নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী: ইসলামপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিক্ষোভ
সংবাদদাতা, ইসলামপুর: সরকারি অর্থে তৈরি হচ্ছে স্বাস্থ্যকেন্দ্র। অথচ সেই গুরুত্বপূর্ণ ভবনের নির্মাণেই দেদার ব্যবহার হচ্ছে নিম্নমানের রড, বালি, পাথর, সিমেন্ট। এই অভিযোগে চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য ছড়াল উত্তর দিনাজপুর জেলার ইসলামপুর ব্লকের বলঞ্চা এলাকায়। কাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে বৃহস্পতিবার একজোট হয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সঙ্গে নির্মাণস্থলে বিক্ষোভ দেখান তারা। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনে যদি শুরু থেকেই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়, তবে ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপদের সম্ভাবনা থেকে যায়। বাসিন্দাদের অভিযোগ, কাজের ক্ষেত্রে ন্যূনতম সরকারি নিয়মকানুন মানা হচ্ছে না। নির্মাণস্থলে কোনও তথ্যফলক টাঙানো হয়নি। কত টাকার প্রকল্প, কী ধরণের নির্মাণকাজ হচ্ছে, ঠিকাদার সংস্থার নাম কী কিংবা সরকার নির্ধারিত কাজের সিডিউল কী— এই সংক্রান্ত কোনও তথ্যই সাধারণ মানুষের সামনে আনা হয়নি। ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়েই একটি ঘোলাটে ও অস্বচ্ছ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের বিষয়টি প্রথম নয়। এর আগেও যখন প্রথম তলের কাজ শুরু হয়, তখনও সামগ্রীর মান দেখে ঠিকাদার ও কর্মীদের কাছে প্রশ্ন তুলেছিলেন তারা। কিন্তু অভিযোগে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলায় উল্টে তাঁদের বিরুদ্ধেই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিল ঠিকাদার সংস্থা। বৃহস্পতিবার সকালে কোনও আলোচনা ছাড়াই যখন দ্বিতল ভবনের কাজ শুরু হয়, তখনই বিক্ষোভ শুরু হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা একজোট হয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। খবর পেয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। গ্রামবাসীরা জানান, প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিক বা ইঞ্জিনিয়াররা নির্মাণস্থলে এসে সামগ্রীর মান পরীক্ষা না করা পর্যন্ত কাজ এগোতে দেওয়া হবে না। দায় এড়িয়ে ঠিকাদার সংস্থা জানিয়েছে, ওপরতলা থেকে যেভাবে কাজ করতে বলা হয়েছে, ঠিক সেভাবেই কাজ চালছে। তবে গ্রামবাসীরা এসে বাধা দেওয়ায় আপাতত কাজ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বলঞ্চা এলাকায় তীব্র অসন্তোষ ও উত্তেজনা ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সরকারি তহবিলের বিপুল অর্থ কোনওভাবেই অসাধু উপায়ে অপচয় হতে দেওয়া যাবে না। অবহেলা করে তৈরি এই ভবন ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষ ও রোগীদের জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে। অবিলম্বে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দিতে হবে এবং কাজের সঠিক গুণগত মান নিশ্চিত করে তবেই ফের কাজ শুরু করতে হবে।
