ত্রিপুরা সুন্দরী এক্সপ্রেসে আরপিএফ ও জিআরপির যৌথ অভিযান, আটক ৪ রোহিঙ্গা
সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নজরদারি এবং ট্রেনের কামরায় তল্লাশি বাড়িয়েও শেষ রক্ষা হল না। গোপন সূত্রের ভিত্তিতে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে যৌথ অভিযান চালিয়ে চারজন অনুপ্রবেশকারীকে আটক করল আরপিএফ এবং জিআরপি। উদ্ধার হওয়া নথিপত্র এবং প্রাথমিক তদন্ত থেকে পুলিশের অনুমান, ধৃতেরা মূলত মায়ানমারের বাসিন্দা হলেও দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে বাস করছিল। সেখান থেকেই অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকেছিল তারা।
রেল সূত্রে খবর, শুক্রবার রাতে এনজেপি স্টেশনে এসে পৌঁছায় ১৪৬১৯ ত্রিপুরা সুন্দরী এক্সপ্রেস। আগরতলা থেকে পাঞ্জাবের ফিরোজপুর কেন্টের দিকে যাওয়া এই ট্রেনটিতে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। আরপিএফ পোস্টের ইন্সপেক্টর মুকেশ কুমার রাজাকের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল এবং এনজেপি জিআরপি থানার পুলিশ যৌথভাবে ট্রেনের সাধারণ কামরায় অভিযান চালায়। চারজন যাত্রীর চলাফেলা ও কথাবার্তায় অসঙ্গতি ধরা পড়ে। সন্দেহজনক অবস্থায় চারজনকে আটক করে প্রথমে এনজেপি আরপিএফ পোস্টে নিয়ে আসা হয়। সেখানে জেরার পর তাঁদের পরিচয় স্পষ্ট হয়। আরপিএফ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম মোহাম্মদ সালাম (২৬) মোহাম্মদ সুফায়েদ (১৮), মোফিজুর রহমান (১৭),জয়নুব বিবি (১৭)। জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীন তাঁদের কাছ থেকে মায়ানমারের ঠিকানার বেশ কিছু নথি ও কাগজপত্র বাজেয়াপ্ত হয়েছে। রেল পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জেরায় ধৃতেরা স্বীকার করেছে যে তারা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের কক্সবাজার সংলগ্ন এলাকার রোহিঙ্গা শিবিরে বাস করছিল। সেখান থেকে সীমান্ত নজরদারি এড়িয়ে দালালদের মাধ্যমে অবৈধ উপায়ে ভারতে প্রবেশ করে। এরপর কাজের খোঁজে কিংবা স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য ট্রেনে চেপে পাঞ্জাবের দিকে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের।
তদন্তকারীদের একাংশের মতে, এই অনুপ্রবেশের পেছনে বড় কোনও আন্তর্জাতিক পাচারচক্র বা অনুপ্রবেশকারী দলের সক্রিয় হাত থাকতে পারে। ধৃতদের কাছে কীভাবে ট্রেনের টিকিট এল, ভারতে তাঁদের গন্তব্যে পৌঁছনোর জন্য কারা সাহায্য করছিল এবং সীমান্ত পার হতে কারা তাদের সাহায্য করেছে—এই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
প্রাথমিক পর্বের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আরপিএফ ধৃত চারজনকেই এনজেপি জিআরপির হাতে তুলে দিয়েছে। জিআরপি পুলিশ নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে তাঁদের আদালতে পেশ করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সীমান্তবর্তী এলাকা এবং উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ এই রেল স্টেশনকে রুট হিসেবে ব্যবহার করে কীভাবে বেআইনি পারাপার চলছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এনজেপি স্টেশন ও আশপাশের এলাকায় চাঞ্চল্যের ছড়িয়েছে। স্টেশন জুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
