মৃতপ্রায় জলঙ্গিকে বাঁচাতে দুচাকায় দিল্লিযাত্রা দুই প্রবীণের
সংবাদদাতা, নদীয়া: একটা রাস্তা ভেঙে গেলে হইচই পড়ে যায়। প্রশাসনের নজর পড়ে, খবর হয়, আবার রাস্তা তৈরি হয়। কিন্তু দিনের পর দিন চোখের সামনে একটা নদী মরে যাচ্ছে—সেদিকে কি কারও নজর আছে?এই প্রশ্ন তুলে জলঙ্গিসহ বিভিন্ন নদীকে বাঁচানোর দাবিতে কৃষ্ণনগর থেকে সাইকেলে দিল্লির পথে পাড়ি দিলেন দুই প্রবীণ। রবিবার সকাল ৮টা নাগাদ কৃষ্ণনগর পোস্ট অফিস মোড় থেকে শুরু হয়েছে তাঁদের যাত্রা। সাইকেলে লেখা—‘সেভ জলঙ্গি’। কাঁচরাপাড়ার তারকচন্দ্র পাল এবং কৃষ্ণনগরের দুলাল বিশ্বাস ওরফে ‘বাঁকা দা’। বয়স তাঁদের কাছে কোনও বাধা নয়। বরং নদী বাঁচানোর বার্তা পৌঁছে দিতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।
তারকচন্দ্রের দাবি, জলঙ্গি ও অঞ্জনা একসময় নদীয়া তথা কৃষ্ণনগরের মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে জড়িয়ে ছিল। কিন্তু ক্রমাগত সরু হতে হতে কোথাও নদী নালার চেহারা নিয়েছে, কোথাও আবার জলধারাটুকুও হারিয়ে গিয়েছে। নদীর পাড়ে বাড়িঘর তৈরি এবং নদী ভরাটের অভিযোগও রয়েছে।
তাঁদের দাবি, জলঙ্গি ও অঞ্জনাকে বাঁচানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতির কথা মনে করিয়ে দিতেই এবার দিল্লির পথে তাঁদের সাইকেলযাত্রা। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে নদী ও পরিবেশ রক্ষার দাবি জানাবেন তাঁরা।শুধু জলঙ্গি বা অঞ্জনা নয়, পথে যে নদীগুলির খারাপ অবস্থা চোখে পড়বে, সেগুলির কথাও দিল্লিতে তুলে ধরবেন তাঁরা। অভিযোগ, বর্ষায় নদীতে সামান্য জল দেখা গেলেও গরমের সময় বহু নদী পরিণত হয় শুধু বালি আর চরে। দুলাল বিশ্বাসের কথায়, নদীকে ধীরে ধীরে মেরে ফেলা হচ্ছে। নদী ভরাট করে জমি তৈরি কিংবা নির্মাণকাজ চললেও তা বন্ধ করতে প্রশাসনের যথেষ্ট তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। তাঁর প্রশ্ন, রাস্তার জন্য যদি এত আওয়াজ ওঠে, তাহলে নদী বাঁচানোর জন্য তা উঠবে না কেন? প্রায় ৮০ বছর বয়সেও তাই থামতে রাজি নন দুলাল। সরকারের বিরুদ্ধে নয়, বরং সরকারকে নদী বাঁচানোর কাজে আরও সক্রিয় করার বার্তা দিতে চান তাঁরা। কৃষ্ণনগর থেকে শুরু হয়েছে সেই বার্তাবাহী সাইকেলযাত্রা। লক্ষ্য একটাই—দিল্লির দরবারে পৌঁছে দেওয়া —‘সেভ জলঙ্গি’ বার্তা।
