বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
টাইগার শ্রফের উপর হামলায় ধৃত আরও ৪ আজ বিজয়া দশমী, ঘাটে ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন ভারতের সঙ্গে চুক্তি অন্যরকম, জানালেন ট্রাম্প দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

‘জ্ঞানেশ কুমার হঠাও’— দেশজুড়ে আন্দোলন কংগ্রেসের, হঠাৎ বেসুরো চিরাগ

25 September, 2026 8:40 PM Lopa Bhowmik
শেয়ার করুন

সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হল। নির্বাচন কমিশনের অন্দরে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা SIR নিয়ে দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তির খবর প্রকাশ্যে আসার পর শুক্রবার দেশজুড়ে আন্দোলনে নামল কংগ্রেস। দিল্লি, কলকাতা, চণ্ডীগড়, লখনউ, পাটনা, গুয়াহাটি-সহ একাধিক জায়গায় রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দপ্তরের দিকে মিছিল করে এগিয়ে যান কংগ্রেস ও যুব কংগ্রেসের কর্মীরা। আন্দোলন প্রতিহত করতে কোথাও পুলিশ জলকামান ব্যবহার করেছে, কোথাও বিক্ষোভকারীদের আটক করা হয়েছে। যাঁদের আটক করা হয়েছে,তাঁদের মধ্যে আছেন যোগেন্দ্র যাদব, নেহা বরা, দীপঙ্কর ভট্টাচার্য প্রমুখ।
নয়াদিল্লি ছাড়াও এদিন অআন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। কলকাতা, শ্রীনগর, পুদুচেরি, সিমলা, দেরাদুন, জম্মু সহ দেশের অন্যত্র। কংগ্রেস নেতারা দাবি করেন, অবিলম্বে জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতে হবে এবং তাঁকে গ্রেপ্তার করতে হবে। তাদের আরও দাবি, তাঁর আমলে নির্বাচন ও ভোটার তালিকা সংক্রান্ত যে সিদ্ধান্তগুলি নেওয়া হয়েছে, সেগুলির স্বাধীন ও পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা প্রয়োজন। কংগ্রেসের আন্দোলনের পরবর্তী ধাপ হিসেবে ২৮ সেপ্টেম্বর দেশজুড়ে জেলা কংগ্রেস কমিটিগুলির জেলা প্রশাসনিক দপ্তর পর্যন্ত মিছিল করার কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে।
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও জ্ঞানেশ কুমারকে সরাসরি নিশানা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন এবং সংবিধানের মধ্যে যে সাংবিধানিক সম্পর্ক থাকা উচিত, তা নষ্ট হচ্ছে। জ্ঞানেশ কুমারকে তাঁর ভাষায় ‘অ্যাপ্রুভার’ হওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
কংগ্রেসের যাবতীয় অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে একটি সংবাদ প্রতিবেদন, যেখানে দাবি করা হয়েছে, গত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশি কমিশনের কিছু সিদ্ধান্ত ও নির্দেশ নিয়ে অন্তত ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন। বিশেষ করে SIR, ভোটার সংক্রান্ত তথ্য এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে তাঁদের আপত্তির কথা ওই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
এর মধ্যেই বিজেপির শরিক দল লোক জনশক্তি পার্টি (রামবিলাস)-এর নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসোয়ানের বক্তব্যে অন্য সুর শোনা গিয়েছে। তাঁর মতে, নির্বাচন কমিশনের কাজ নিয়ে যদি মানুষের মনে প্রশ্ন তৈরি হয়, তাহলে সেই প্রশ্নের জবাব কমিশনকেই স্পষ্টভাবে দিতে হবে। তাঁর বক্তব্য, বিষয়টি রাহুল গান্ধীকে বোঝানোর জন্য নয়, সাধারণ মানুষের আস্থা বজায় রাখার জন্য কমিশনের অবস্থান পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
বিজেপি অবশ্য সমস্ত অভিযোগ সরাসরি খারিজ করেছে। বিজেপির মুখপাত্র সম্বিত পাত্রের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের ভিতরে মতপার্থক্য থাকতেই পারে এবং আলোচনার পরেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বিজেপির মুখপাত্র সুধাংশু ত্রিবেদী সংবাদ প্রতিবেদনের ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কমিশনারদের সরাসরি বক্তব্য প্রতিবেদনে নেই। তিনি SIR প্রক্রিয়াকে আইনসঙ্গত এবং কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণকে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে হয়েছে বলে দাবি করেছেন।
এই পরিস্থিতিতে জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত এখন আর শুধু সংসদ বা সাংবাদিক বৈঠকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। রাজপথেও তার প্রভাব পড়ছে। তাই দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দপ্তরের সামনে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। অন্যত্র পুলিশ বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণে জলকামান ব্যবহার করেছে এবং আটক করেছে।

প্রতিবেদন

Lopa Bhowmik