বন্দে মাতরম ১৫০: উদযাপন মালদহে
সংবাদদাতা, মালদহ: বন্দে মাতরম-এর ১৫০ বছর উদযাপন উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হল মালদহ শহরের অরবিন্দ পার্ক সরস্বতী শিশু মন্দিরে। বিদ্যা ভারতী পরিচালিত এই অনুষ্ঠান ঘিরে শুক্রবার সকাল থেকেই ছিল উৎসবের পরিবেশ। স্কুল চত্বর সুন্দরভাবে সাজিয়ে তোলা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজ্যের স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ। উপস্থিত ছিলেন ইংরেজবাজারের বিধায়ক তথা রাজ্য বিধানসভার মুখ্য সচেতক অম্লান ভাদুড়ি, বিশিষ্ট সমাজসেবী অজয় গাঙ্গুলি, প্রতাপ সিং-সহ বিশিষ্টজনেরা। অনুষ্ঠানের শুরু হয় স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা, উপস্থিত অতিথি এবং শতাধিক ছাত্রছাত্রীর সমবেত কণ্ঠে বন্দে মাতরম গাওয়ার মধ্যে দিয়ে। এরপর বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রতিকৃতিতে মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যের স্কুলশিক্ষামন্ত্রী বলেন, বন্দে মাতরম কেবল একটি গান নয়, এটি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল মন্ত্র এবং আমাদের জাতীয় চেতনার প্রতীক। বঙ্কিমচন্দ্রের এই অনন্য সৃষ্টি পরাধীন ভারতের ঘুমন্ত জাতিকে জাগিয়ে তুলেছিল। আজকের তরুণ প্রজন্মের কাছে এই গানের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব পৌঁছে দেওয়া আমাদের কর্তব্য। ইংরেজবাজারের বিধায়ক তথা রাজ্য বিধানসভার মুখ্য সচেতক অম্লান ভাদুড়ি তাঁর বক্তব্যে জাতীয় সঙ্গীতের ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন, ১৮৭৫ সালে রচিত এই গানটি কীভাবে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন থেকে শুরু করে ভারতের সমগ্র স্বাধীনতা সংগ্রামে বীর বিপ্লবীদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। ফাঁসির মঞ্চেও বিপ্লবীরা হাসিমুখে এই গান গেয়ে গিয়েছেন। বিশিষ্ট সমাজসেবী অজয় গাঙ্গুলি এবং প্রতাপ সিং ভারতীয় সংস্কৃতি ও মূলবোধ রক্ষায় বিদ্যা ভারতীর এই ধরনের উদ্যোগের প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ছিল স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। তাদের গান, আবৃত্তি ও নাটক দর্শকদের মুগ্ধ করে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জাতীয়তাবোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ বলে জানিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
