ধর্মতলার পর এবার হকার-মুক্ত হচ্ছে পার্ক স্ট্রিটও !
কলকাতা: শহরের প্রাণকেন্দ্র থেকে শুরু করে ঐতিহ্যবাহী বাজার— সর্বত্রই বেআইনি দখলদারির বিরুদ্ধে এবার কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করল প্রশাসন। ধর্মতলার পর এবার সম্পূর্ণ হকার-মুক্ত হতে চলেছে কলকাতার অন্যতম অভিজাত এলাকা পার্ক স্ট্রিট। আর সেই সঙ্গেই ল্যান্সডাউন মার্কেটে বেআইনিভাবে জায়গা দখল করে থাকা ব্যবসায়ীদের রীতিমতো কড়া ধমক দিয়ে মাত্র ২ দিনের ‘ডেডলাইন’ বেঁধে দিলেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সব মিলিয়ে, তিলোত্তমার ফুটপাথ দখলমুক্ত করতে এবার যে জিরো-টলারেন্স নীতিতে হাঁটছে প্রশাসন, তা কার্যত স্পষ্ট হয়ে গেল।
সম্প্রতি ল্যান্সডাউন মার্কেটে একাংশ ব্যবসায়ীর ফুটপাথ দখল করে ব্যবসা চালানো নিয়ে চরম ক্ষুব্ধ হন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। রীতিমতো ধমকের সুরে ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “শুধু দোকান কেন, খাট-বিছানাও নিয়ে আসুন!” জবরদখল সরাতে ব্যবসায়ীদের মাত্র দু দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন তিনি। ল্যান্সডাউনের এই চরম হুঁশিয়ারির রেশ কাটতে না কাটতেই পার্ক স্ট্রিট নিয়েও কড়া অবস্থানের কথা ঘোষণা করেন পুরমন্ত্রী। কলকাতা পুরসভার স্পিকার স্মিতা পাণ্ডেকে পাশে বসিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, পার্ক স্ট্রিটের রাস্তা ঢেলে সাজিয়ে তোলা হবে। তাই কোনওভাবেই সেখানকার ফুটপাথ দখল করে রাখা যাবে না।
অগ্নিমিত্রার কথায়, “পার্ক স্ট্রিট হল কলকাতার জানালা। তাই এই জায়গাকে সুন্দর করে সাজাতে হবে। চৌরঙ্গি থেকে সেভেন পয়েন্ট কানেকটর পর্যন্ত রাস্তার দুধারে কোনও হকার বসতে দেওয়া হবে না।” এই এলাকাকে দৃষ্টিনন্দন করতে বিভিন্ন ধরণের লাইট লাগানো হবে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি হকারদের উদ্দেশে তাঁর কড়া বার্তা, তাঁরা যেন অন্য জায়গা বেছে নিয়ে সেখানে বসেন।
পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের এই কড়া পদক্ষেপের নেপথ্যে রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের কড়া নির্দেশই দেখছে ওয়াকিবহাল মহল। গত রবিবার স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ঠিক এই সুরেই কড়া বার্তা দিয়েছিলেন। শমীক স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, “ধর্মতলা হল কলকাতার মুখ। তাই সেখান থেকে হকারদের সরে যেতেই হবে।” শতাব্দীপ্রাচীন ট্যাক্স-প্রদানকারী দোকানগুলোর সামনে প্লাস্টিক খাটিয়ে ফুটপাথ দখলের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন তিনি। এই উচ্ছেদ পর্ব দ্রুত শুরু করতে দুজন পৌরপ্রতিনিধি এবং একজন বিধায়ককে বিশেষ দায়িত্বও দেন শমীক।
রাজ্য সভাপতির সেই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য ছিল, “আগে ধর্মতলা পরিষ্কার করুন, তারপর তো বোঝা যাবে নতুন সরকার এখানে এসেছে। এর জন্য আলাদা করে কোনও নির্দেশের প্রয়োজন নেই, এটাই পার্টির ঘোষিত অবস্থান।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, শমীক ভট্টাচার্যের সেই কড়া বার্তার পরই ল্যান্সডাউন মার্কেট এবং পার্ক স্ট্রিট নিয়ে অগ্নিমিত্রা পালের এই ‘অ্যাকশন মোড’ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ‘কলকাতার মুখ’ ধর্মতলা থেকে শুরু করে ‘কলকাতার জানালা’ পার্ক স্ট্রিট— শহরের সৌন্দর্যায়ন এবং ফুটপাথ দখলমুক্ত করার ইস্যুতে নতুন প্রশাসন যে আর কাউকে রেয়াত করবে না, এই জোড়া পদক্ষেপ তারই চূড়ান্ত ইঙ্গিত।
