বাদ পড়া ভোটারদের নাম তুলতে হবে— দাবি বাম মহিলা গংগঠনের, CEO অফিস অভিযানে ধুন্ধুমার
সংবাদদাতা, কলকাতা: এসআইআর-এর জেরে ভোটাধিকার হারানোর আশঙ্কায় হাজার হাজার সাধারণ মানুষ। সেই বাদ পড়া ভোটারদের নাম তালিকায় ফিরিয়ে আনার দাবি এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগে শুক্রবার রাজপথে নামে বাম মহিলা সংগঠন। সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের দাবিতে এদিন কলকাতার সিইও অফিস অভিযানের ডাক দেওয়া হয়। তবে সিইও অফিসে পৌঁছানোর আগেই বি বি গাঙ্গুলি স্ট্রিটে পুলিশ ব্যারিকেড করে মিছিল আটকে দেয়। তৈরি হয় ধুন্ধুমার পরিস্থিতি। ব্যারিকেড ভাঙতে না পেরে রাস্তা আটকে অবস্থান বিক্ষোভে বসে পড়েন বাম নেতৃত্ব ও কর্মী-সমর্থকেরা।
এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাম বাদ পড়ার পর বহু ভোটারের আবেদন এখনও ট্রাইবুনালের বিচারাধীন। ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচন। অথচ তার আগে বাদ পড়া ভোটাররা জানেন না যে তাঁরা শেষ পর্যন্ত ভোট দিতে পারবেন কি না। এই অনিশ্চয়তার আবহেই রাজপথে নামার সিদ্ধান্ত বাম মহিলা সংগঠনের। শুক্রবার দুপুরে ধর্মতলা থেকে বাম মহিলা কর্মী-সমর্থকদের একটি মিছিল সিইও অফিসের দিকে রওনা দেয়। দলীয় পতাকা, ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে সংগঠনের মহিলারা প্রতিবাদে সামিল হন। মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় এবং রাজ্য কমিটির সদস্য কনীনিকা ঘোষ বোস। মিছিলটি বি বি গাঙ্গুলি স্ট্রিটে পৌঁছাতেই বিশাল পুলিশ বাহিনী ব্যারিকেড করে পথ আটকায়। ক্ষোভে ফেটে পড়েন আন্দোলনকারীরা। পুলিশের সাথে মিছিলকারীদের তীব্র বচসা ও ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। ব্যারিকেড ভেঙে সিইও অফিসের দিকে এগোনোর চেষ্টা করা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। শেষ পর্যন্ত এগোতে না পেরে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে কর্মীরা রাস্তার ওপরই বসে পড়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। আচমকা এই পথ অবরোধের ফলে সেন্ট্রাল এভিনিউ এবং বি বি গাঙ্গুলি স্ট্রিট সংলগ্ন এলাকায় যানজট তৈরি হয়। আন্দোলনকারীদের মূল দাবি ছিল সিইও অফিসে যেতে দিতে হবে এবং রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের কাছে ডেপুটেশন বা স্মারকলিপি জমা দেওয়ার অনুমতি দিতে হবে। এদিন মীনাক্ষী অভিযোগ করেন, সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে, তাঁদের হয়ে কথা বলতে আসা গণতান্ত্রিক অধিকার। পুলিশ অন্যায়ভাবে পথ আটকেছে। সিইও অফিসে গিয়ে স্মারকলিপি জমা দিতে না দিলে এবং সিইও ডেপুটেশন গ্রহণ না করা পর্যন্ত তাঁরা অবস্থান থেকে সরবেন না। এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভেতরের সাম্প্রতিক টানাপোড়েন ও অন্তর্দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসার পর কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সব বিরোধী দলই। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে জাতীয় স্তরে বিরোধীরা একজোট হচ্ছেন। সংসদে তাঁর বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার তোড়জোড়ও শুরু করেছে বিরোধী দলগুলি। এই ইস্যুতে বামেরা সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে অন্যান্য বিরোধী দলগুলির সঙ্গে একমত হয়েছে। তবে রাজ্যের ক্ষেত্রে তাঁদের প্রথম ও প্রধান দাবি নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনের আগেই বাদ পড়া প্রকৃত ভোটারদের তালিকাভুক্ত করে ভোটাধিকার নিশ্চিত করা। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বি বি গাঙ্গুলি স্ট্রিটে বাম মহিলা সংগঠন অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে। সিইও অফিসের নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। একদিকে সিইও-র সঙ্গে সাক্ষাতের দাবিতে অনড় আন্দোলনকারীরা, অন্যদিকে পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে সচেষ্ট। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা চলছে, তবে দাবি না মানা পর্যন্ত রাজপথ ছাড়তে নারাজ আন্দোলনকারীরা।
