বন্ধ হয়ে গেল রাজ্যের ৯৩৩টি প্রাথমিক, উচ্চ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল
সংবাদদাতা, কলকাতা: পাকাপাকিভাবে বন্ধ হয়ে গেল ৯৩৩টি প্রাথমিক, উচ্চ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল। সিদ্ধান্ত স্কুল শিক্ষা দপ্তরের। স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন সরকারিভাবে ঘোষণা করলেন, রাজ্যের পড়ুয়া শূন্য ৯৩৩টি স্কুলের অধিকাংশই বন্ধ করে দেওয়া হবে। বন্ধ স্কুলের বাড়ি এবং স্কুলের সম্পত্তিকে বিকল্প কাজে ব্যবহারের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি কমিটি গড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল কিছুদিন আগেই। এরপরই জেলাশাসকের নেতৃত্বে প্রতিটি জেলায় আলাদা করে কমিটি গড়া হয়েছে। রাজ্য সরকার জানিয়েছে, ৩০ দিনের মধ্যে কমিটিকে যথাযথ রিপোর্ট সরকারের কাছে পেশ করতে হবে।
একটি ভিডিও বার্তায় স্কুলশিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘রাজ্যে এমন ৯৩৩ টি প্রাথমিক, উচ্চ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল আছে, যেগুলিতে বিগত ২০ বছর থেকে শুরু করে গত ৫ বছর পর্যন্ত কোনও পড়ুয়া ভর্তি হয়নি। সেই স্তুলগুলি পড়ুয়ার অভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেই বিদ্যালগুলোর যে সম্পত্তি রয়েছে, সেই সম্পত্তিগুলো অনেক ক্ষেত্রেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সেখানে বিল্ডিং আছে, জমি আছে, মাঠ আছে। এই বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার জন্য একটি কমিটি তৈরি করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে চিন্তাভাবনা করে দেখা হচ্ছে যে, সেগুলি ইন্টার ডিপার্টমেন্টাল এক্সচেঞ্জ করা যায় কিনা। অর্থাৎ আমরা সরকারকে সেগুলি দিয়ে দেব। সরকার যেরকম ভাল বুঝবে সেই ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবে। স্কুলগুলি এখন শিক্ষা দপ্তরের হাতে আছে। এই বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্যই বলা হয়েছে কমিটিকে।’
দীপক বর্মনের এই ঘোষণার শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্যজুড়ে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন বিরোধীরা। মমতা তৃণমূল শিবিরের বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘’ছাত্রছাত্রী কমে যাওয়াটা কয়েক দশকের সমস্যা। ইংলিশ তুলে দেওয়া, কম্পিউটার ব্যবস্থা যথাযথভাবে না করা ইত্যাদির ফলে বেশ কিছু পরিবার বাস্তব বুঝে প্রাইভেট ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে চলে গিয়েছিল। ফলে, সরকারি পরিকাঠামোটা আটের দশক থেকেই ধুঁকতে ধুঁকতে এগিয়েছে। যারা সেই সময় সরকারি স্কুলে পড়েছেন, তাঁদের ছেলে-মেয়েদের আর সেই স্কুলে ভর্তি করাননি। তার কারণ, এখন যদি এই চাকরি পেতে হয়, জীবনে দাঁড়াতে হয়, আদবকায়দা শিখতে হয়, ইংলিশটা ভালোভাবে শিখতে হবে। সেগুলোই করেছে প্রাইভেট ইংলিশ মিডিয়াম। যখন বামফ্রন্ট ইংরেজি তুলে দিয়েছিল, কম্পিউটার ঢুকতে দেয়নি, তখনই একটা শ্রেণি তৈরি হয়ে গিয়েছিল। ফলে, তখন থেকেই ভাটার টান শুরু। এটা রাতারাতি হয়নি।’
