্রামাঞ্চলে ক্ষতির মুখে পড়েছে ফসল ও গবাদি পশু।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনকে সর্বক্ষণ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ মানুষকে বাড়ির বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত ফসল ও গবাদি পশুর ক্ষয়ক্ষতির হিসাব তৈরি করে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস, রবিবারও উত্তরপ্রদেশের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টি চলবে। পশ্চিমাঞ্চলে কমলা সতর্কতা এবং পূর্বাঞ্চলে হলুদ সতর্কতা জারি রয়েছে।
