বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
টাইগার শ্রফের উপর হামলায় ধৃত আরও ৪ আজ বিজয়া দশমী, ঘাটে ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন ভারতের সঙ্গে চুক্তি অন্যরকম, জানালেন ট্রাম্প দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বাড়ছে অস্বস্তি? সরব বিরোধীরা, পাল্টা জবাব বিজেপির

23 September, 2026 6:04 PM Sandipan Saha
শেয়ার করুন

সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: নির্বাচন কমিশনের অন্দরে মতপার্থক্যের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশি গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও প্রক্রিয়া নিয়ে লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁদের আপত্তির মধ্যে ছিল নতুন ভোটার সংযোজন, ভোটার তালিকা সংশোধন এবং তথ্য ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়।

এই রিপোর্ট সামনে আসার পরই প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করেন বিরোধী নেতারা। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, ভোটার তালিকা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর এবং তাঁর ভাষায় ‘ভোট চুরি’ দেশের মানুষের বিরুদ্ধে অপরাধ ও সংবিধানের উপর আঘাত। তিনি নির্বাচন কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তাদের উদ্দেশে কড়া বার্তাও দেন।

কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও বিষয়টিকে গণতন্ত্রের পক্ষে গুরুতর বলে মন্তব্য করেছেন। SIR এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কংগ্রেসের আক্রমণ আরও তীব্র হয়েছে।

সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবের বক্তব্য, ১০ মাসে ১৪ বার কমিশনের দুই সদস্যের আপত্তি জানানোর ঘটনা নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে। তিনি দাবি করেছেন, ভবিষ্যতের নির্বাচন জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন কমিশনের অধীনে না করার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। তাঁর অভিযোগ, উত্তরপ্রদেশে ভোটার তালিকা নিয়ে যে মডেল দেখা গিয়েছিল, তার প্রভাব বিহার ও পশ্চিমবঙ্গেও দেখা গেছে।

অন্যদিকে বিরোধীদের অভিযোগের পাল্টা জবাব দিয়েছে বিজেপি। দলের সাংসদ সম্বিত পাত্র নির্বাচন কমিশনের পাশে দাঁড়িয়ে বলেছেন, তিন নির্বাচন কমিশনারের মধ্যে ১৪ বার মতবিনিময় হওয়াই প্রমাণ করে যে কমিশনের ভিতরে আলোচনা ও পরামর্শের প্রক্রিয়া ছিল। তাঁর বক্তব্য, মতপার্থক্য বা পরামর্শ দেওয়া গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ারই অংশ।

নির্বাচন কমিশনও জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ নোট, পরামর্শ এবং বিভিন্ন মতামত অত্যন্ত স্বাভাবিক ঘটনা। কমিশনের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলি শেষ পর্যন্ত সর্বসম্মতভাবেই নেওয়া হয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে এখন দু’টি রাজ্য বিহার এবং পশ্চিমবঙ্গ। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR ঘিরে দুই রাজ্যেই আগে থেকেই রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে SIR-এর সময় বাদ পড়া ২৭.১৬ লক্ষ ভোটারের মধ্যে ২২ লক্ষেরও বেশি পুনরায় অন্তর্ভুক্তির আবেদন করেছেন বলে নির্বাচন কমিশন সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছে।

ফলে প্রশ্ন উঠছে, নির্বাচন কমিশনের অন্দরের এই মতপার্থক্য কি শুধুই প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ, নাকি এর সঙ্গে ভোটার তালিকা ও নির্বাচন পরিচালনা নিয়ে আরও বড় কোনও প্রশ্ন জড়িয়ে রয়েছে? রাজনৈতিক দলগুলির অভিযোগ ও কমিশনের বক্তব্য— দুই দিকই এখন জাতীয় রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রে।

 

প্রতিবেদন

Sandipan Saha