মণিপুরে কুকি জনজাতির ৪ জনকে গুলি করে খুন! অভিযোগর তির নাগা দুষ্কৃতিদের দিকে
সংবাদদাতা, ইম্ফল: ফের উত্তপ্ত মণিপুর। এবার দুটি পৃথক ঘটনায় গুলি করে হত্যা করা হল কুকি জনগোষ্ঠীর চার জনকে। গুরুতর আহতদের তালিকায় এক শিশুও রয়েছে। এই ঘটনার দায় স্বীকার করেনি কেউই। একাধিক কুকি সংগঠনের অভিযোগ, নাগা জনজাতির লোকজনই এই জঘন্য ঘটনার পেছনে রয়েছে।
প্রথম ঘটনাটি ঘটে রবিবার ভোরে তামেনলং জেলার টোলেন গ্রামে। এক কুকি দম্পতির ওপর অস্ত্র নিয়ে আচমকাই চড়াও হয় কিছু দুষ্কৃতি। গুলি চালানো হলে ঘটনাস্থলেই মারা যান মহিলা। হাসপাতালে মৃত্যু হয় পুরুষটির। গুলিতে মারাত্মক জখম হয় তাদের শিশুসন্তানও। সে বর্তমানে ভর্তি রয়েছে হাসপাতালে।
পরের ঘটনাটি ঘটে এদিনই বিকেলে। একই জেলার লংপি গ্রামে ফের হামলা চলে কুকি জনজাতির এক পুরুষ ও এক মহিলার ওপর। ঘটনাস্থলেই মারা যান দুজনেই। এদিকে কুকিদের একটি গোষ্ঠী দাবি করেছে, ঘটনার পর থেকে এক কুকি মহিলার কোনও খবর পাওয়া যাচ্ছে না।
২৪ ঘণ্টার মধ্যে এরকম অপরাধমূলক দুটি ঘটনার নিন্দে করে মুখ খুলেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ইয়ুমনান খেমচাঁদ সিং। বলেছেন ‘এই ধরনের কাপুরুষোচিত হামলা মেনে নেওয়া হবে না।’ পুলিশ জানিয়েছে, দোষীদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
মণিপুরে কুকি এবং নাগা জনজাতির মধ্যে এই সংঘর্ষ নতুন কিছু নয়। ১৯৯২ সাল থেকে শুরু হওয়া এই অশান্তিতে এখনও পর্যন্ত হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গেছেন। ২০২৩ –এ মেইতেই ও কুকিদের মধ্যে হওয়া ব্যাপক সংঘর্ষে ২৫০ জনেরও বেশি মানুষ মারা গিয়েছিলেন। এরই ফলে ২০২৫ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং ইস্তফা দেন। তারপরই রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়। গত ফেব্রুয়ারিতে রাষ্ট্রপতি শাসন প্রত্যাহার করা হলে বিজেপির ইয়ুমনাম খেমচাঁদ সিং নতুন সরকার গঠন করেন।
