বর্ষার বিরতি শেষে খুলল ডুয়ার্সের জঙ্গল
সংবাদদাতা, ডুয়ার্স: বর্ষার তিন মাসের দীর্ঘ বিরতি শেষে ফের পর্যটকদের জন্য খুলে গেল উত্তরবঙ্গের সবকটি অভয়ারণ্য ও জাতীয় উদ্যান। বনদপ্তরের পক্ষ থেকে নেওয়া শুরু হয়েছে যাবতীয় প্রস্তুতি। সাফারি রুটের ঝোপঝাড় কাটা, রাস্তাঘাট মেরামত করা থেকে শুরু করে এলাকা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করার কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। নিয়ম মেনে বন্যপ্রাণীদের প্রজননকালের জন্য এতদিন জঙ্গল বন্ধ ছিল। বুধবার থেকে ডুয়ার্স জুড়ে জঙ্গল খোলার সাথে সাথেই নতুন পর্যটন মরশুমের সূচনা হল।
জঙ্গল খুললেও দুর্গাপুজোর আগের এই দিনগুলিতে ডুয়ার্সের হোটেল, লজ, রিসর্ট এবং হোমস্টেগুলিতে আশানুরূপ বা আহামরি বুকিং নেই। তবে পুজোর দিনগুলি থেকে পর্যটনের ছবিটা এক লহমায় বদলে যেতে চলেছে। পুজোর মরশুমে ডুয়ার্স জুড়ে সব ধরণের থাকার জায়গায় বুকিং প্রায় হাউসফুল। হোটেল ও রিসর্ট মালিকদের মতে, পুজোর দিনগুলিতে পর্যটকদের ভিড় তুলনামূলক বেশি।
তবে নতুন মরশুম শুরু হলেও ডুয়ার্সের পর্যটন ব্যবসায়ী ও স্থানীয় অ্যাসোসিয়েশনগুলির দীর্ঘদিনের কিছু ক্ষোভ ও দাবি অপরিবর্তিত রয়ে গেছে। তাঁদের মূল দাবি হল জিপসি সাফারির অনলাইন বুকিং ব্যবস্থা চালু করা। পর্যটন সংস্থাগুলির মতে, জিপসি সাফারির বুকিং ব্যবস্থা যদি সম্পূর্ণ অনলাইনে করা যেত, তবে পুজোর আগে থেকেই পর্যটকদের আরও বড় ঢল নামত ডুয়ার্সে।
চিলাপাতা জিপসি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বিমল রাভা এই বিষয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে জিপসি সাফারির অনলাইন বুকিং চালুর দাবি জানিয়ে আসছেন। তাঁর মতে, এই পরিষেবা চালু থাকলে নতুন পর্যটন মরশুমের শুরুতেই ডুয়ার্স আরও অনেক বেশি পর্যটক পেত। তা সত্ত্বেও আশা না ছেড়ে তারা রাজ্য সরকারের দ্রুত সমর্থনের অপেক্ষায় রয়েছেন। একই সুর ডুয়ার্স ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সম্পাদক দিব্যেন্দু দেবের গলায়। তিনি জানান, পুজোর আগের সময়ে আহামরি বুকিং না থাকলেও, পুজোর দিনগুলিতে ডুয়ার্সে ঠাসা বুকিং থাকে এবং এবারও তার কোনো ব্যতিক্রম ঘটছে না। এদিকে জলদাপাড়ায় একটি বড় সমস্যা রয়ে গেছে সেতু না থাকা ঘিরে। গত বর্ষায় হলং নদীর ওপরের কাঠের সেতুটি ভেসে গিয়েছিল, যা আজও পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। এই সেতু পেরিয়েই পর্যটকদের মাদারিহাটের বিখ্যাত জলদাপাড়া ট্যুরিস্ট লজে যেতে হয়। সেতু না থাকায় বর্তমানে এই লজটির বুকিং পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে, যার ফলে দেশ-বিদেশের পর্যটকরা ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সেখানে উঠতে পারছেন না। এতে রাজ্য পর্যটন দপ্তরের বিপুল রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে। জলদাপাড়া ট্যুরিস্ট লজের ম্যানেজার দেবাশিস সরকার এ বিষয়ে জানান, হলং নদীতে সেতু না থাকায় পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থেই আপাতত বুকিং স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে দ্রুত তা চালু করার প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে।আগামী নভেম্বর মাস থেকে পুনরায় অনলাইন বুকিং চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
উত্তরবঙ্গের মূল তিনটি প্রধান জঙ্গল—গোরুমারা, জলদাপাড়া ও বক্সাতে পর্যটকদের জন্য জিপসি সাফারির ব্যবস্থা রয়েছে। তবে হাতি সাফারির সুযোগ শুধু গোরুমারা ও জলদাপাড়াতেই সীমাবদ্ধ। জলদাপাড়া: এখানে মোট ২৬টি জিপসি সাফারির জন্য বরাদ্দ রয়েছে। এছাড়া হাতি সাফারির জন্য রয়েছে আটটি হাতি। এর মধ্যে হলং রাইডিং পয়েন্টে ছ’টি এবং শালকুমার পয়েন্টে দু’টি হাতি সাফারির কাজে ব্যবহার করা হবে। গোরুমারায় সাফারির জন্য ৭২টি জিপসি গাড়ি থাকলেও হাতি সাফারির জন্য রয়েছে মাত্র দু’টি হাতি। বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে ১৪টি জিপসি সাফারির কাজে নিযুক্ত রয়েছে। চিলাপাতা অঞ্চলে সাফারির জন্য রয়েছে ন’টি জিপসি। বুধবার জঙ্গল খোলার পর থেকেই আগত পর্যটকদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে সব ধরনের প্রশাসনিক প্রস্তুতি নেওয়া প্রায় শেষ। সামগ্রিকভাবে, অনলাইন সাফারির ঘাটতি ও সেতু সমস্যার মধ্যেও ডুয়ার্স এখন পুজোয় পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।
