কালিয়াচকে উদ্ধার পাইপগান, বিহার থেকে কিনে বাংলাদেশে পাচারের ছক! ধৃত ২
সংবাদদাতা, মালদহ: বেআইনি অস্ত্র কারবারের এক বড়ো ছক ভেস্তে দিল মালদহ জেলা পুলিশ। কালিয়াচক থানার গোলাপগঞ্জ ফাঁড়ি এলাকা থেকে ৪টি বেআইনি পাইপগান সহ দুই দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, বিহার থেকে এই আগ্নেয়াস্ত্রগুলি কিনে সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে পাচারের পরিকল্পনা ছিল ধৃতদের। মঙ্গলবার দুপুরে এক প্রেস বিবৃতির মাধ্যমে এই চাঞ্চল্যকর তথ্যের কথা জানান মালদহের জেলা পুলিশ সুপার অনুপম সিং। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে কালিয়াচক থানার গোলাপগঞ্জ ফাঁড়ির অন্তর্গত নলদাহাড়ি এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছিল পুলিশ। সেই সময় ওই এলাকায় একটি বাইকে চেপে দুই যুবক অত্যন্ত সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করছিল। গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করে এবং ওই বাইকটিকে ঘিরে ফেলে দুই যুবককে আটক করে। এরপর তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হলে অসংলগ্ন কথাবার্তায় পুলিশের সন্দেহ আরও তীব্র হয়। নিয়মমাফিক তল্লাশি চালানোর পর তাদের হেফাজত থেকে উদ্ধার হয় মোট চারটি দেশীয় পাইপগান বা ওয়ান শটার। ধৃত দুই যুবকের নাম সুবর্ণ মন্ডল ওরফে বুবাই ,বয়স ২৪ বছর। অপরজন দীপঙ্কর মন্ডল (২৪ )। উভয়েরই বাড়ি কালিয়াচক থানার মিলিক সুলতানপুর এলাকায়। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তাদের গ্রেপ্তার করে এবং অস্ত্রগুলি বাজেয়াপ্ত করে। কালিয়াচক এবং সংলগ্ন সীমান্তবর্তী এলাকাগুলি বরাবরই অবৈধ অস্ত্র পাচারের করিডোর হিসেবে পরিচিত। এই ঘটনায় ধৃতদের জেরা করে পুলিশ জানতে চাইছে যে, অস্ত্রগুলি ঠিক কোথা থেকে আনা হয়েছিল এবং কার কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনা ছিল। মঙ্গলবার জেলা পুলিশ সুপার অনুপম সিং প্রেস বিবৃতিতে জানান, প্রাথমিক তদন্তে আমাদের অনুমান, ধৃতরা প্রতিবেশী রাজ্য বিহার থেকে এই সমস্ত বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহ করেছিল। উদ্দেশ্য ছিল অত্যন্ত সংবেদনশীল আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে এই অস্ত্রগুলি বাংলাদেশে পাচার করা। তবে পুলিশের সময়োপযোগী পদক্ষেপে তাদের সেই ছক সম্পূর্ণ ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে।”
পুলিশ সুপার আরও জানান যে, এই অস্ত্র চোরাচালান চক্রের সঙ্গে অন্য কোনো বড়ো মাথা বা আন্তঃরাজ্য ও আন্তর্জাতিক গ্যাং যুক্ত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে অস্ত্র সরবরাহের মূল উৎসের সন্ধান চালাচ্ছে পুলিশ। মঙ্গলবারই ধৃত দুই দুষ্কৃতীকে কঠোর পুলিশি নিরাপত্তায় মালদহ জেলা আদালতে তোলা হয়। মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে এবং অস্ত্র পাচারের উৎস ও নেটওয়ার্কের শিকড় পর্যন্ত পৌঁছাতে পুলিশ আদালতের কাছে ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে। গোলাপগঞ্জ ফাঁড়ির পুলিশ এবং কালিয়াচক থানার বিশেষ তদন্তকারী দল এই চক্রের বাকি সহযোগীদের ধরতে এখন বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে। মালদার সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে যাতে এ ধরনের চোরাচালান ভবিষ্যতে সম্পূর্ণ প্রতিহত করা যায়।
