শচীন-সৌরভ-দ্রাবিড়ের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগান, বিসিসিআইকে পরামর্শ গাভাসকরের
সংবাদদাতা, মুম্বই: শচীন তেন্ডুলকর, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এবং রাহুল দ্রাবিড়। ভারতীয় ক্রিকেটের তিন মহাতারকার অভিজ্ঞতাকে বিসিসিআইয়ের আরও বেশি করে ব্যবহার করা প্রয়োজন। একথা বলেছেন ক্রিকেটের আর এক মহাতারকা সুনীল গাভাসকর। তাঁর প্রস্তাব শুধু এই তিনজনকে ঘিরে নয়। তিনি বলেছেন, রবি শাস্ত্রী, অনিল কুম্বলে, হরভজন সিং এবং বীরেন্দ্র সেওয়াগের মতো প্রাক্তন ক্রিকেটারদেরও পরামর্শদাতা হিসাবে যুক্ত করা জরুরি। গাভাসকরের ভাবনার কেন্দ্রে রয়েছে ক্রিকেট অ্যাডভাইজরি কমিটি বা CAC। তাঁর মতে, এই ধরনের কমিটির কাজ শুধু কোচ বা নির্বাচক বাছাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ভারতীয় ক্রিকেটের বৃহত্তর নীতি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় প্রাক্তন ক্রিকেটারদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতে পারে।
কেন শচীন-সৌরভ-দ্রাবিড়?
তিনজনের অভিজ্ঞতা এক নয়। সচিন দীর্ঘ আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে ভারতীয় ক্রিকেটের পরিবর্তনের বহু পর্যায় দেখেছেন। সৌরভ অধিনায়ক হিসেবে একটি আগ্রাসী ভারতীয় দলের ভিত গড়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরে বিসিসিআইয়ের প্রশাসনিক দায়িত্বেও ছিলেন। আর দ্রাবিড় খেলোয়াড় হিসেবে দীর্ঘ সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে থাকার পাশাপাশি জাতীয় দলের কোচ হিসেবেও কাজ করেছেন। অর্থাৎ একই টেবিলে বসলে পাওয়া যেতে পারে খেলোয়াড়, অধিনায়ক এবং কোচ, এই তিনটি দৃষ্টিভঙ্গি। গাভাসকরের প্রস্তাবের তাৎপর্য এখানেই।
প্রশাসনে প্রাক্তন তারকা, নাকি পরামর্শদাতা?
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট করা প্রয়োজন। গাভাসকর সরাসরি বিসিসিআইয়ের নির্বাচিত প্রশাসনিক পদে শচীন, সৌরভ বা দ্রাবিড়কে বসানোর কথা বলেননি। বরং তাঁদের ক্রিকেট-অভিজ্ঞতাকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক পরামর্শদাতা কাঠামোর মধ্যে কাজে লাগানোর ভাবনাই সামনে এনেছেন। এখানে প্রশ্ন উঠতেই পারে যে, ভারতীয় ক্রিকেটের সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রাক্তন ক্রিকেটারদের ভূমিকা কতটা হওয়া উচিত? ক্রিকেটের মাঠের অভিজ্ঞতা নিঃসন্দেহে মূল্যবান। কিন্তু প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা, স্বার্থের সংঘাত এড়ানো এবং দায়িত্বের স্পষ্ট বিভাজনও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই গাভাসকরের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে কাঠামোটি কী হবে, সেই প্রশ্নটিই গুরুত্বপূর্ণ।
‘গোল্ডেন জেনারেশন’-এর অভিজ্ঞতা কি কাজে লাগবে?
ভারতীয় ক্রিকেটে এখন প্রতিভার অভাব নেই। কিন্তু ক্রিকেটের পরিকাঠামো, ঘরোয়া ক্রিকেট, সূচি, খেলোয়াড়দের ওয়ার্কলোড, কোচিং এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা— সব ক্ষেত্রেই দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। সেই জায়গায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সর্বোচ্চ স্তরে খেলা প্রাক্তনদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো গেলে তা ক্রিকেট প্রশাসনের জন্য একটি অতিরিক্ত পরামর্শের উৎস হতে পারে। গাভাসকরের মতো এমন অভিজ্ঞ এক ব্যক্তির প্রস্তাবকে BCCI কতটা গুরুত্ব দেয় এখন সেটাই দেখার।
