বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
টাইগার শ্রফের উপর হামলায় ধৃত আরও ৪ আজ বিজয়া দশমী, ঘাটে ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন ভারতের সঙ্গে চুক্তি অন্যরকম, জানালেন ট্রাম্প দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

ভূমি দপ্তরের কর্মী ও টুলু মণ্ডলের ঘনিষ্ঠকে ৫ দিনের পুলিশ হেফাজত

24 September, 2026 6:58 PM Lopa Bhowmik
শেয়ার করুন

 সংবাদদাতা, সিউড়ি: বীরভূমে পাথর খাদানের সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগে ভূমি দপ্তরের কর্মী বিশ্বজিৎ সাহা এবং পাথর ব্যবসায়ী কাজি নুরুল ইসলাম ওরফে টুলু মণ্ডলের কর্মচারী কাউসার আলিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার তাদের সিউড়ি এসিজেএম আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁদের ৫ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। পুলিশ সূত্রের খবর, গ্রেপ্তার হওয়া ভূমি সংস্কার দপ্তরের কর্মী বিশ্বজিৎ সাহা পাথর ব্যবসা করেও রাজস্ব আদায়ের মূল ডিসিআর বই ডিস্ট্রিবিউশনের দায়িত্বে ছিলেন। তৎকালীন কয়েকজন উচ্চপদস্থ আধিকারিকের নির্দেশে বিশ্বজিৎ ডিসিআর বই সরকারি দপ্তরের বাইরে এনে তুলে দিতেন টুলু মণ্ডলের কর্মচারীদের হাতে। এরপর সরকারি ডিসিআর বইয়ের একই নম্বর ব্যবহার করে হুবহু নকল ও ভুয়ো বই ছাপানো হতো। সেই ভুয়ো চালানের মাধ্যমেই দিনের পর দিন পাথরবাহী লরি থেকে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আত্মসাৎ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, কাউসার আলি ছিল টুলু মণ্ডলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং সে একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও আর্থিক লেনদেন দেখভাল করত। তাকে গ্রেপ্তারের পর তার কাছ থেকে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চেকবুক এবং নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। বিশ্বজিৎ সাহাকে ইতিপূর্বে অন্তত পাঁচবার থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল পুলিশ। একইভাবে কাউসার আলিকেও একাধিকবার থানায় তলব করা হয়। জবাবে একাধিক অসঙ্গতি মেলায় পুলিশ তাঁদের হেফাজতে নেয়। সিউড়ি আদালতে শুনানি চলাকালীন সরকারি আইনজীবী আব্দুল করিম তেলগির উদাহরণ টেনে বলেন, এটি একটি সুপরিকল্পিত এবং সংগঠিত আর্থিক অপরাধ। সরকারি খাতের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব বেআইনিভাবে ভুয়ো চালান ছাপিয়ে লুট করা হয়েছে। অন্যদিকের আইনজীবীরা পুলিশের এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেন। আদালতে বিশ্বজিৎ ও কাউসারের আইনজীবীরা দাবি করেন, পুলিশ মূল অভিযুক্ত ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আড়াল করতে নিচু তলার কর্মীদের বলির পাঁঠা বানাচ্ছে। তাঁদের বক্তব্য, পুলিশ কেবল চুনোপুঁটিদের গ্রেপ্তার করছে। তৎকালীন বিএলআরও, জেলাশাসক, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী এবং প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের সম্পূর্ণ ছাড় দেওয়া হচ্ছে। অপরাধীদের আইনজীবীরা জামিনের আবেদন জানালেও বিচারক অপরাধের গভীরতা বিবেচনা করে তা নাকচ করেন এবং ৫ দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এই ভুয়ো ডিসিআর চক্রের জাল কতদূর বিস্তৃত এবং এর পেছনে তৎকালীন আর কোন কোন আধিকারিক জড়িত ছিলেন, তা খতিয়ে দেখতেই তদন্ত চালানো হচ্ছে।

প্রতিবেদন

Lopa Bhowmik