শ্রমমন্ত্রীর কড়া বার্তা, বন্ধ বাগান খুলতে ৭ দিনের সময়সীমা
সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: চা বাগান শ্রমিকদের বোনাস, বন্ধ চা বাগান চালু করা, শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা মেটানো-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে শুক্রবার শিলিগুড়ির দাগাপুর কমপ্লেক্সের শ্রমিক ভবনে হল জরুরি বৈঠক। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শ্রম দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী অর্জুন সিং। উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন চা বাগান সংস্থার প্রতিনিধির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকরাও। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শ্রমমন্ত্রী জানান, চা বাগান শ্রমিকদের জন্য ইতিমধ্যেই ২০ শতাংশ বোনাস ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, ইতিমধ্যে ১৯টি চা বাগান সংস্থা শ্রমিকদের বোনাস দিয়ে দিয়েছে। বাকি সংস্থাগুলিও বোনাস দেওয়ার কথা জানিয়েছে। ফলে বোনাস নিয়ে শ্রমিকদের সমস্যায় পড়তে হবে না বলেই তাঁর ধারনা।তবে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা চা বাগানগুলিকে নিয়ে এদিন কড়া বার্তা দেন মন্ত্রী।
তাঁর বক্তব্য, বন্ধ বাগানগুলি দ্রুত চালু করার জন্য সংস্থাগুলিকে শেষবারের মতো সতর্ক করা হয়েছে। যেসব সংস্থা শ্রমিকদের বকেয়া মিটিয়ে বাগান পুনরায় চালাতে চাইবে, তাদের সুযোগ দেওয়া হবে। আর যারা বকেয়া পরিশোধ করবে না, তাদের হাত থেকে বাগান নিয়ে অন্য সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এ জন্য ৭ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রীর আরও অভিযোগ, অতীতে একাধিক ভুল চুক্তি ও সিদ্ধান্তের কারণে বহু চা বাগান সমস্যায় পড়েছে। বিভিন্ন সংস্থার বিরুদ্ধে শ্রমিকদের ভবিষ্যনিধি ও কর্মচারী রাজ্য বিমার টাকা জমা না দেওয়া-সহ শ্রমিকদের পাওনা না মিটিয়ে চলে যাওয়ার মতো অভিযোগ রয়েছে। তাঁর দাবি, আগের বৈঠক থেকে এদিন পর্যন্ত প্রায় ১০০ কোটি টাকার কাছাকাছি ভবিষ্যনিধির টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও সেই টাকা উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলছে। গতকাল রাতেও এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৮০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
বন্ধ চা বাগান থেকে বেআইনিভাবে চা পাতা বিক্রির অভিযোগ নিয়েও কড়া পদক্ষেপের কথা জানান শ্রমমন্ত্রী। বিষয়টির ওপর নজরদারির জন্য বিশেষ টাস্ক ফোর্স তৈরি করা হয়েছে । কোন বন্ধ বাগান থেকে কীভাবে পাতা বিক্রি হচ্ছে, তা নিয়ে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিয়ম মেনে চা পাতা বিক্রি হলে আপত্তি নেই, তবে বেআইনি বা অসৎ উপায়ে বিক্রি করা যাবে না বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।
চা বাগান শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে নতুন সংস্থাগুলিকেও সুযোগ দেওয়ার কথা জানান অর্জুন সিং। কোনও ভালো সংস্থা বা উদ্যোক্তা বাগান চালাতে চাইলে ও আগের বকেয়া পরিশোধ করে এগিয়ে এলে, সরকার নতুন প্রস্তাবের ভিত্তিতে তাদের কাজের সুযোগ দেবে। প্রয়োজনে নতুন করে চুক্তি ও ঋণের ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানান তিনি।মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে চা বোর্ড, শ্রম দপ্তর, শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তর ও ভূমি দপ্তর – চা বাগান শিল্পের সঙ্গে যুক্ত চারটি দপ্তরকে নিয়ে সরকার দ্রুত সমস্যার সমাধানে কাজ করছে বলেও জানান মন্ত্রী।
উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও ডুয়ার্স মিলিয়ে প্রায় ৩৫টি চা বাগান এই সমস্যার আওতায় রয়েছে। এর মধ্যে ২১টি বাগান সরকারি ভাবে বন্ধ হিসেবে নথিভুক্ত। বাকি বাগানগুলিতে বেআইনিভাবে কাজ চালানোর অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি, এই ঘটনাগুলির সঙ্গে যুক্ত অভিযোগের ভিত্তিতে ২৮ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
চা বাগান শিল্পকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে এনে শ্রমিকদের অধিকার ও বকেয়া পাওনা নিশ্চিত করতেই সরকার কড়া পদক্ষেপ করছে বলে বৈঠকে স্পষ্ট করেন শ্রমমন্ত্রী।।
