বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
রবীন্দ্র সরোবরে সাঁতার শিখতে গিয়ে মৃত্য়ু শিক্ষার্থীর ফারাক্কায় দ্রুত গতিতে চলছে লাইন মেরামতির কাজ মালদা মেডিকেলে শিশুমৃত্য়ুর জের, সাসপেন্ড সুপার এবার রাজ্য়ের মডেল স্কুল প্রকল্পে সিএম শ্রী ইন্সটিউট, ঘোষণা মুখ্য়মন্ত্রীর

রিয়ালকে টপকে রদ্রিকে ছিনিয়ে নিল বার্সা, সিটির বিশ্বকাপজয়ী তারকা এবার ক্যাম্প ন্যু-তে

17 August, 2026 2:06 PM Sumantra Mukherjee
শেয়ার করুন

বার্সেলোনা: শেষ মুহূর্তে নাটকীয় মোড়।

যে ফুটবলারকে ঘিরে এত দিন রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার মধ্যে টানাপড়েন চলছিল, শেষ পর্যন্ত তাঁকেই ছিনিয়ে নিল কাতালান ক্লাব। ম্যানচেস্টার সিটির স্প্যানিশ মিডফিল্ডার রদ্রি হার্নান্দেজকে দলে নেওয়ার ব্যাপারে ইংল্যান্ডের ক্লাবটির সঙ্গে নীতিগত সমঝোতায় পৌঁছে গিয়েছে বার্সেলোনা। ৬০ মিলিয়ন ইউরো নিশ্চিত ট্রান্সফার ফি-র পাশাপাশি পারফরম্যান্স-ভিত্তিক বোনাস রয়েছে। সব মিলিয়ে চুক্তির অঙ্ক প্রায় ৭৬.৫ মিলিয়ন ইউরো পর্যন্ত যেতে পারে।

৩০ বছরের রদ্রির সঙ্গে চার বছরের চুক্তি করতে চলেছে বার্সেলোনা। এখন বাকি রয়েছে কাগজপত্রের আদানপ্রদান, মেডিক্যাল পরীক্ষা এবং চুক্তিতে সই। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই স্পেনের পথে রওনা দেবেন তিনি। অর্থাৎ, সাত বছর ম্যানচেস্টার সিটিতে কাটানোর পর আবার লা লিগায় ফিরতে চলেছেন ২০২৪ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী তারকা।

রদ্রিকে নিয়ে এই দলবদল-নাটকের শুরুটা অবশ্য বার্সেলোনার হাত ধরে হয়নি। দীর্ঘদিন ধরেই স্পেনের জাতীয় দলের অধিনায়ককে পাওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী ছিল রিয়াল মাদ্রিদ। কিন্তু মাদ্রিদের সঙ্গে আলোচনা যখন খুব একটা এগোচ্ছিল না, তখনই পরিস্থিতির সুযোগ নেয় বার্সেলোনা। অগস্টের শুরুতে রদ্রির সঙ্গে আলোচনায় ঢোকে কাতালান ক্লাব। এরপর একের পর এক প্রস্তাব দিয়ে শেষ পর্যন্ত সিটির দরজা খুলতে সক্ষম হয় তারা।

বার্সেলোনার এই তৎপরতার পিছনে শুধুই রিয়ালকে টেক্কা দেওয়ার মানসিকতা ছিল না। মাঝমাঠে রদ্রির মতো একজন ফুটবলারকে পাওয়া তাদের কাছে ছিল কৌশলগত প্রয়োজনও। ফ্রেঙ্কি দে ইয়ংয়ের চোটে মাঝমাঠে বড় ধাক্কা খেয়েছে বার্সা। সেই জায়গায় রদ্রির উপস্থিতি দলকে একসঙ্গে অভিজ্ঞতা, শারীরিক শক্তি, বল দখলের ক্ষমতা এবং ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের দক্ষতা দেবে। পেদ্রি, গাভি, দানি ওলমোদের পাশে রদ্রি থাকলে বার্সেলোনার মাঝমাঠ যে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে, তা বলাই যায়।

আর রদ্রির পরিচয় শুধুই একজন তারকা মিডফিল্ডারের নয়। ম্যানচেস্টার সিটির জার্সিতে গত সাত বছরে তিনি ক্লাবটির অন্যতম স্তম্ভ হয়ে উঠেছিলেন। ২০১৯ সালে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ থেকে সিটিতে যোগ দেওয়ার পর ২৯৮টি ম্যাচ খেলেছেন। জিতেছেন ১২টি বড় ট্রফি—চারটি প্রিমিয়ার লিগ, দুটি এফএ কাপ, তিনটি লিগ কাপ এবং একটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ-সহ একাধিক শিরোপা। ২০২৩ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে তাঁর করা গোলেই ট্রফি জিতেছিল সিটি।

ব্যক্তিগত সাফল্যের মুকুটে সবচেয়ে উজ্জ্বল পালক অবশ্য ২০২৪ সালের ব্যালন ডি’অর। বিশ্বের সেরা ফুটবলারের পুরস্কার জিতে রদ্রি প্রমাণ করেছিলেন, একজন রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডারও ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারেন। স্পেনের হয়ে বিশ্বমঞ্চেও তাঁর গুরুত্ব কম নয়। ফলে তাঁকে হারানো সিটির কাছে নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা।

বিশেষ করে আরও একটি কারণে। সিটির সঙ্গে রদ্রির বর্তমান চুক্তির আর মাত্র এক বছর বাকি ছিল। ফলে তাঁকে ধরে রাখার চেষ্টা করলেও চুক্তি নবীকরণের ব্যাপারে সাফল্য পায়নি ক্লাব। শেষ পর্যন্ত চুক্তির শেষ বছরে তাঁকে ছেড়ে দিয়ে বড় অঙ্কের অর্থ তুলে নেওয়ার পথই বেছে নিল সিটি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বার্সেলোনার শেষ প্রস্তাব গ্রহণ করার পরই দলবদলের রাস্তা পরিষ্কার হয়।

বার্সেলোনার জন্য এই দলবদলের আর একটি আলাদা তাৎপর্য রয়েছে। সরাসরি রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে লড়াই করে এমন একজন ফুটবলারকে দলে নেওয়া, যাঁকে মাদ্রিদও চেয়েছিল—কাতালান সমর্থকদের কাছে এর মূল্য নিছক একটি দলবদলের অঙ্কে মাপা যাবে না। আর রদ্রির ক্ষেত্রে বার্সেলোনা পাচ্ছে এমন একজন ফুটবলারকে, যিনি শুধু তারকা নন, বড় ম্যাচের চাপ সামলানোয় অভ্যস্ত, নেতৃত্ব দিতে পারেন এবং মাঝমাঠ থেকে গোটা দলকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।

সিটির নীল জার্সিতে রদ্রির সাত বছরের অধ্যায় শেষ হওয়ার পথে। এবার সামনে বার্সেলোনার নীল-লাল জার্সি। রিয়ালের দরজা এড়িয়ে ক্যাম্প ন্যু-কে বেছে নেওয়া রদ্রির এই সিদ্ধান্ত তাই একই সঙ্গে বার্সেলোনার বড় সাফল্য এবং ম্যানচেস্টার সিটির জন্য বড় ক্ষতি।

প্রতিবেদন

Sumantra Mukherjee