বকেয়া ভাতার দাবিতে শিলিগুড়িতে বিক্ষোভ মিড ডে মিল কর্মীদের
সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে বকেয়া না পাওয়ার অভিযোগে উত্তপ্ত শিলিগুড়ি পুরনিগম চত্বর। বুধবার সকালে শিলিগুড়ির একাধিক প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিড-ডে মিল সহায়িকা ও রঁধুনিরা বকেয়া ভাতার দাবিতে পুরনিগমের সামনে বিক্ষোভ দেখান। তাঁরা নিজেদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও দাবির একটি লিখিত স্মারকলিপি পুরকর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেন।
কর্মীদের অভিযোগ, গত পাঁচ মাস ধরে তাঁরা সরকারের নির্ধারিত পূর্ণাঙ্গ ভাতা পাচ্ছেন না। বর্তমানে তাঁদের প্রাপ্য ভাতার মাত্র চার ভাগের এক ভাগ অর্থাৎ এক-চতুর্থাংশ অর্থ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা পড়ছে। সহায়িকাদের একাংশের মতে, বর্তমান অগ্নিমূল্যের বাজারে এই সামান্য অর্থ দিয়ে সংসার চালানো তো দূরের কথা, দৈনন্দিন ন্যূনতম চিকিৎসা ও বাসস্থানের খরচ মেটানোও অসম্ভব। বিক্ষোভে শামিল এক সহায়িকা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা প্রতিদিন নিয়ম করে স্কুলে গিয়ে রান্না করি। কিন্তু মাসের শেষে প্রাপ্য টাকাটুকু পাই না। পাঁচ মাস ধরে যে সামান্য টাকা দেওয়া হচ্ছে, তাতে আমাদের পরিবার পরিজন নিয়ে অনাহারে দিন কাটাতে হচ্ছে। কর্মীদের আরও অভিযোগ, রাজ্যে সরকার বা প্রশাসনিক পরিবর্তনের পর একাধিক সময়ে তাঁদের দিয়ে অতিরিক্ত কাজ করানো হয়েছে। প্রশাসনিক নির্দেশ মেনে তাঁরা সেই সমস্ত কাজ দায়িত্বের সঙ্গেই করেছেন। কিন্তু সেই অতিরিক্ত খাটুনির পারিশ্রমিক তাঁদের হাতে পৌঁছায়নি। বকেয়া অর্থের পরিমাণ দিনে দিনে বাড়তে থাকায় সহায়িকাদের মধ্যে হতাশা ও অসন্তোষ ছড়িয়েছে।
পুরকর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত দাবিতে ছিল, গত পাঁচ মাসের বকেয়া সমস্ত সাম্মানিক ভাতা অবিলম্বে এককালীন মেটাতে হবে। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী সংশোধিত ও নতুন হারের সাম্মানিক ভাতা প্রতি মাসের নির্দিষ্ট সময়ে দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে। আগে করানো অতিরিক্ত কাজের সমস্ত বকেয়া পারিশ্রমিক দ্রুত মিটিয়ে দিতে হবে। পুরনিগমের আধিকারিকরা কর্মীদের স্মারকলিপি গ্রহণ করেন এবং বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন। উচ্চতর কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষা দপ্তরের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। তবে কর্মীরা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, দ্রুত এই বকেয়া অর্থ না মিললে আগামী দিনে তাঁরা আরও বৃহত্তর ও তীব্র আন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হবেন।
