বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
রবীন্দ্র সরোবরে সাঁতার শিখতে গিয়ে মৃত্য়ু শিক্ষার্থীর ফারাক্কায় দ্রুত গতিতে চলছে লাইন মেরামতির কাজ মালদা মেডিকেলে শিশুমৃত্য়ুর জের, সাসপেন্ড সুপার এবার রাজ্য়ের মডেল স্কুল প্রকল্পে সিএম শ্রী ইন্সটিউট, ঘোষণা মুখ্য়মন্ত্রীর

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস বাংলাদেশের

16 August, 2026 2:12 PM Sumantra Mukherjee
শেয়ার করুন

ডারউইন : অস্ট্রেলিয়ার দুর্গে এ বার বাংলাদেশের পতাকা।

ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোই যেখানে অধিকাংশ দলের কাছে কঠিন পরীক্ষা, সেখানে মিচেল মার্শদের ধরাশায়ী করে দুই ম্যাচের সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৯ উইকেটে হারিয়ে, ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বেঙ্গল টাইগাররা। আর তার থেকেও বড় কথা, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দৌড়ে হঠাৎই নিজেদের অনেকটা এগিয়ে নিয়ে গেলেন নাজমুল হোসেন শান্তরা।

এই জয়কে তাই শুধুই একটি টেস্টের জয় বলে দেখলে ভুল হবে। বাংলাদেশের ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে এই দাপুটে জয় যেন একটা বদলের মুহূর্ত। অধিনায়ক শান্ত নিজেও সেটাই মনে করছেন। ম্যাচের পর তিনি জানিয়েছেন, “এটা বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে সব ফরম্যাট মিলিয়ে সবচেয়ে বড় জয়।”

কিন্তু এই জয় এল কীভাবে ?

উত্তরটা লুকিয়ে রয়েছে বাংলাদেশের বোলিং এবং ব্যাটিং—দুই বিভাগেই। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পিছনে ছিল হাসান মাহমুদের ৬ উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসের পর সেই সংখ্যাটা পৌঁছে যায় নয়ে। ট্রাভিস হেড, মার্নাস লাবুশানে, স্টিভ স্মিথ সমৃদ্ধ অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইন-আপকে তাঁদেরই ঘরের মাঠে কার্যত নিঃশ্বাস নেওয়ার সুযোগই দিলেন না বাংলাদেশের পেসার।

তার পর ব্যাট হাতে কাজটা আরও নিখুঁত করে দেন তানজিদ হাসান। দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নেমেই ১০১ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেন ২৫ বছরের বাঁ-হাতি ওপেনার। তাঁকে যথাযথ সঙ্গত দেয় অধিনায়ক শান্তর ৮৪ এবং মেহদি হাসান মিরাজের ৬৫। ৪২৬ রান তুলে অস্ট্রেলিয়ার উপর ২২৮ রানের বিশাল চাপ তৈরি করে বাংলাদেশ। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তখনই কার্যত হাতবদল হয়ে গিয়েছিল। তানজিদের ইনিংস নিয়ে আলাদা করে প্রশংসা করেছেন শান্ত। তিনি জানিয়েছেন, “ও সাধারণত সাদা বলের ক্রিকেটে আক্রমণাত্মক মানসিকতায় খেলে। কিন্তু এখানে ও দারুণ খেলেছে। শান্ত থেকেছে এবং বলের গুণ বিচার করে খেলেছে।”

অস্ট্রেলিয়া অবশ্য দ্বিতীয় ইনিংসে লড়াইয়ের চেষ্টা করেছিল। ক্যামেরন গ্রিনের ১০৪ রান সেই লড়াইয়ের সবচেয়ে উজ্জ্বল অংশ। কিন্তু বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের সামনে বাকিদের প্রতিরোধ বেশিক্ষণ টেকেনি। মিরাজ পাঁচ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ২৮৪ রানে থামিয়ে দেন। বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭। এক উইকেট হারিয়েই সেই রান অনায়াসে তুলে নেয় বেঙ্গল টাইগাররা। এই ম্যাচে তাই শুধু হাসানের ৯ উইকেট বা তানজিদের সেঞ্চুরি নয়, বাংলাদেশের ক্রিকেটের বদলে যাওয়া ছবিটাই সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ছে। বিশেষ করে পেস বোলিংয়ে। শান্ত জানিয়েছেন, বছর পাঁচ-ছয় আগেও বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে টেস্ট ক্রিকেট খেলার আগ্রহ তেমন ছিল না।

সুযোগও ছিল সীমিত। গত দুই-তিন বছরে লাল বলের ক্রিকেটে বেশি গুরুত্ব দেওয়াতেই পরিস্থিতি বদলেছে। এখন দলের পেসারদের লক্ষ্য শুধু জাতীয় দলে জায়গা পাওয়া নয়, বিশ্বমানের হয়ে ওঠা। এই মানসিকতার পিছনে মুশফিকুর রহিম এবং মুমিনুল হকের মতো সিনিয়র ক্রিকেটারদেরও কৃতিত্ব দিয়েছেন শান্ত। তাঁর মতে, দলের মধ্যে টেস্ট ক্রিকেটকে ঘিরে যে ক্ষুধা তৈরি হয়েছে, ডারউইনের জয় তারই ফল।
আর এই জয় শুধু অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস বাড়াচ্ছে না। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের হিসাবেও এর গুরুত্ব বিরাট। পাঁচ টেস্টে তিন জয়, এক হার ও এক ড্র—৬৬.৬৭ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ এখন চার নম্বরে। অর্থাৎ ফাইনালের দৌড়ে হঠাৎ করেই তারা আর দূরের দল নয়।

অস্ট্রেলিয়ার ছবিটা ঠিক উল্টো। অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের গলায় কোনও অজুহাত নেই। তিনি জানিয়েছেন, ম্যাচের প্রথম দিনেই অস্ট্রেলিয়া অনেকটা পিছিয়ে পড়েছিল। কামিন্সের সাফ কথা, “কোনও অজুহাত নেই। প্রথম দিনেই আমরা অনেকটা পিছিয়ে গিয়েছিলাম।” বাংলাদেশের প্রশংসা করে তিনি আরও বলেছেন, “ওরা আমাদের চেয়ে ভালো ক্রিকেট খেলেছে।” দ্বিতীয় টেস্টে দলে পরিবর্তন হতে পারে কি না, সে বিষয়েও এখন ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে অস্ট্রেলিয়া। কামিন্স জানিয়েছেন, ম্যাচআপ দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে এখনও কোনও পরিবর্তন চূড়ান্ত হয়নি।

বাংলাদেশ অবশ্য এখন থামতে চাইবে না। ২২ অগস্ট ম্যাকে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার দুর্গে প্রথম ফাটল ধরেছে। ম্যাকে সেই ফাটল আরও চওড়া করে ইতিহাসের আরেকটি পাতা খুলতে পারে বাংলাদেশ। কারণ এ বার তাদের সামনে শুধু ম্যাচ জেতার সুযোগ নয়—অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম বার টেস্ট সিরিজ জয়ের হাতছানি।

প্রতিবেদন

Sumantra Mukherjee