১৭ নয়, কেন ১৮ সেপ্টেম্বর বিশ্বকর্মা পুজো?
প্রবীর আচার্য
প্রতি বছরই ১৭ সেপ্টেম্বর হয় বিশ্বকর্মা পুজো। প্রতিবছরই একই সময়ে, একই দিনে আরাধনা করা হয় যন্ত্রের দেবতা বিশ্বকর্মার। আসলে এই দিনটির জন্য পঞ্জিকায় নির্দিষ্ট করে দেওয়া কোনও ইংরেজি তারিখ নেই। মূলত ভাদ্র মাসের সংক্রান্তিকেই এই পুজোর দিন হিসেবে ধরা হয়। সূর্যের অবস্থানের ওপর নির্ভর করে ঠিক করা হয় সংক্রান্তির দিনটি। সূর্য যখন সিংহ রাশি পেরিয়ে কন্যা রাশিতে প্রবেশ করে, সেই সময়টাকে বলা হয় কন্যা সংক্রান্তি। এই দিনেই দেবশিল্পী বিশ্বকর্মার আরাধনা করার প্রচলন। কথিত আছে, এই দিনে দেবতারা নিদ্রা থেকে জেগে ওঠেন এবং শুরু হয় বিশ্বকর্মা পুজোর আয়োজন।
কিন্তু এই বছরই রীতিতে ছেদ। বিশ্বকর্মা পুজো ১৭ নয়, এবার ১৮ সেপ্টেম্বর। কিন্তু কেন এই উলটপুরাণ? আসলে বিশ্বকর্মার পুজোর দিন ভাদ্র মাসের শেষ তারিখে নির্ধারিত। এই ভাদ্র সংক্রান্তির আগে পঞ্জিকায় পাঁচটি মাসের উল্লেখ মেলে। এই পাঁচটি মাসের দিন সংখ্যা ১৫৬। এই নিয়মে বাংলা পঞ্জিকা মেনে বিশ্বকর্মা পুজোর যে তারিখটি সামনে আসে, তা হল ইংরেজি ক্যালেন্ডারের ১৭ সেপ্টেম্বর। কিন্তু এই পাঁচমাসের মধ্যে কোনও মাসের একটি দিন যদি বেশি বা কম হয় তখন তার ছাপ পড়ে বিশ্বকর্মা পুজোয়। মানে পাঁচ মাসের মধ্যে কোনওটা যদি ২৯ বা ৩২ দিনের হয়, তখনই বিশ্বকর্মা পুজো এক দিন পিছিয়ে বা এগিয়ে যায়। এই বছর এই কারণেই একদিন পিছিয়ে গিয়েছে বিশ্বকর্মা পুজো। ১৭ সেপ্টেম্বর সূর্য প্রবেশ করেছে কন্যা রাশিতে। তবে বাংলা মাসের তারিখের হিসেব মেনে একদিন পিছিয়ে ১৮ সেপ্টেম্বর হবে বিশ্বকর্মা পুজো।
বিশ্বকর্মা পুজোর সময়
অমৃতযোগ সকাল ৭টা ৩ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে মধ্যে, পুনরায় ৭টা ৫২ মিনিট ৮ সেকেন্ড গতে ১০টা ১৮ মিনিটের মধ্যে। ফের আবার দুপুর ১২টা ৪৩ মিনিট ৬ সেকেন্ড গতে ২টো ২১ মিনিট ৬ সেকেন্ডের মধ্যে, বা ৩টে ৫৯ মিনিট ১৪ সেকেন্ড গতে ৫টা ৩৫ মিনিট ২৯ সেকেন্ডের মধ্যে, অথবা সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিট ১৪ সেকেন্ড গতে ৮টা ৪৭ মিনিট ১০ সেকেন্ডের মধ্যে পুজো করতে হবে। মাহেন্দ্রযোগ থাকবে রাত ১০টা ২২ মিনিট ৫২ সেকেন্ড গতে ১১টা ৫ মিনিট ১৪ সেকেন্ডের মধ্যে, পুনরায় রাত ৩টে ৫১ মিনিট ৩০ সেকেন্ড গতে ৫টা ২৬ মিনিট ২৮ সেকেন্ড পর্যন্ত।
